ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ১৬ মে ২০২১ ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ১৬ মে ২০২১

রোজাদারের দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না
আমিন ইকবাল
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৩.০৪.২০২১ ২:০৯ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 93

সওয়াব অর্জন আর গুনাহ বর্জনের মাস রমজান। এ মাসে প্রভুর সান্নিধ্য লাভের মোক্ষম সময়। রমজানে রোজাদার ব্যক্তির প্রতিটি ভালো কাজের জন্য ১০ গুণ বেশি সওয়াবের ঘোষণা রয়েছে। নবীজি (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেনÑ ‘রোজা আমার জন্যই। তাই এর পুরস্কার আমি নিজেই দেবো। আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময় ১০ গুণ।’ (বোখারি : ১৮৯৪)।
রোজাদারের দোয়ার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। নবী (সা.) বলেন, ‘সিয়াম পালনকারীর দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা : ৩/৭)। অন্য হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। ১. রোজাদারের দোয়া ইফতার করা পর্যন্ত, ২. ন্যায়পরায়ণ বাদশাহর দোয়া, ৩. মাজলুমের দোয়া। (মুসনাদে আহমদ : ৯৭৪৩)।
পবিত্র কোরআনে সুরা বাকারায় ধারাবাহিকভাবে রমজান ও রোজা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে। এর অব্যবহিত পরই আল্লাহ তাঁর নবীকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে, (তাদের বলো) আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, আমি তাদের প্রার্থনা কবুল করি, যখন তারা আমার কাছে প্রার্থনা করে।’ (সুরা বাকারা : ১৮৬)। এ থেকে বুঝে আসেÑ রমজানের দোয়ার বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলত রয়েছে।
দোয়ার মধ্যে মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন সফলতা নিহিত। আল্লাহ তায়ালা ওই মুহূর্তটিকে অধিক পছন্দ করেন যখন বান্দা মানবসভ্যতার চরম বিপদ-আপদে ধৈর্যধারণ ও সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে, তাঁর কাছে মাগফিরাত ও নাজাত কামনা করে। নবী করিম (সা.) রমজান মাসে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা সম্পর্কে বলেছেন, এ মাসে তোমরা চারটি কাজ অধিক পরিমাণে করো, তন্মধ্যে দুটি কাজ এমন, যা দ্বারা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা যাবে। আর অপর দুটি এমন যা থেকে তোমরা মুখাপেক্ষীহীন হতে পারবে না। প্রথম দুটি হলো ১. বেশি বেশি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’-এর জিকির করা, ২. আল্লাহর কাছে মাগফিরাত তথা ক্ষমা প্রার্থনা করা। আর যে দুটি কাজ না করে আমাদের কোনো উপায় নেই তা হলোÑ ১. জান্নাত চাওয়া, ২. জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া।
ইফতারের পূর্বমুহূর্তের দোয়ার বিষয়ে রাসুল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই ইফতারের সময় সিয়াম পালনকারীর দোয়া কবুল হয়।’ (বায়হাকি)। অন্য হাদিসে তিনি বলেন, ‘ইফতারের সময় আল্লাহ বহু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। আর রমজানের প্রতি রাতেও। সিয়াম পালনকারী প্রত্যেক বান্দার দোয়া কবুল হয়।’ (মুসনাদ আহমদ)। হাদিসে কুদসিতে আছেÑ রোজা কেবল আল্লাহর জন্য, তাই রোজার পুরস্কার আল্লাহ নিজেই দেবেন।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বান্দাদেরকে বারবার তাঁর কাছে চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সব গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা জুমার : ৫৪)।
পবিত্র রমজানের দিন-রাত মূলত দোয়া ও মোনাজাতেরই দিন-রাত। তাই এ মাসের জন্য নির্ধারিত ইবাদত ছাড়াও যখন সুযোগ পাওয়া যায়, আল্লাহর দরবারে দোয়া-মোনাজাতে বিশেষভাবে মনোনিবেশ করা উচিত। বান্দার কোন দোয়া কখন কবুল হয়ে যাবে, তা তো বলা যায় না। এ কাজ করলে মানুষের আকাক্সক্ষাগুলো তো পূরণ হবেই, পাশাপাশি এই সুফলও হবে যে, আল্লাহর সঙ্গে তার একটি গভীর সম্পর্কের গোড়াপত্তন হবে। আর এ সম্পর্ক ধীরে ধীরে তাকে সৎকাজে উদ্যমী এবং অসৎ কাজে নিরুৎসাহিত করে তুলবে। আর এটাই রমজানের রোজা ফরজ করার অন্যতম উদ্দেশ্য।
লেখক : মুফতি ও প্রাবন্ধিক











সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]