ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ১৬ মে ২০২১ ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ১৬ মে ২০২১

বিষফোঁড়া মামুনুল : হাঁসফাঁস হেফাজত
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৩.০৪.২০২১ ২:১১ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 75

সাম্প্রতিক সময়ে নানা কারণে সরকারের কাছে ধরাশায়ী হয়ে বেশ বেকায়দায় আছে হেফাজতে ইসলাম। একের পর এক গ্রেফতার আতঙ্কে রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ইসলাম ধর্মভিত্তিক সংগঠনটি। শীর্ষ দুই নেতা বাদে আলোচিত মামুনুল হকসহ প্রায় সব বড় নেতাই এখন কারাবন্দি। বাকিরাও আছেন সরকারের নজরদারিতে। এমন অবস্থায় হেফাজত যেকোনোভাবে হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে যাচ্ছে। সংগঠনকে টিকিয়ে রাখাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারের কাছে নাজেহাল হয়ে নানা দিকে বিপাকে পড়েছে হেফাজত। সংগঠনের নেতাকর্মীরা বলছেন, তাদের ওপর সরকারের নির্যাতনের খড়গ চরম মাত্রায় ঠেকেছে। রমজান তার ওপর লকডাউনে কূলকিনারা পাচ্ছেন না তারা। সংঘটিত হওয়া তো দূরে থাক, কোথাও দাঁড়াতেই পারছেন না।
ঢাকার বাইরের একজন হেফাজত নেতা সময়ের আলোকে বলেন, প্রশাসনের অদৃশ্য নজরদারি চলছে। এমনকি মোবাইলে কথা বলা থেকে শুরু করে কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগই করতে পারছেন না তারা। হেফাজতের একাধিক নেতাকর্মী বলছেন, অরাজনৈতিক সংগঠনটি সম্প্রতি রাজনৈতিক চেহারা ধারণ করেছে। যার চড়া খেসারত দিতে হচ্ছে। সংগঠনের ইমেজ ধরে রাখাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকটা অস্তিত্বের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ভেতরে-বাইরে সবাই এখন হেফাজতকে আরও বেকায়দায় ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এসবের পেছনে সবার আগে হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হককে দুষছেন অনেকে।
তাদের মতে, মামুনুল একটু বেশি অ্যাগ্রেসিভ ছিলেন। সব জায়গায় কর্তৃত্ব ও প্রভাব খাটাতে চেয়েছেন। তার সর্বশেষ বিতর্কিত রিসোর্ট কাণ্ডের কারণে চড়া মাশুল দিচ্ছে হেফাজত। গ্রেফতার ও দমন-পীড়ন তীব্র হওয়ার পর সরকারের সঙ্গে এক দফা বৈঠক করেছেন হেফাজতের শীর্ষ নেতারা। তবে কাজের কাজ হচ্ছে না। গ্রেফতার চলছেই। হেফাজতের প্রচার সম্পাদক মাওলানা  জাকারিয়া নোমান ফয়েজী সময়ের আলোকে বলেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। অনানুষ্ঠানিকভাবে একাধিক বৈঠকও হয়েছে। প্রথম বৈঠক ইতিবাচক হলেও এখনই বলার মতো তেমন কিছু নেই। ভুল বোঝাবুঝির সুরাহা দরকার। সরকারকে আমাদের কথা বলেছি।
হেফাজতের একজন শীর্ষ নেতা সময়ের আলোকে জানান, গ্রেফতারের বাইরে থাকা নেতাদের ওপর অনলাইনে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বাধ্য হয়েই তারা মোবাইল বন্ধ রাখছেন। আগে ভার্চুয়ালি বৈঠক করতে পারলেও এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। কার্যত নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল সময়ের আলোকে বলেন, উৎকণ্ঠার মধ্যে আছি। আমাদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করছে না। কোনো সিদ্ধান্ত জানতে পারছি না। সংগঠন কী পরিকল্পনা করছে, তাও সঠিকভাবে জানা সম্ভব হচ্ছে না।
আর সংগঠনের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদী সময়ের আলোকে বলেন, সরকারের দমন-পীড়নের সামনে আমরা কিছুই করতে পারছি না। এখন কোনো কর্মসূচি নেই। সঙ্কট ও বেকায়দায় আছে হেফাজত। এ থেকে উত্তরণ দরকার। সরকারের সঙ্গে আলোচনা কতদূর এগোলোÑ জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি একপ্রকার এড়িয়ে যান।
অন্যদিকে সংগঠনের সঙ্কটের মধ্যে হেফাজত সংস্কারের কথাও উঠছে।
হেফাজতের সব কমিটি থেকে রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যক্তিত্বদের সরিয়ে নতুন কমিটি দেওয়ার গুঞ্জন চলছে জোরেশোরে। পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালনা ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালনার কথা বলেছে। যাতে করে হেফাজত কওমি মাদ্রাসার কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে পারে।
একটি সূত্র জানাচ্ছে, হেফাজতের বর্তমান কমিটি যেকোনো সময় ভেঙে দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে হেফাজত নেতারা আল্লামা শফীর যোগ্য উত্তরসূরি খুঁজতে শুরু করেছেন। নতুন কমিটিতে শফীর অনুসারীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। তবে এখনও তা পাকাপোক্ত হয়নি। আলোচনা চলছে। হেফাজতের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাঈনুদ্দীন রুহী ফেসবুকে ‘হেফাজতের পুনর্গঠন চাই’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেন। তিনি নতুন কমিটির বিষয়ে বরাবরই গণমাধ্যমে সোচ্চার।
পাশাপাশি রুহী আলোচিত মামুনুল হকের কড়া সমালোচনা করছেন প্রতিনিয়ত। মাইনুদ্দীন রুহীর দাবি, হেফাজতের মধ্যে মামুনুলের খাস লোক রয়েছেন ৪০ থেকে ৫০ জন। মামুনুল ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা বর্তমান হেফাজতকে জিম্মি করে রেখেছেন।
আহমদ শফীর মৃত্যুর পর হেফাজতের যে কমিটি হয়েছে, তাতে রুহী এবং আরেক সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহকে রাখা হয়নি।
তবে মুফতি ফয়জুল্লাহ সময়ের আলোকে বলেন, আমি বেশ কয়েক দিন ধরে খুবই অসুস্থ। এসব বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।
সূত্র জানায়, মাঈনুদ্দীন রুহী ও মুফতি ফয়জুল্লাহ এবং প্রয়াত মুফতি ফজলুল হক আমিনীর ছেলে আবুল হাসানাত আমিনীসহ একটি অংশ হেফাজতের কমিটি পুনর্গঠনে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এ অংশ হেফাজতের প্রয়াত শাহ আহমদ শফীর ছোট ছেলে আনাস মাদানীর সমর্থক।
অনেকে বলছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হাটহাজারীসহ বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি ব্যাপক সহিংসতার পর গ্রেফতার অভিযান এবং মামুনুল হকের বিতর্কিত কাণ্ডে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃত্বও এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সংগঠনের শীর্ষ মুরব্বিরা সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তৃণমূল কর্মীরাও আছেন ধোঁয়াশার মধ্যে। ঢাকার মোহাম্মদপুর ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীর নেতারা একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত ও করণীয় ঠিক করতে পারছেন না।










সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]