ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৬ জুন ২০২১ ১ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ১৬ জুন ২০২১

তামাকপণ্যে কর বাড়ালে সরকারের রাজস্ব বাড়বে ৩৪০০ কোটি টাকা
প্রকাশ: বুধবার, ৫ মে, ২০২১, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 63

ষ নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকার আসন্ন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সুপারিশ অনুযায়ী তামাকপণ্যের বিদ্যমান কর ব্যবস্থা সংস্কার করলে চলতি অর্থবছরের চেয়ে সম্পূরক শুল্ক, স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ এবং ভ্যাট বাবদ ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় অর্জন করা যাবে। অর্থাৎ প্রথম বছরে সিগারেট খাত থেকে ১২ শতাংশ বাড়তি রাজস্ব আয় হবে। আগামী বাজেটকে সামনে রেখে তামাকপণ্যে কর বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) তাতে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, তামাক কর বৃদ্ধি করা হলে প্রায় ১১ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী ধূমপান ছেড়ে দিতে উৎসাহিত হবে এবং ৮ লক্ষাধিক তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে ৩ লাখ ৯০ হাজার বর্তমান ধূমপায়ী এবং ৪ লাখ তরুণের অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে গবেষণা সংস্থা বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ সময়ের আলোকে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে তামাকপণ্যের ইতিবাচক অবদানের চেয়ে নেতিবাচক ভূমিকা বেশি। সরকার হয়তো দেখছে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আসছে এ খাত থেকে কিন্তু এর বিপরীত চিত্রটির দিকে নজর নেই। তামাক পণ্যের কারণে প্রতিবছর দেশের মানুষের চিকিৎসা বাবদ যে খরচ হচ্ছে সেটি তো অনেক। এ জন্য বাজেটে তামাকপণ্যে কর আরোপের ক্ষেত্রে শুধু রাজস্বের দিকটিকে না দেখে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের দিকটিকেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। বাজেটে তামাকপণ্যের জন্য উচ্চ হারে করারোপ করা দরকার। যাতে বাড়তি দামের কারণে মানুষ ধূমপান ছেড়ে দেয়। প্রজ্ঞার প্রস্তাবে আরও বলা হয়, নিম্ন স্তরে সিগারেটের মূল্যবৃদ্ধি তুলনামূলক স্বল্প আয়ের মানুষকে ধূমপান ছাড়তে উৎসাহিত করবে এবং একই সঙ্গে উচ্চ স্তরে সিগারেটের দাম বাড়ানো হলে ধূমপায়ীদের সস্তা ব্র্যান্ড পছন্দের সামর্থ্য সীমিত হবে। বিড়ি এবং ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে এসব পণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করবে এবং একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। এতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে ৩৫.৩ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে। ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারী ২ কোটি ২০ লাখ (২০.৬ ভাগ) এবং ধূমপায়ী ১ কোটি ৯২ লাখ (১৮ ভাগ)। তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার মানুষ অকাল মৃত্যুবরণ করে।

২০১৯ সালে প্রকাশিত ‘ইকোনমিক কস্ট অব টোব্যাকো ইউজ ইন বাংলাদেশ : এ হেলথ কস্ট অ্যাপ্রোচ’ শীর্ষক গবেষণা ফলাফলে দেখা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তামাক ব্যবহারের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা, যা একই সময়ে তামাক খাত থেকে অর্জিত রাজস্ব আয়ের (২২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা) চেয়ে অনেক বেশি।
প্রজ্ঞার তামাক কর সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের নিম্ন স্তরে খুচরা মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করে ৩২.৫০ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ; মধ্যম স্তরে খুচরা মূল্য ৭০ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫.৫০ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ; উচ্চ স্তরে খুচরা মূল্য ১১০ টাকা নির্ধারণ করে ৭১.৫০ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক এবং প্রিমিয়াম স্তরে ১৪০ টাকা খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে ৯১ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ। এর ফলে সব মূল্যস্তরে সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্কের হার হবে চূড়ান্ত খুচরা মূল্যের ৬৫ শতাংশ।
ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করে ১১.২৫ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ২০ টাকা নির্ধারণ করে ৯.০০ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে উভয় ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্কের হার হবে চূড়ান্ত খুচরা মূল্যের ৪৫ শতাংশ।
এ ছাড়া প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৪৫ টাকা নির্ধারণ করে ২৭.০০ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করে ১৫.০০ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ। এর ফলে উভয় ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্কের হার হবে চূড়ান্ত খুচরা মূল্যের ৬০ শতাংশ। সিগারেট, বিড়ি এবং জর্দা ও গুলের খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল থাকবে।
প্রস্তাবিত কর সুপারিশগুলো অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের তামাক করনীতিকে বিশে^র সর্বোত্তম করনীতিগুলোর কাতারে নিয়ে যাবে। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বৈশি^ক কর্মপরিকল্পনায় তামাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ বদ্ধপরিকর। এই লক্ষ্য অর্জনে তামাকপণ্যে কর বৃদ্ধি হচ্ছে একটি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ। একই সঙ্গে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনে অন্যতম কার্যকর উপায় তামাকপণ্যে কর বৃদ্ধি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]