ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ১৬ মে ২০২১ ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ১৬ মে ২০২১

চীন থেকেও আনা হবে টিকা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৩.০৪.২০২১ ২:০৬ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 32

টিকার চাহিদা পূরণে চীনের কাছ থেকে করোনার টিকা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে টিকার মজুদ রয়েছে ৪৯ লাখের মতো। দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া বাকি রয়েছে প্রায় ৪৩ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮১ ডোজ। প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজ টিকা যদি বর্তমান হারে চলতে থাকে তাহলে মজুদ ফুরিয়ে যাবে আগামী ১৫ দিন থেকে এক মাসের মধ্যে। এ অবস্থায় ভারত থেকে নতুন করে টিকা না এলে বিপাকে পড়বে বাংলাদেশ। তাই ভারত থেকে নতুন করে টিকা নিয়ে আসতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের ভ্যাকসিন আনার বিষয়ে আলোচনা করতে রাষ্ট্রদূত নয়াদিল্লি গেছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশটি থেকে দ্রুত টিকা পাওয়ার আশ^াস দিয়েছেন তিনি। এদিকে রাশিয়ার ‘স্পুটনিক ভি’ টিকাও বাংলাদেশেই উৎপাদনের সম্মতি মিলেছে। শুধু তাই নয়, দেশের চাহিদা মিটিয়ে এটি অন্য দেশেও রফতানির করা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অক্সফোর্ডের তিন কোটি ডোজ টিকা আনতে  ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে গত বছরের পাঁচ নভেম্বর যে চুক্তি হয়েছিল তাতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে তিন কোটি ডোজ টিকা রফতানি করবে। সে অনুযায়ী, প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মার্চ ও এপ্রিলে বাংলাদেশ সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টিকা পায়নি। তবে শিগগিরই তাদের টিকা বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে জানিয়ে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন সময়ের আলোকে বলেন, ভারত কখনই বলেনি আমাদের টিকা দেবে না। বরং টিকা যাতে দ্রুত পাঠানো যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে তারা। তবে এখন আমরা টিকার জন্য শুধু ভারতের দিকে তাকিয়ে থাকব না। চীন থেকে টিকা আনব। প্রথম দিকে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অনুমোদন না থাকায় বাংলাদেশ এর আগে চীনের ভ্যাকসিন বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। আমরা ভ্যাকসিনটি পেতে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যদিও চীন বাংলাদেশকে জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যেই তাদের ভ্যাকসিনটি অন্যান্য দেশে সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায়, ডিসেম্বরের আগে তারা আর কোনো ভ্যাকসিন রফতানি করতে পারবে না। মন্ত্রী বলেন, প্রথম পর্যায়ে চীন বাংলাদেশকে ছয় লাখ টিকা উপহার দেবে। সেগুলো যেকোনো সময় বাংলাদেশ হাতে পাবে।
এ সময় তিনি দেশেই ‘স্পুটনিক ভি’ উৎপাদনের বিষয়ে সরকার সম্মত হয়েছে জানিয়ে বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনের যে প্রস্তাব দিয়েছে তাতে বাংলাদেশ রাজি হয়েছে। কারণ রাশিয়ার উৎপাদন সক্ষমতা কম। আর বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা এরই মধ্যে রাশিয়ার ফর্মুলা অনুমোদন দিয়েেেছ। তাই বাংলাদেশ ভ্যাকসিন উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশে উৎপাদনের পর তা অন্য দেশেও বিক্রি করতে পারব আমরা। কিছুটা সময় লাগলেও আমরা করতে পারব বলে আশা করছি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ^ব্যাপী বিপুল চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ভ্যাকসিনটি রফতানি করার মতো পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা না থাকায় মস্কো বাংলাদেশে ভ্যাকসিনটি উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, রাশিয়া প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে আর দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো ‘স্পুুটনিক ভি’ উৎপাদন করবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এটা তুলনামূলক সাশ্রয়ী হবে এবং আশা করা যায়, এটা অপেক্ষাকৃত ভালো হবে।
প্রসঙ্গত, দেশে গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। এর পর গত ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হয় টিকার দ্বিতীয় ডোজ। তবে ভারত থেকে গত ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য চুক্তির ৩০ লাখ এবং মার্চ মাসের ৫০ লাখ অর্থাৎ চুক্তির ৮০ লাখ টিকা এখনও দেশে আসেনি। এপ্রিল মাসে টিকা আসার সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত নেই। কেনা ও উপহার মিলিয়ে এ পর্যন্ত ভারত থেকে টিকা এসেছে মোট ১ কেটি দুই লাখ ডোজ। এর মধ্যে ভারত সরকারের উপহার হিসেবে গত ২১ জানুয়ারি প্রথমে আসে ২০ লাখ ডোজ। সরকারের অর্থে কেনা টিকার প্রথম চালানে ২৫ জানুয়ারি আসে ৫০ লাখ ডোজ, ফেব্রুয়ারি মাসের ২৩ তারিখ আসে আরও ২০ লাখ ডোজ এবং সর্বশেষ গত ২৬ মার্চ আসে ১২ লাখ ডোজ।
এদিকে আগামী জুন-জুলাইয়ের আগে ভ্যাকসিন রফতানির সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট। বুধবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আদর পুনাওয়ালা ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তারা আপাতত ভারতের চাহিদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভ্যাকসিন রফতানির বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন। বর্তমান পরিস্থিতিতে মাস দুয়েকের মতো আমাদের রফতানির কথা ভাবা যাবে না। আশা করি জুন-জুলাই থেকে আবারও একটু করে রফতানি শুরু করতে পারব। এই মুহূর্তে আমরা দেশের চাহিদাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।
সম্প্রতি করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট ভ্যাকসিন সঙ্কটের কারণে রফতানি বন্ধ রেখেছে ভারত। বাংলাদেশে ‘কোভিশিল্ড’ ভ্যাকসিনের ১ কোটি ২ লাখ ডোজের মধ্যে বেশিরভাগই প্রয়োগ করা হয়েছে। সিরাম চুক্তি অনুযায়ী ভ্যাকসিন সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশ টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে বিকল্প উৎস সন্ধানের চেষ্টা করছে।
এই অবস্থায় চীনের ভ্যাকসিন বা রাশিয়ার ‘স্পুটনিক ভি’-এর উৎপাদনের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো উপায় নেই বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও সাবেক রাষ্ট্রদূত শমসের মবিন চৌধুরী সময়ের আলোকে বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের যখন চুক্তিটা হয়েছিল তখনকার পরিস্থিতি আর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। বর্তমানে প্রতিদিন তাদের দেশে দেড় থেকে দুই লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। মারা যাচ্ছে দিনে এক থেকে দুই হাজার মানুষ। এমন অবস্থায় তারা তাদের দেশের চাহিদা মেটাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। মডার্না বা ফাইজার অনেক ব্যয়বহুল এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থাও কঠিন। অ্যাস্ট্রাজেনেকা দিয়েই যুক্তরাষ্ট্র অনেক এগিয়ে গেছে। সিরাম বলেছে, ২ হাজার বা ৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ বাড়াতে হবে তাদের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য। এ ক্ষেত্রে তাদের সেই সাপোর্টটা দিতে হবে। তবে আমি মনে করি, এখানে চুক্তিভঙ্গ বা কথা খেলাপ বলে কোনো বিষয় নেই। বাস্তবতা মেনেই আমাদের এগোতে হবে। চীন যদি আমাদের ভ্যাকসিন দিতে চায় তাহলে দেখতে হবে তাদের কতটুকু দেওয়ার সক্ষমতা আছে বা তারা দিতে পারবে। যদি সব ঠিক থাকে তাহলে তাদেরটা নিতে হবে। রাশিয়ার ভ্যাকসিনেও যদি বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন থাকে তাহলে নিতে হবে। আমাদের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এর বিকল্প নেই বলে আমি মনে করি।
তবে নিজেদের সঙ্কট থাকলেও বাংলাদেশে ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ হবে না বলে জানিয়েছেন করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশও যাতে টিকা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে সেজন্য তার দেশ কাজ করে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে চার দিনের ছুটি কাটিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর হয়ে বাংলাদেশে ফেরার সময় তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বিশ^ব্যাপী করোনাভাইরাসের টিকার প্রাপ্যতা নিয়ে সঙ্কট রয়েছে। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি। সবাই মিলে টিকার প্রাপ্যতা ও সরবরাহ বাড়াতে কাজ করছি। দোরাইস্বামী বলেন, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের টিকার কার্যক্রম যেন চলমান থাকে সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা যত দেশকে টিকা দিয়েছি তার মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি টিকা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশকে ৮০ লাখ টিকা সরবরাহ করা হয়েছে।
কিন্তু এখন সংক্রমণ পরিস্থিতিও যে নাজুক হয়ে উঠেছে, সে কথা তুলে ধরে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউটা অনেক বড়। ভারতের অবস্থাও দিন দিন কঠিন হচ্ছে। আমরা সবাই একত্রে কাজ করছি। সবাই মিলে এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে পারব। দোরাইস্বামী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যে আমরা যুক্ত, এর গুরুত্ব তুলে ধরার জন্যই করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছেন।











সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]