ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১ ৩ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১

ইতিকাফে কী করতেন নবীজি (সা.)
ইফতেখার ইসলাম
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ মে, ২০২১, ৮:৪৮ পিএম আপডেট: ০৭.০৫.২০২১ ৮:৫৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 142

আল্লাহর রাসুল (সা.) মদিনায় হিজরতের পর প্রতিবছরই ইতিকাফ পালন করেছেন। ইতিকাফ ঈমানি তরবিয়তের একটি পাঠশালা। ইতিকাফরত অবস্থায় বান্দা নিজেকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য দুনিয়ার অন্য সব বিষয় থেকে আলাদা করে নেয়। একান্তভাবে মশগুল হয় আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের নিরন্তর সাধনায়। ইতিকাফ ঈমান বৃদ্ধির একটি সুবর্ণ সুযোগ।

হজরত ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.) কথা উল্লেখ করে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে- ‘আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র করো।’ (সুরা বাকারা : ১২৫)। ইতিকাফ অবস্থায় স্ত্রীদের সঙ্গে কী আচরণ হবে তা বলতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তোমরা মসজিদে ইতিকাফকালে স্ত্রীদের সঙ্গে মেলামেশা করো না।’ (সুরা বাকারা : ১৮৭)।

হজরত ইবরাহিম (আ.) তাঁর পিতা এবং জাতিকে লক্ষ করে মূর্তির ভর্ৎসনা করতে গিয়ে যা বলেছিলেন, আল্লাহ তায়ালা তা উল্লেখ করে বলেন, ‘যখন তিনি তাঁর পিতা ও তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, এই মূর্তিগুলো কী, যাদের পূজারি (ইতিকাফকারী হয়ে) তোমরা বসে আছ?’ (সুরা আম্বিয়া : ৫২)

নবী (সা.)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষের দশকে ইতিকাফ করেছেন, ইন্তেকাল পর্যন্ত। এরপর তাঁর স্ত্রীগণ ইতিকাফ করেছেন।’ (বুখারি : ২০২৪; মুসলিম : ১১৭২) হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন : ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক রমজানে ইতিকাফ করতেন।’ (বুখারি : ২০৪১)

আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে উভয়টির উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন। তবে যে বছর পরলোকগত হন তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেছেন।’ (বুখারি : ৩০৯)। হজরত আয়শা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে তাঁর জনৈকা স্ত্রীও ইতিকাফ করলেন। তখন তিনি ছিলেন ইস্তেহাজা অবস্থায়, রক্ত দেখছেন। রক্তের কারণে হয়তো তাঁর নিচে গামলা রাখা হচ্ছে।’ (বুখারি : ৩০৯)

অন্য এক হাদিসে এসেছে- ‘আমি (প্রথমে) এ রাতের (কদর) সন্ধানে প্রথম দশে ইতিকাফ পালন করি। অতঃপর ইতিকাফ পালন করি মাঝের দশে। পরবর্তীতে ওহির মাধ্যমে আমাকে জানানো হয় যে, এ রাত শেষ দশে রয়েছে। সুতরাং তোমাদের মাঝে যে (এ দশে) ইতিকাফ পালনে আগ্রহী, সে যেন তা পালন করে। লোকেরা তার সঙ্গে ইতিকাফ পালন করল।

রাসুল বলেন, আমাকে তা এক বেজোড় রাতে দেখানো হয়েছে এবং দেখানো হয়েছে যে, আমি সে ভোরে কাদা ও মাটিতে সেজদা দিচ্ছি। অতঃপর রাসুল একুশের রাতের ভোর যাপন করলেন, ফজর পর্যন্ত তিনি কিয়ামুল্লাইল করেছিলেন। তিনি ফজর আদায়ের জন্য দণ্ডায়মান হয়েছিলেন। তখন আকাশ ছেপে বৃষ্টি নেমে এলো এবং মসজিদে চুঁইয়ে চুঁইয়ে পানি পড়ল। আমি কাদা ও পানি দেখতে পেলাম। ফজর সালাত শেষে যখন তিনি বের হলেন, তখন তাঁর কপাল ও নাকের পাশে ছিল পানি ও কাদা। সেটি ছিল একুশের রাত।’ (মুসলিম : ১১৬৭)।

হজরত আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত- তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) প্রতি রমজানে দশ দিন ইতিকাফ করতেন, তবে যে বছর তিনি পরলোকগত হন, সে বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফে কাটান।’ (বুখারি : ২০৪৪)




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]