ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৯ মে ২০২১ ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ১৯ মে ২০২১

পদ্মাপাড়ে স্বজনহারাদের আহাজারি
দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জরুরি
প্রকাশ: বুধবার, ৫ মে, ২০২১, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 26

পদ্মাপাড়ে এখন স্বজনহারাদের মাতম চলছে। মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটের কাঁঠালবাড়ী ঘাটে পদ্মা নদীতে নোঙর করে রাখা একটি বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটের সংঘর্ষে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিন শিশু ও দুই নারী রয়েছে। সোমবার সকাল ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছে পাঁচজন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনা তদন্তে ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পদ্মা নদীতে স্পিডবোট দুর্ঘটনা নতুন কোনো বিষয় নয়। কিন্তু স্পিডবোট উল্টে এত মানুষের মৃত্যু আগে কখনও দেখেনি দেশের মানুষ। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে লকডাউনে যখন সারা দেশে নৌ-চলাচল বন্ধ রয়েছে তখন। এ সময় সরকারি নির্দেশ না মেনে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাট থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটে যাচ্ছিল স্পিডবোটটি। বাংলাবাজার পুরনো ঘাটে বালুবোঝাই একটি বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্পিডবোটটি উল্টে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে সোমবার সকাল পৌনে ৭টায় ৩১ জন যাত্রী নিয়ে স্পিডবোটটি ছেড়ে আসে।
পানিতে ডুবে মারা যায় অধিকাংশ যাত্রী। এক শিশু ও চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ওই পাঁচজনের মধ্যে একজন ওই স্পিডবোটের চালক। তাকে আটক করেছে পুলিশ। স্পিডবোটের চালক গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে পুলিশের নজরদারিতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে সহায়তা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
নৌ-চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, লকডাউনের মধ্যে স্পিডবোটের চালক সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেই চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থান থেকে গোপনে যাত্রী তুলে পারাপার করছিল। মাদারীপুরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এই লকডাউনের সময় এমনিতেই এ ধরনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লকডাউন অমান্য করে স্পিডবোটে অবৈধভাবে যাত্রী পার করে আসছে একটি অসাধু চক্র। অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ, নৌপুলিশ ও ঘাট সংশ্লিষ্ট একটি অসাধু চক্রের সদস্যদের সহযোগিতায় স্পিডবোট চলছিল। এর মধ্যে সোমবার দুর্ঘটনা ঘটলেও কোনো পক্ষই দায়িত্বে অবহেলার দায় নিতে চাচ্ছে না। একপক্ষ অন্যপক্ষকে দোষারোপ করে নিজেদের বাঁচাতে চেষ্টা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত বড় দুর্ঘটনার পেছনে এদতসংশ্লিষ্ট সবপক্ষই দায়ী।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বেপরোয়া গতি ও অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। বর্তমানে লকডাউনে সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ। সেখানে সংশ্লিষ্টরা জানবে না তা কী করে সম্ভব? তা হলে তাদের দায়িত্ব এবং জবাবদিহিতার জায়গা কোথায়? আগেও এই নৌরুটে আরও বেশ ক’টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। জানমালের ক্ষতি কম হওয়ায় তেমন আলোচনায় আসেনি বিষয়গুলো। এ দুর্ঘটনার পেছনে যাত্রীদের অসচেতনতা ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা ও জবাবদিহিতার অভাব অনেকাংশে দায়ী বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। দুর্ঘটনার পর মামলা ও তদন্ত কমিটি হলেও সেগুলোর সঠিক রিপোর্ট তেমনভাবে জানা যায় না। কেউ কেউ গ্রেফতার হলেও জামিনে বেরিয়ে আবারও পুরনো অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যায়। দৈনিক সময়ের আলোর এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, মেরিন আদালতে দেড় হাজারের বেশি নৌ-দুর্ঘটনা সংক্রান্ত মামলা ঝুলে রয়েছে। আগের অধিকাংশ দুর্ঘটনার সঠিক বিচার হয় না বলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। স্পিডবোটগুলো চলছে অবৈধভাবে। এ বিষয়ে অনেকটা দায়সারা ভূমিকায় কর্তৃপক্ষ।
নৌ-চলাচলের ক্ষেত্রে চালকদের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। যাত্রীদের মধ্যে যেমন সচেতনতার অভাব রয়েছে, তেমনি চালকদের মধ্যেও রয়েছে দায়িত্বহীনতা। পরিসংখ্যান বলে, চালকরা মেনে। তাই দুর্ঘটনা ঘটেই চলছে।  সংশ্লিষ্টরা এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর দায়িত্ব এড়াতে পারে না। তাদের রয়েছে চরম গাফিলতি। তারা আইনানুগ দায়িত্ব পালন করেনি। করলে এই লকডাউনের মধ্যে স্পিডবোট চলাচল করতে পারত না। এ ক্ষেত্রে তাদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। আমরা চাই, আইনের প্রায়োগিক দৃঢ়তা। এই দুর্ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তা হলে এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হবে।










সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]