ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ১৬ মে ২০২১ ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ১৬ মে ২০২১

মিষ্টি হাসির মিষ্টি মেয়ে
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 18

ষ শাহনেওয়াজ
দিনক্ষণ ঠিক মনে নেই। এফডিসিতে সেট বানানো হয়েছে। শুটিং তখনও শুরু হয়নি। ছবির নাম ‘আপন দুলাল’। তবে পরিচালক ইবনে মিজান নায়ক আজিমসহ অনেক শিল্পীকে দৃশ্যটি বুঝিয়ে দিচ্ছেন। ফ্যানের বাতাসে মৃদু দুলছে একটি দোলনা। সেখানে বসে নায়িকা ঠোঁট মেলাবেন নাহিদ নিয়াজির গাওয়া একটি গানে। গানের কলি ছিল, ‘সখা হে তোমার সাথে আজ আমার নুতন খেলা’। সেই সেটে হঠাৎ দেখা গেল মিষ্টি মেয়ে কবরীকে। প্রথম দেখায় বিশ^াস হচ্ছিল না। পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে চলে গেলেন। কোথায় গেলেন মনে বড় প্রশ্ন। ঘুরতে ঘুরতে দেখা পেলাম আরেকটি সেটে। সেই সেটে কিছুক্ষণের মধ্যে শুটিং শুরু হবে। ছবির নাম ‘চোরাবালি’। আর এই ছবির নায়িকা কবরী। সেই সেটে প্রবেশ করতেই কবরীর গেটআপ-মেকআপ দেখে চমকে গেলাম। সেদিন আমার সঙ্গে ছিল ছোটভাই মোশতাক। তার ডানগালের তিল দেখে কবরী এগিয়ে এলেন। প্রথমে আমি ভয় পেয়ে গেলাম। সেট থেকে তাড়িয়ে দেয় কি না। কিন্তু না। কবরী আমার ছোটভাইকে দেখে ছবিতে অভিনয় করার প্রস্তাব দেন। সে সময় পরিচালক মুস্তাফিজ সাহেব তার ‘বাবলু’ ছবির জন্য অভিনয় শিল্পী খুঁজছিলেন বলে জানা গেল। পরবর্তীতে বাবলু ছবিতে অভিনয় করলেন সুদর্শন নায়ক জাফর ইকবাল। কবরী আমার চেয়ে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বললেন। সে সময় মোবাইল ফোন না থাকার কারণে কাগজে একটি ঠিকানা লিখে দিলেন কবরী। ছোটভাই আর অভিনয় করতে আগ্রহ দেখাল না। এরপর থেকে কবরীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। অনেকদিন পর। আমি তখন বাংলার বাণী পত্রিকার সাপ্তাহিক সিনেমা পত্রিকায় কাজ করি। সে সময় সিনেমার সম্পাদক ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য শেখ সেলিমের ছোটভাই শেখ মারুফ। কাজ করার সুবাদে আমাকে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ টেলিভিশনে যেতে হয়। এক দিন আবদুল্লাহ আল মামুনের রুমে বসে ইন্টারভিউ নিচ্ছি। হঠাৎ দেখি হন্তদন্ত হয়ে মামুন সাহেবের রুমে প্রবেশ করলেন কবরী। আমি দেখে একটু থতমত খেয়ে গেলাম। আলাপচারিতা বাদ দিয়ে মামুন সাহেব কবরীর সঙ্গে কথা বললেন। সে সময় তিনি শহীদুল্লাহ কায়সারের কালজয়ী উপন্যাস ‘সারেং বউ’ ছবি তৈরির মনোযোগ দিয়েছেন। আমার সামনে যতটুকু কথা হলো তা ছিল একেবারে শুটিংয়ের সিডিউল নিয়ে। কবরী কথা শেষ করে উঠে যাবে, এমন সময় আমি তার একটি ইন্টারভিউ করার জন্য সময় চাইলাম। কবরী কোনো ধরনের ভণিতা না করে আমাকে পরেরদিন এফডিসিতে যেতে বললেন। আমি যথারীতি এফডিসিতে গেলাম। প্রবেশ মুখে দেখা পরিচালক নূর হোসেন বলাইয়ের সঙ্গে। তারপর দেখি নায়ক রাজ রাজ্জাক একটি সেটে দিব্যি বসে আছেন। কিন্তু কোন সেটে কবরীকে পাব তা বুঝে ওঠার আগেই কবরী সেই সেটে প্রবেশ করলেন। আমাকে দেখে একটু অপেক্ষা করতে বললেন। অপেক্ষার পালা যেন শেষ হয় না। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা শেষে রাত নেমে এলো। অবশেষে কবরী ডাক পাঠালেন মেকআপ রুমে। প্রশ্ন করতেই কবরী বলে বসলেন, সাংবাদিকদের ওই একই কথা। কি খেতে পছন্দ করেন। প্রশ্ন রাখলাম বাংলাদেশে আপনার প্রিয় অভিনেত্রী কে? তিনি গালে একটু হাত রাখলেন। বললেন, কাকে রেখে কার কথা বলি। ছেলেদের মধ্যে রাজ্জাক, ফারুক, আলমগীর বলে কিছুটা দম নিলেন। বললেন ও হ্যাঁ মেয়েদের মধ্যে অনেকেই শাবানা, ববিতার কথা বলবেন। কিন্তু সুচরিতা কিন্তু অনেক পাওয়ারফুল আর্টিস্ট। কিন্তু তাকে নিয়ে আপনারা তেমন লেখালেখি করেন না। অভিনয় জগতের স্মৃতির কথা জানতে চাইলে একগাল হাসিতে ভরিয়ে দিলেন। বললেন, মোস্তফা মাহমুদের ‘অবাক পৃথিবী’ ছবির শুটিং করতে গিয়ে আমি একবার পথ হারিয়ে ফেলেছিলাম। রাঙামাটির এক জঙ্গলে গিয়ে কোনো পথের থৈ পাচ্ছিলাম না। পরে ওই এলাকার লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে। আমাকে তো রাজ্জাক ভাই, পরিচালক ভীষণ বকুনি দিলেন। প্রাণখোলা হাসিতে আরও একটি স্মৃতির কথা বললেন। প্রথম ছবি ‘সুতরাং’। সুভাষ দত্ত ছিলেন একাধারে পরিচালক, আবার আমার নায়ক। একটি দৃশ্যে আমার কিছুতেই কান্না আসছিল না। অনেকবার শর্ট নেওয়া হলো। কিন্তু সুভাষ বাবুর মন ভরছে না। তিনি রাগে আমাকে গালে কষে থাপ্পড় মারলেন। সেই থাপ্পড়ে আমার চোখে আপনাআপনি পানি চলে এলো। সেদিন কবরী আপন মনে বলে গেলেন, জানেন অভিনয় করা অনেক কষ্টের। নিজের হৃদয় থেকে সব কিছু আনতে হয়। চরিত্রকে নিজের মতো নিতে হয়। এ যাবৎ যতগুলো ছবিতে অভিনয় করেছি, পরে দেখে মনে হয়েছে আহা আরও একটু যদি ভালো করতে পারতাম। জীবনটাই আসলে এক অভিনয় জগৎ। কথা প্রসঙ্গে আবির্ভাব, ময়নামতি, গুন্ডা, রংবাজ ছবির কথা তুললেন। এই ছবিগুলো হয়তো আমাকে বাঁচিয়ে রাখবে দর্শকদের মধ্যে। কথায় কথায় কখন রাত ১০টা বেজে গেছে টেরই পাইনি। বিদায় নেওয়ার কথাও বলার সাহস পেলাম না। ইন্টারভিউ ছাপা হওয়ার পর কবরীর সঙ্গে বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে। তিনি ভালো ছবির জন্য একটি ভালো গল্প খুঁজছিলেন। কিন্তু পাননি, এই আফসোসের কথাও আমাকে জানিয়েছেন।
লেখক : সাংবাদিক











সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]