ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৮ মে ২০২১ ২৪ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ৮ মে ২০২১

প্রণোদনা ও কর সুবিধা চাইলেন অটোমোবাইল খাতের উদ্যোক্তারা
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১, ১০:৫১ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 15

নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারের নীতি-সহায়তা, প্রণোদনা এবং কর সুবিধা চাইলেন অটোমোবাইল খাতের উদ্যোক্তা। ডিসিসিআই আয়োজিত ‘অটোমোবাইল শিল্পের উন্নয়ন : বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে উদ্যোক্তারা এ দাবি জানান। রোববার অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নায়োকি ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। ওয়েবিনারে স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, আমাদের অটোমোবাইল শিল্পে মূলত আমদানিনির্ভর রিকন্ডিশন গাড়ির প্রাধান্যই বেশি, তবে জাপান, চীন ও ভারত থেকে কিছু নতুন গাড়িও আমদানি করা হয়, যার সংখ্যা তেমন উল্লেখযোগ্য নয়। ডিসিসিআই সভাপতি জানান, কোভিড পূর্ববর্তী সময়ে দেশের এ শিল্প খাত প্রতিবছর গড়ে ১৫-২০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলেও বিআরটিএ তথ্যমতে ২০২০ সালে বাংলাদেশে মোটর ভেহিক্যালের নিবন্ধন কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার অভাব, সহায়ক শুল্ক কাঠামো না থাকা, স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত কাঁচামালের যোগান না থাকা, দক্ষ মানবসম্পদ ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের অনুপস্থিতির কারণে আমাদের অটোমোবাইল শিল্পে কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় ১০ বছর মেয়াদি ‘বাংলাদেশ অটোমোবাইল সেক্টর রোডম্যাপ ২০২১-২২’ এবং ‘অটোমোবাইল-ম্যানুফ্যাকচারিং ডেভেলপমেন্ট পলিসি’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা দ্রুততম সময়ের মধ্যে চূড়ান্তকরণ করা একান্ত অপরিহার্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের সুদক্ষ নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ আগামী ২০২৬ সাল স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নত দেশে পরিণত হবে। তিনি জানান, বর্তমানে আমাদের মাথাপিছু গড় আয় প্রায় ২ হাজার ৬৪ মার্কিন ডলার এবং আশা প্রকাশ করেন, সামনের দিনগুলোতে তা আরও বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে দেশের মানুষের মাঝে নিরাপদ যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি আধুনিক সুবিধা সংবলিত যানবাহন ব্যবহারের প্রবণতা বাড়বে, যেটি অটোমোবাইল খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তিনি জানান, এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য একটি সহায়ক নীতিমালার খসড়া প্রস্তুতের কাজ করছে শিল্প মন্ত্রণালয়, যেটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে। পাশাপাশি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে এ খাতের যন্ত্রাংশ উৎপাদনে শিল্প-কারখানা স্থাপনে এগিয়ে আসার জন্য দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান শিল্পমন্ত্রী। অটোমোবাইল খাতের সার্বিক উন্নয়নে গবেষণা কার্যক্রম একান্ত অপরিহার্য উল্লেখ করে বলেন, এ লক্ষ্যে শিল্প ও শিক্ষা খাতের সমন্বয় খুবই জরুরি। সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নায়োকি বলেন, অনেক দেশের শিল্পায়নে অটোমোবাইল খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, বিশেষ করে জাপানে এ খাত দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে অটোমোবাইল শিল্প উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে এবং বাংলাদেশের সেই উদাহরণ অনুসরণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ লক্ষ্যে একটি সমন্বিত নীতিমালা অপরিহার্য বলে তিনি মতপ্রকাশ করেন এবং সেই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি খাত একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের অটোমোবাইল খাতের বিকাশকে ত্বরান্বিত করতে হালকা প্রকৌশল শিল্পকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মিতসুবিশি বাংলাদেশে ‘সিকেডি প্ল্যান্ট’ স্থাপনের আগ্রহ দেখিয়েছে এবং এ বিষয়ক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলমান আছে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইফাদ গ্রুপ অব বাংলাদেশের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকিন আহমেদ। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ অবকাঠামো খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করছে এবং বিশেষ করে পদ্মা সেতু পুরোদমে চালু হলে স্থানীয় পর্যায়ে বাণিজ্যিক যানবাহনের চাহিদা বৃদ্ধির ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিবিআইএন মোটর ভেহিক্যাল অ্যাগ্রিমেন্টের কারণে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক যানবাহনের চাহিদাও বাড়বে। তিনি উল্লেখ করেন, এ খাতে মোট বিনিয়োগ প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা, জিডিপিতে যার অবদান ০.৫ শতাংশ। তিনি বলেন, আমাদের ব্যবহৃত গাড়ির মধ্যে ৫০ শতাংশই রিকন্ডিশন এবং নতুন গাড়ি সংখ্যা হলো ৫ শতাংশ।

 তিনি বলেন, খসড়া অটোমোবাইল নীতিমালায় সরকার ব্যবহৃত গাড়ি আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা আমাদের স্থানীয় অটোমোবাইল খাতের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাসকিন আহমেদ আরও বলেন, আমাদের দেশে বাণিজ্যিক গাড়ির বাজার প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং সামনের দিনগুলোতে এ বাজার আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে অটো পার্টসের বাজার প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা এবং বার্ষিক এ খাতের প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ১২ শতাংশ।
ওয়েবিনারে নির্ধারিত আলোচনায় বাংলাদেশস্থ মার্কিন দূতাবাসের ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধান জন ডি ডানহাম, প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদুজ্জামান, উত্তরা গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাতিউর রহমান এবং বারভিডার সভাপতি আব্দুল হক প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।
মাতিউর রহমান বলেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে অটোমোবাইল খাতের প্রচুর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পর্যালোচনার মাধ্যমে খসড়া অটোমোবাইল নীতিমালা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। এ ছাড়াও তিনি অটোমোবাইল খাতের শিল্পায়নকে আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার জোরারোপ করেন। মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, সিবিও ভেহিক্যালের মাধ্যমে আমাদের দেশের যানবাহনের চাহিদা মেটানো হয়, তবে আমাদের লক্ষ্য হলো নিজস্ব গাড়ির ব্র্যান্ড তৈরি করা। তিনি জানান, আমরা বর্তমানের অ্যাসেম্বেলিং থেকে প্রগ্রোসিভ ম্যানুফ্যাকচার্স হিসেবে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছি, এজন্য খুচরা যন্ত্রপাতি তৈরির জন্য নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে হবে, পাশাপাশি গবেষণা কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর জোরারোপ করেন। বারভিডার সভাপতি আব্দুল হক বলেন, অটোমোবাইল খাতের বিকাশে আমাদের নিজস্ব বাজার তৈরিই বড় চ্যালেঞ্জ এবং নিজস্ব বাজার সম্প্রসারণে সরকারকে সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি শিল্প মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, গাড়ি আমদানিতে আমাদেরকে ১২০ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হয়, যার জন্য আমদানিকৃত গাড়ির মূল্য পাওয়ায়, স্থানীয় বাজারে চাহিদা আশানুরূপভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। তিনি এ খাতের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি নীতি-সহায়তা প্রদান একান্ত অপরিহার্য বলে মতপ্রকাশ করেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]