ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৯ মে ২০২১ ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ১৯ মে ২০২১

দানের হাত প্রসারিত হোক
প্রকাশ: বুধবার, ৫ মে, ২০২১, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 46

মুস্তাকিম আল মুনতাজ
করোনায় বিপর্যস্ত জনজীবন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। বিত্তবানদের দায়িত্ব অসহায়-গরিবদের পাশে দাঁড়ানো। বিপদগ্রস্তদের প্রতি সহযোগিতা কিংবা দান করার অনেক ফজিলত ও উপকারিতা রয়েছে। তন্মধ্যে কয়েকটি উপকারিতা উল্লেখ করা হলোÑ ১. দানকারীগণ আল্লাহর বন্ধুদের অন্তর্ভুক্ত। ২. দান করার ফলে বিপদাপদ দূর হয়, সম্পদ বরকতময় হয়। ৩. দানকারী ও তার বংশধরদের হাতে ধনসম্পদ দীর্ঘস্থায়ী হয়। ৪. দান করার মাধ্যমে সমাজের দারিদ্র্য দূর হয়ে শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ৫. সর্বোপরি দান করার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। বিশেষত পবিত্র এ রমজান মাসে দানের পরিধি বৃদ্ধি করা ধনীদের দায়িত্ব। বছরের অন্যান্য মাসের চেয়ে রমজান মাসে আল্লাহর রাসুল (সা.) সবচেয়ে বেশি দান করতেন। এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত সাহাবি ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজানে তার বদান্যতা আরও বেড়ে যেত। (মুসলিম শরিফ)
দান করার ব্যাপারে তাগিদ দিতে গিয়ে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তারাই মুত্তাকি, যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান রাখে, নামাজ কায়েম করে এবং যা তাদের রিজিক দান করি, তা হতে খরচ করে।’ (সুরা বাকারা : ০৩) আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এ কারণে গাফেল হয়, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত। আমি তোমাদের যা দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় কর। অন্যথায় সে বলবে, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দিলেন না কেন? তা হলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’ (সুরা মুনাফিকুন : ৯-১০)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান-খায়রাত কর, তবে তা কতই না উত্তম। আর যদি দান গোপনে কর এবং অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম। আল্লাহ তায়ালা তোমাদের কিছু গোনাহ দূর করে দেবেন। আল্লাহ তোমাদের কাজকর্মের খবর রাখেন।’ (সুরা বাকারা : ২৭১)। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘যারা স্বীয় ধনসম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে এবং ব্যয় করার পর সে অনুগ্রহের কথা প্রকাশ করে না এবং কষ্টও দেয় না, তাদেরই জন্য তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে পুরস্কার।’ (সুরা বাকারা : ২৬২)
দানের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘খেজুরের একটি টুকরো দান করে হলেও তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার চেষ্টা কর।’ (বুখারি ও মুসলিম) আরেক হাদিসে হজরত উকবা বিন আমের (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই দান-সদকা কবরের আজাব বন্ধ করে দেয়। আর কিয়ামতের দিন বান্দাকে আরশের ছায়ার নিচে জায়গা করে দেয়।’ (তাবরানি ও বায়হাকি)। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মানুষের জীবদ্দশায় এক দিরহাম দান করা, তার মৃত্যুর পর একশ দিরহাম দান করার চেয়ে উত্তম।’ (আবু দাউদ ও মিশকাত)। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) আরও ইরশাদ করেছেন , ‘দান সম্পদ কমায় না, দান দ্বারা আল্লাহ পাক বান্দার সম্মান বৃদ্ধি ছাড়া কমান না। কেউ আল্লাহর ওয়াস্তে বিনয় প্রকাশ করলে আল্লাহ তায়ালা তাকে বড় করেন।’ (মুসলিম শরিফ)
সুতরাং আমাদের উচিত কাছের দুস্থ-অসহায়, গরিব-দুঃখী, অভাবগ্রস্ত আত্মীয়স্বজন কিংবা পাড়া-প্রতিবেশীদের প্রতি সহযোগিতা কিংবা দানের হাত প্রসারিত করা এবং তার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন ও পরকালীন মুক্তিলাভ করা।












সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]