ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৮ মে ২০২১ ২৪ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ৮ মে ২০২১

কলাবাগানে ছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড
ডিএনএ রিপোর্টে অসন্তুষ্ট পরিবার
আবদুল্লাহ আল মামুন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম আপডেট: ২২.০৪.২০২১ ২:৪৫ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 106

রাজধানীর কলাবাগানে ‘ধর্ষণের পর হত্যার শিকার’ ও লেভেল শিক্ষার্র্থী আনুশকা নুর আমিনের ডিএনএ প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট নয় পরিবার। ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বাঁচাতে অনেক দেরি করে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। পরিবারের ভাষ্য, তদন্ত কাজে বিলম্ব, ঘটনার সময় দিহানের সঙ্গে থাকা অন্য বন্ধুদের অভিযুক্ত না করা এবং ডিএনএ প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব দেখে ‘নেতিবাচক’ কিছু একটা হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। এ কারণে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গত মাসেই মামলার তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনও শুনানি হয়নি। বুধবার আনুশকার মায়ের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। যদিও তদন্তসংশ্লিষ্টরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত চলছে বলে জানান। জানা গেছে, গত মাসে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাব থেকে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন ডাকযোগে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে চলতি মাসের শুরুতে তারা রিপোর্টটি  পেয়েছেন। ডিএনএ প্রতিবেদনে আনুশকার শরীরে একাধিক ব্যক্তির উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। আনুশকার ‘কথিত প্রেমিক’ ফারদিন ইফতেখার দিহানের একারই উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সিআইডি ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আনুশকার মা বলেন, এত বড় একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড হলেও তদন্তসংশ্লিষ্টরা শুরু থেকে একপেশে আচরণ করে আসছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের ঘটনার দিন দিহানের সঙ্গে থাকা বন্ধুদের বিষয়ে খোঁজ নিতে বলা হলেও তারা তেমন আগ্রহ দেখায়নি। আনুশকার মা বলেন, ঘটনার সাড়ে ৩ মাসের মধ্যে তিনবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় পিছিয়েছে। এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরি হয়নি। কবে নাগাদ প্রতিবেদন তৈরি হবে সেটিও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না চিকিৎসকরা। এ কারণে সুবিচার পাওয়া নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে ঘটনার দিন ভিডিও ফুটেজে দেখা যাওয়া দিহানের তৃতীয় বন্ধুর পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম ইমরান হাসান। সে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামে একটি সংগঠনের কলাবাগান থানার সাধারণ সম্পাদক। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে মেয়ে হত্যার বিচারের দাবিতে জোরালোভাবে মাঠে নামবেন বলে তিনি জানান।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (ফরেনসিক) রুমানা আক্তার সময়ের আলোকে বলেন, সিআইডি ডিএনএ প্রতিবেদন তৈরি করে তদন্তসংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠিয়েছে। পরীক্ষায় যা পাওয়া গেছে তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিআইডির দেওয়া ডিএনএ প্রতিবেদনে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আনুশকার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সিআইডির শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ডিএনএ প্রতিবেদনে আনুশকার শরীরে দিহান ছাড়া অন্য কারও স্পর্শের আলামত পাওয়া যায়নি। তবে দুজনের সম্মতিতে বাহ্যিক কোনো পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছিল। যেটির আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আনুশকার মৃত্যু হয়।
এদিকে ঘটনার পর সাড়ে তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও লাশের পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে পারেনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ। এ কারণে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফরেনসিক চিকিৎসকের ভাষ্য, এতদিন ডিএনএ রিপোর্ট না পাওয়া পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা যায়নি। এখন রিপোর্ট এসেছে। শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তদন্তসংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেলে ফরেনসিক বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, আমি দায়িত্বে থাকাকালে সিআইডি থেকে ডিএনএ রিপোর্ট আসেনি। এ কারণে যথাসময়ে পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. মাকসুদ বলেন, আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। তবে সবকিছু পর্যালোচনা করে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেওয়া হবে।
আনুশকার মা শাহ নুরি আমিন অভিযোগে বলেন, বিচারে দীর্ঘসূত্রতা করতে সবকিছু দেরি করে করা হচ্ছে। এ কারণে ঘটনার তিন মাস পর ডিএনএ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। যেটুকু শুনেছি, প্রতিবেদনে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ডিএনএ রিপোর্টে আমরা বিশ^াস করতে পারছি না। দিহান ও অন্যদের বাঁচানোর জন্য চেষ্টা চলছে। এ কারণে শুরু থেকেই সবকিছু এলোমেলো করে করা হচ্ছে। এখন মেয়ে হত্যার বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনার দিন দিহানের সঙ্গে থাকা আরও এক বন্ধুর পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম ইমরান হাসান। সে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কলাবাগান থানার সাধারণ সম্পাদক। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখলে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পেত। তিনি বলেন, আমরা আগেও বলেছি, ঘটনার সময় দিহান একা নয়, অন্যরাও ছিল। আমরা মামলার তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছি। পিবিআই তদন্ত করলে সত্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ্র বলেন, আনুশকার লাশের ডিএনএ প্রতিবেদন আমাদের হাতে এসেছে। এখন পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষা। ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগ থেকে এ রিপোর্ট পেলেই তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আদালতকে জানানো হবে। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া ও আদালতের নির্দেশনা মেনে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে পুলিশের সময় ক্ষেপণের সুযোগ নেই। আমরা বেশ কিছু বিশেষজ্ঞ রিপোর্টের অপেক্ষায় ছিলাম। সেগুলো না পাওয়ায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। সব প্রতিবেদন হাতে এলে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৭ জানুয়ারি নিজ বাসায় ডেকে নিয়ে আনুশকাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ ওঠে কথিত প্রেমিক দিহানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই আনুশকার বাবা দিহানকে একমাত্র আসামি করে ‘ধর্ষণের পর হত্যার’ অভিযোগ এনে কলাবাগান থানায় মামলা করেন। ঘটনার দিনই দিহানকে আটক করলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এবং ধর্ষণের এক পর্যায়ে রক্তক্ষরণে আনুশকার মৃত্যু হয় বলে জানায়।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]