ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৯ মে ২০২১ ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ১৯ মে ২০২১

লাইলাতুল কদর অর্জনে করণীয়
প্রকাশ: বুধবার, ৫ মে, ২০২১, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 81

মুফতি শাব্বীর আহমদ
অত্যধিক পুণ্য অর্জন ও আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার মাহে রমজান চলছে। এরই মধ্যে রহমত ও মাগফিরাতের দশক শেষে নাজাতের (জাহান্নাম থেকে মুক্তির) দশক শুরু হয়েছে। এই দশকে মহিমান্বিত একটি রাত রয়েছেÑ যাকে লাইলাতুল কদর বা ভাগ্য রজনী বলা হয়। আল্লাহ তায়ালা এ রাত সম্পর্কে বলেন, ‘লাইলাতুল কদর এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এ রাতে ফেরেশতা ও রুহ (জিবরাঈল আ.) তাদের পালনকর্তার আদেশক্রমে প্রত্যেক কল্যাণময় বস্তু নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন। যে রাত পুরোটাই শান্তি, যা ফজর হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।’ (সুরা
কদর : ৩-৫)। ১ হাজার মাস ৮৩ বছরের চেয়ে অধিক সময়। যদি কোনো ব্যক্তি ১০ বছরে ১০টি লাইলাতুল কদর লাভ করে, তবে তার এ ১০টি রাত ৮৩০ বছরের চেয়েও অধিক শ্রেষ্ঠ বলে পরিগণিত হবে।
এই রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হওয়া চরম দুর্ভাগ্যের বিষয়। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বর্ণনা করেন, রমজান মাসের আগমন ঘটলে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশে বললেন, তোমাদের নিকট এই মাস সমাগত হয়েছে, তাতে এমন একটি রাত রয়েছে, যা এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে প্রকৃতপক্ষে সব কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত। একমাত্র (সর্বহারা) দুর্ভাগাই এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়।’ (ইবনে মাজা : ১৬৪৪)। লাইলাতুল কদর গুনাহ-পাপাচার থেকে মুক্তি লাভের মোক্ষম সময়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমান এবং সওয়াব লাভের প্রত্যাশা নিয়ে নামাজ আদায় করবে তার অতীত জীবনের যাবতীয় পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি : ১৯০১)
লাইলাতুল কদর রমজানের শেষ দশকের যেকোনো রাতে হতে পারে। বিশেষ করে বেজোড় রাতে হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। লাইলাতুল কদরকে অনির্দিষ্ট রাখা হয়েছে। কারণ এর মাঝেই মানুষের জন্য কল্যাণ। হজরত উবাদা ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিতÑ তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) আমাদেরকে লাইলাতুল কদর সম্বন্ধে সংবাদ দিতে বের হলেন। ইত্যবসরে দুজন মুসলিম এ নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে গেল। রাসুল (সা.) বললেন, আমি তোমাদেরকে লাইলাতুল কদর সম্বন্ধে সংবাদ দিতে বের হয়েছিলাম। কিন্তু অমুক আর অমুক এ নিয়ে বিতর্ক করেছে। ফলে তা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। হয়তো এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর হবে। সুতরাং তোমরা নবম, সপ্তম এবং পঞ্চম রাতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।’
(বুখারি : ২০২৩)
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।’ (বুখারি : ২০১৭)। অন্য হাদিসে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিতÑ রাসুল (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন এবং বলতেন তোমরা রমজানের শেষ দশকে শবে কদর তালাশ করো। (বুখারি : ২০২০)
কদর রাতের চিত্র
উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিতÑ রাসুল (সা.) বলেন, ‘কদর রাত শেষে কিরণবিহীন প্রভাত সূর্য উদিত হবে; ওপরে ওঠার পূর্ব পর্যন্ত সূর্যটিকে একটি পাত্র সদৃশ মনে হবে।’ (মুসনাদে আহমদ : হাদিস ২১২৩৫)। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিতÑ রাসুল (সা.) বলেন, ‘লাইলাতুল কদর হলো প্রবল ঝড়ো বৃষ্টি, ঝড়ো বায়ু এবং সর্বপ্রকার অনিষ্টতা মুক্ত এক নাতিশীতোষ্ণ রজনী। এ রাতের প্রভাত সূর্য ক্ষীণ লালিমা ছড়িয়ে উদিত হবে। (মুসনাদে আবু দাউদ তায়ালিসী : হাদিস ২৬৮০)
শবে কদর অর্জনের উপায়
ক. শবে কদর অর্জনের উত্তম উপায় হলো রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা। অর্থাৎ ২০ রমজান সূর্য ডোবার পূর্ব হতে ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করা। পেশাব, পায়খানা বা ফরজ গোসলের প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ থেকে বের না হওয়া।
খ. যাদের দশ দিন ইতিকাফ করার সুযোগ নেই, তারা দুই-তিন দিন নফল ইতিকাফ করতে পারেন। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এক দিন ইতিকাফ করবে আল্লাহ তায়ালা তার এবং জাহান্নামের মাঝে তিন খন্দক দূরত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। অর্থাৎ আসমান ও জমিনের দূরত্ব থেকে অধিক দূরত্ব সৃষ্টি করে দেবেন।’ (শুআবুল ঈমান : ৩৯৬৫)
গ. এটাও সম্ভব না হলে অন্তত শেষ দশকের শুধু রাতগুলোতে মসজিদে নফল ইতিকাফ করা। দিনে দুনিয়াবি প্রয়োজন পূর্ণ করা। অথবা নিজ ঘরেই সব রাতগুলো বা বেজোড় রাতগুলোতে ইবাদতে মগ্ন থাকা।
ঘ. এটাও যদি সম্ভব না হয় তা হলে অন্তত এশা ও ফজর যদি জামাতের সঙ্গে আদায় করা। এতে সারারাত নামাজ পড়ার সমান সওয়াব পাওয়া যাবে এবং শবে কদরের ন্যূনতম ফজিলত লাভ করা যাবে। কারণ এক হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি এশা ও ফজর জামাতের সঙ্গে পড়ল সে যেন সারারাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ল। (মুসলিম : ৬৫৬; মুসনাদে আহমদ : ৪০৮)
শবে কদরে কী আমল করব
লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের ফজিলত অপরিসীম। তাই সারারাত জাগ্রত থেকে সঠিকভাবে ইবাদত-বন্দেগিতে মনোনিবেশ করা কর্তব্য। নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ, উমরী কাজা নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, তওবা-ইস্তেগফার, দোয়া-দুরূদসহ ইত্যাদি নফল আমলের প্রতি
মনোযোগী হওয়া একান্ত জরুরি। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিতÑ তিনি বলেন, একদা আমি রাসুলকে (সা.) জিজ্ঞাসা করলাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি কদরের রাত সম্পর্কে অবহিত হতে পারি তবে আমি কী করব? তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি’ এই দোয়া পাঠ করার জন্য বললেন।’ (তিরমিজি : ৩৫১)











সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]