ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৮ মে ২০২১ ২৪ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ৮ মে ২০২১

ভেন্টিলেশন লাগতে পারে খালেদার
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: বুধবার, ৫ মে, ২০২১, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৫.০৫.২০২১ ১:২৪ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 240

‘আমাকে হাসপাতাল থেকে বাসায় (ফিরোজায়) নিয়ে যাও। অক্সিজেন ও ক্যানোলা খুলে দাও। খুব অসহ্য লাগছে। আমি সবার সঙ্গে কথা বলব’Ñ এই কথাগুলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার। করোনারি কেয়ার ইউনিটের (সিসিইউ) বেডে শুয়ে করোনায় আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন এভাবেই তার আকুতির কথা জানান চিকিৎসককে। খালেদা জিয়াকে এখনও অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে। করোনা চলাকালে খালেদা জিয়ার সব কিছু স্বাভাবিক থাকলেও করোনা-পরবর্তী অর্থাৎ পোস্ট কোভিডে খালেদা জিয়ার অবস্থা খারাপের দিকে। চিকিৎসকের ভাষায়, বয়সের ভারে পোস্ট কোভিডের অবস্থা মোকাবিলার সক্ষমতা কম খালেদা জিয়ার। উনি এখন ভেন্টিলেশনের ঠিক পূর্বের স্টেজে আছেন। অবস্থা আরও অবনতি হলে যেকোনো মুহূর্তে ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন হবে।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে থাকা একজন চিকিৎসক মঙ্গলবার বিকালে সময়ের আলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছেন। সময়ের আলোর সঙ্গে যখন ওই চিকিৎসকের কথা হচ্ছিল তিনি তখন মাত্র হাসপাতাল থেকে নিজের বাসায় ফেরেন। ওই চিকিৎসক জানান, ‘খুব ক্লান্ত। সারারাত নির্ঘুম। ম্যাডামকে সিসিইউতে স্থানান্তরের পর যা যা করার সবই করা হচ্ছে। কিন্তু এ পর্যায়ে এসে পোস্ট কোভিডের অনেক চিকিৎসাই নিতে পারছেন না তিনি। বিরক্ত অনুভব করছেন। অক্সিজেন খুলে ফেলতে চাচ্ছেন। একটু অস্থিরতা ভাব আছে। তবে মনোবল ঠিক আছে। জ্ঞানশক্তিও আলহামদুলিল্লাহ ভালোই মনে হচ্ছে। কিন্তু এক প্রকার জোর করেই সব করা হচ্ছে। যেকোনো উপায়ে শ^াসকষ্ট স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।’
তিনি বলেন, এই অবস্থায় আসলে যে কেউই ত্যক্ত হবেন। আর ম্যাডামের বয়স বেশি হওয়ায় ঝুঁকির মাত্রা বেশি। এখন ম্যাডামের যে কন্ডিশন এতে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে ১০-১২ ঘণ্টা বসিয়ে রেখে বিদেশে নেওয়াও কষ্টকর। আর খালেদা জিয়াও এই মুহূর্তে দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে রাজি নন। যদিও তার পরিবার সব ব্যবস্থা করে রেখেছে। তারা ম্যাডামকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। ম্যাডামের পরিবার করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার কথা বলছেন।
এই চিকিৎসক জানান, খালেদা জিয়া রাজি হলে আরও কিছুদিন পর বিদেশ নেওয়া হতে পারে। আর তার ধারণা সরকারও চাচ্ছে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা হোক। আশা করা যায় কোনো শর্ত এতে বাদ সাধবে না। তিনি বলেন, পোস্ট কোভিডের চিকিৎসা দিতে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কোনো ঝুঁকি না নিতেই ফিরোজা থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কারণ বয়স্কদের বাসায় রেখে করোনা-পরবর্তী চিকিৎসা ঝুঁকিপূর্ণ। এমনিতেই তিনি একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত বেশ আগে থেকেই। তবে হাসপাতালে ভর্তির বিষয়ে খালেদা জিয়ার সায় ছিল না। উনি এ অবস্থায়ও দ্রুত ফিরোজায় ফিরতে চাচ্ছেন। এই চিকিৎসক নিশ্চিত করেছেন, খালেদা জিয়ার তৃতীয় দফা করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করা হয়নি। পরীক্ষার আগেই তাকে সিসিইউতে নিতে হয়েছে।
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা জানান, মূলত রোববার সকাল থেকে খালেদা জিয়ার হঠাৎ শ^াসকষ্ট বেড়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সাধারণ ইউনিট হৃদযন্ত্রের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র-সিসিইউ ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। এগুলো আগে থেকেই সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। কেননা পোস্ট কোভিড চিকিৎসায় যেকোনো মুহূর্তে সিসিইউর প্রয়োজন দেখা দেয়।
এভারকেয়ার হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার জরুরি অবস্থায় জটিল এই চিকিৎসাসেবায় স্বাস্থ্যসেবা পর্যবেক্ষণের জন্য নার্স, ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট, বিভন্ন ধরনের থেরাপিস্ট, টেকনোলজিস্টকে সার্বক্ষণিক যুক্ত করা হয়েছে। আরও জানা গেছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্বস্তিদায়ক নয়। যদিও ফুসফুসের পানি ঈষৎ কমেছে। তবে অক্সিজেন সাপোর্ট এখনও চলছে। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করতে গঠিত মেডিকেল বোর্ড মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বৈঠক করেন। বোর্ড মনে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে নেওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। তবে মেডিকেল বোর্ডে থাকা বাংলাদেশের চিকিৎসকরা এ-ও বলছেন, খালেদা জিয়ার এই মুহূর্তে যে অবস্থা তাতে বিদেশে নেওয়া কষ্টসাধ্য। এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রাখতে চান তারা।
ওই চিকিৎসক খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা উদ্বেগের উল্লেখ করে সময়ের আলোকে বলেন, ‘যেকোনো মুহূর্তে ম্যাডামের আইসিসিইউর প্রয়োজন হতে পারে। সেখানে অবস্থা বুঝে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হতে পারে। কেননা উনি এখন ভেন্টিলেশনের ঠিক পূর্বের স্টেজে আছেন। দোয়া করেন যাতে ম্যাডামের ভেন্টিলেশন না লাগে।’
বিদেশ নিতে পরিবারের তৎপরতা : খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসা করাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পরিবার। আর বিএনপি খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি পরিবারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, পরিবারের পক্ষ থেকে তার বোন সেলিমা ইসলাম এক দফা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। পরিবার দেশের বাইরে পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছে। খালেদা জিয়া রাজি হলে ও সরকারের অনুমতি পেলেই বিদেশ নেওয়া হবে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত করেছেন।
সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর চলতি এপ্রিলে আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন করা হয়েছে। এদিকে সোমবার রাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের চেয়ারপারসনের চিকিৎসা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
আর মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ম্যাডামের আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। সেগুলোর রেজাল্ট আসলে মেডিকেল বোর্ড পর্যালোচনা করবে। তিনি জানান, মঙ্গলবার দেশের বাইরের চিকিৎসকের সঙ্গেও একাধিকবার খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে তার পুত্রবধূ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক চিকিৎসক ডা. জোবায়দা রহমানও পুরো কার্যক্রমের তদারকি করছেন।
খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে জাহিদ হোসেন বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ পারিবারিক। পরিবারের বিষয়টি আমরা বলতে পারব না। তবে তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে পরিবার থেকে দেড় বছর আগে থেকে বলা হয়েছে। এটা তো অনেক আগে থেকেই তার পরিবারের চাওয়া। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার বলেন, ‘নো কমেন্টস’। আর বোন সেলিমা ইসলামও অসুস্থতার কথা বলে কৌশলে এড়িয়ে যান। তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার জানান, ম্যাডামের বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি এখনও বলার মতো পর্যায়ে আসেনি। খালেদা জিয়াকে কোন দেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে তাও বলতে রাজি হননি তিনি।
তবে খালেদা জিয়ার একজন চিকিৎসক আভাস দিয়েছেন, খালেদা জিয়ার পছন্দসই লন্ডনে নেওয়ার চিন্তাভাবনা বেশি। কারণ তার ছেলে তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর পরিবার লন্ডনে রয়েছে। পুত্রবধূ জোবায়দা রহমানও লন্ডনে চিকিৎসা নিতে একমত। তবে চিকিৎসকরা সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের বিষয়টি প্রাইয়োরিটি দিচ্ছেন। কেননা এখানে যেতে সময় কম লাগবে। এই ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে খালেদা জিয়াকে খুব কম সময়ে স্থানান্তর করতে হবে।
জানা যাচ্ছে, আনুষ্ঠানিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদনের পর আইনি প্রক্রিয়া দেখভাল করে মতামত দেবে আইন মন্ত্রণালয়। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পরই বিদেশ যেতে পারবেন খালেদা জিয়া। যদিও খালেদা জিয়ার বিদেশ গমনে পাসপোর্ট নেই বলে দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন।
সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিদেশ যেতে পারেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আল মামুন, টেকনোলজিস্ট মো. সবুজ ও গৃহপরিচারিকা ফাতেমা। আর পরিবারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার ও তার বোন সেলিমা ইসলামের পুত্রবধূ।
গত ২৭ এপ্রিল রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সত্তরোর্ধ্ব খালেদা জিয়ার সিটিস্ক্যান (চেস্ট), আল্ট্রাসনো, হৃদযন্ত্রের ইসিজি ও ইকো ইত্যাদি পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে। খালেদা খালেদা জিয়া দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে আর্থ্রাইটিজ, ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যায় ভুগছেন।
হাসপাতালে তার চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। এতে আরও রয়েছেন ডা. এফএম সিদ্দিকী, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ডা. সিনা, ডা. ফাহমিদা বেগম, ডা. মাসুম কামাল, ডা. আল মামুন, সাদিকুল ইসলাম এবং ডা. তামান্না।
এর আগে গত ১০ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে গুলশানের বাসা ফিরোজায় চিকিৎসক টিম গঠন করে অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে চিকিৎসা শুরু হয়। আক্রান্তের ১৪ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরে খালেদা জিয়ার ফিরতি করোনা টেস্ট করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় দফার ফলাফলও পজিটিভ আসে।
এদিকে করোনায় আক্রান্ত খালেদা জিয়াকে যখন বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার কথা বলা হচ্ছে তখন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা (অ্যাটর্নি জেনারেল) এএম আমিনউদ্দিন জানিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিয়ে যেতে হলে আদালতের সম্মতি লাগবে। মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিমকোর্টে নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১(১) ধারা অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়েছে সরকার। এখন এটা (বিদেশ নিতে) করতে গেলে আদালতে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কতটুকু প্রয়োজন। বাংলাদেশে কি আছে, না আছে, সবকিছু দেখে সরকার বিবেচনা করবে। সরকার যদি প্রয়োজন মনে করে, যদি আইন অনুযায়ী প্রয়োজন হয়, তা হলে সরকার আদালতে আসবে। কারণ এটা তো সরকারি আদেশ, সরকারই এটা ঠিক করবে।
গত ৩০ এপ্রিল খালেদা জিয়ার বাসভবনের সবাই করোনামুক্ত হয়েছেন। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু পর পরিবারের আবেদনে সরকার গত বছরের ২৫ মার্চ ‘মানবিক বিবেচনায়’ শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। পরে আরও দুদফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়। মুক্তি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া গুলশানে ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।









সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]