ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৯ মে ২০২১ ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ১৯ মে ২০২১

পাট থেকে শৌখিন পণ্য তৈরিই অষ্টমীর নেশা
প্রকাশ: বুধবার, ৫ মে, ২০২১, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 15

ষ আব্দুর রাজ্জাক
অষ্টমী রায়। একজন গৃহিণী। দিনাজপুর সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের স্বরদুখিল পাড়ায় স্বামী-সন্তান নিয়ে বাস তার। এলাকায় গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে অষ্টমীর। বিশেষ করে পাট থেকে শৌখিন পণ্য নকশি চট তৈরি অষ্টমীকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দিয়েছে। এই চট বিভিন্ন আকৃতিতে নকশা করে শৌখিন পণ্য ম্যাট তৈরিই এখন তার নেশা আর পেশা।
ছোটবেলায় বাবার কাছ থেকে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ নিলেও এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন শুরু বিয়ের পর থেকেই। প্রায় ২০ বছর ধরে পাটের তৈরি এই নকশি চট তৈরি করে নকশি প্রেমিদের চাহিদা পূর্ণ করছেন অষ্টমী রায়। শৌখিন পণ্য হিসেবে নারীরাই-এর আসল ক্রেতা। সাধারণত বাসার বিছানা ও মেঝেতে ব্যবহারে এটি সংগ্রহ করে থাকেন শৌখিন নারীরা। পণ্যেটি গ্রামের চাহিদা মিটিয়ে শহরে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বাজারজাত করে সে।
বাড়ির উঠানে বসেই ছোট্ট পরিসরে কাঠের তৈরি হাতের মেশিন দিয়ে পাটের রঙ বেরঙের সুতা দিয়ে বানানো হয় নকশি চট। এই চট তৈরি করে এলাকা থেকে পুরো গ্রাম, গ্রাম থেকে ইউনিয়ন আর ইউনিয়ন থেকে শহরের চাহিদা মিটিয়ে আসছে। তবে পাটের তৈরি এই শৌখিন পণ্য দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা যেতে পারে।
নকশি নারী অষ্টমী রায় সময়ের আলোকে জানান, নকশি চট বানাতে পাটের রঙ বেরঙের সুতা কিনতে পাওয়া যায়। সুতাগুলো কিনে একটি নকশি চট তৈরি করতে তার খরচ হয় প্রায় সাতশ টাকা। আর সময় লাগে চার থেকে পাঁচদিন। পূর্ণাঙ্গ একটি নকশি চট বিক্রি হয় ১২শ থেকে ১৫শ টাকায়। তবে সাইজ অনুযায়ী এর দাম কম-বেশি হয়ে থাকে বলে জানান তিনি।
অষ্টমী আরও জানান, বাবার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ পেয়ে কাজ শুরু করি ২০ বছর আগে বিয়ের পরেই। রাজমিস্ত্রি স্বামীর সঙ্গে কিছুদিন রিং সø্যাব তৈরি করার পর তিন কন্যাকে সময় দিতে বাড়ির উঠানেই এই চট তৈরির কাজ শুরু করি। এরপর আর পিছিয়ে দেখতে হয়নি আমাকে আর আমার পরিবারের সবাইকে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। মেঝো মেয়ে পড়ছে অষ্টম শ্রেণিতে আর সবার ছোটটি এখনও শুরু করেনি পড়া। তবে অনেক সুখে শান্তিতে আছেন এই অষ্টমী রায়, প্রতিবেদককে জানান তিনি। অসহায় নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে এলাকার নারীদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন তিনি। এ পর্যন্ত গ্রামের ৩৫টি পরিবার তাদের জীবিকা আহরণ করছে এই নকশি চট তৈরি করে, জানান অষ্টমী রায়।














সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]