ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৬ জুন ২০২১ ২ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ১৬ জুন ২০২১

ইয়াবা পাচারে নাফ নদে নতুন কৌশল
সেবন-সরবরাহ চলছে সমানে
আলমগীর হোসেন
প্রকাশ: শনিবার, ৮ মে, ২০২১, ১০:৪৮ পিএম আপডেট: ০৮.০৫.২০২১ ১:১৩ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 99

করোনাভাইরাসের মতোই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মারণ নেশা ইয়াবার বিস্তার। সব কিছুতে যখন অনেকটা স্থবির অবস্থা, তখন ইয়াবা বিস্তারের গতি যেন লাগামহীন। এক রুটে নজর রাখলে তাৎক্ষণিক আরেক রুট আবিষ্কার করছে মাদকচক্র। বর্তমানে এক ধরনের ‘বোলের’ মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে নাফ নদে ভেসে সাঁতরে ইয়াবার চালান প্রবেশ করছে প্রশিক্ষিত রোহিঙ্গারা। এভাবে প্রতিনিয়তই প্রয়োগ করা হচ্ছে নতুন নতুন কৌশল। নতুন করে ইয়াবার প্রধান রুট নাফ নদেও ব্যবহৃত হচ্ছে এই কৌশল। ফলে ইয়াবার ঢেউ সামলাতে পারছে না কেউ।
গত চার মাসের মাদকবিরোধী অভিযান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়Ñ বিজিবি ও র‌্যাবের অভিযানে প্রতিদিনই ইয়াবার বড় বড় চালান আটক হচ্ছে। এর অধিকাংশই আটক হচ্ছে ইয়াবার প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া এলাকায়। বিশেজ্ঞদের মতেÑ ইয়াবার চোরাচালান বেশি আটক হওয়া মানেই মাদক কারবারিরাও অনেক বেশি সক্রিয়। এমন অবস্থায় কেনইবা ইয়াবার বিস্তার এতটা বাড়ছে? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার কারণে কিংবা মাদকের সহজলভ্যতার কারণে কি না অথবা ইয়াবা বিস্তারে করোনারই প্রভাব পড়েছে কি না? এসবের জবাব খুঁজতে গিয়ে মাদক কারবারি, ইয়াবাসেবীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে বিভিন্ন তথ্য।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, করোনার কারণে আবদ্ধ পরিস্থিতি, খেলাধুলা ও ঘোরাফেরা করতে না পারা, ঘরবন্দি বা কাজকর্ম না থাকায় হতাশা-অবসাদ বৃদ্ধি, অবাধ মেলামেশা ও পরিবারের উদাসীনতায় ইয়াবায় আসক্তের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ফলে এসব নেশাগ্রস্তের কাছে ইয়াবা পৌঁছাতে মাদক ব্যবসায়ীরাও সরবরাহ বাড়াচ্ছে। এদিক থেকে আগে মাদকবিরোধী অভিযানে ক্রসফায়ারের মতো ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটলেও কক্সবাজারের অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর সেটিও অনেকটাই কমে গেছে। ফলে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে সাহসও বেড়েছে। পাশাপাশি মানবিক কারণে করোনায় কক্সবাজারের আত্মসমর্পণ করা মাদক ব্যবসায়ীরাও জামিনে মুক্ত হয়ে ফের একই কাজে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব কারণেই মূলত ইয়াবার বিস্তার ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে বলে মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
ইয়াবা আসক্তির ঘটনা অনুসন্ধানে গিয়ে জানা যায়Ñ রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাফায়াত হোসেন (ছদ্মনাম) বছর দেড়েক আগেও সিগারেট টান দিতেন না। বন্ধুদের আড্ডায় বসলেও তিনি এসব থেকে দূরে থাকতেন। সেই সাফায়াতের কাছে এখন সিগারেট তো কিছুই না, নিয়মিত ইয়াবা ছাড়া তার চলেই না। রাজধানীর শুক্রাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাড়ির মালিকের ছেলে সাফায়াত করোনার মহামারির সময়ে ‘বদ্ধ পরিস্থিতিতে’ বিভিন্ন ঘরোয়া আড্ডাকালে কোনো এক সময় জড়িয়ে গেছেন ইয়াবার জালে।
শুক্রবার পান্থপথ সড়কে শুক্রাবাদ গলির মুখে একটি দোকানের সামনে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এসব বিষয়ে কথা বলেন সাফায়াতের বাড়ির কেয়ারটেকার। মূলত এই কেয়ারটেকারের মাধ্যমেই ইয়াবার জোগান পান সাফায়াত। অনেক সময় ফোনে ইয়াবা অর্ডারের পর বাসায় পৌঁছে দিয়ে যাওয়া হয় বলেও জানান তিনি। কেবল এই বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষার্থী নয়, করোনার মহামারিতে এমন হাজার হাজার উঠতি বয়সি তরুণ ইয়াবাসহ নানা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। ইয়াবাসেবী বা চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ বা ইয়াবার চোরাচালানও বেড়েছে অনেক বেশি।
সময়ের আলোর স্থানীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে শুক্রবার কথা হয় টেকনাফের দুজন ইয়াবা কারবারির সঙ্গে। নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তারা সময়ের আলোকে জানিয়েছেন, বর্তমানে ইয়াবা চোরাচালান মিয়ানমার থেকে আনা-নেওয়ায় টেকনাফের স্থানীয়দের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় রোহিঙ্গা নাগরিকেরা। ইয়াবার প্রবেশও আগের চেয়ে বেড়েছে। ওই মাদককারবারীরা বলেন, নাফ নদের টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে সাধারণত রাত ৩টা থেকে ইয়াবার চালান বেশি প্রবেশ করে। এক ধরনের ‘বোলের’ মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে নাফ নদ সাঁতরে ইয়াবার চালান প্রবেশ করাচ্ছে প্রশিক্ষিত রোহিঙ্গারা। বোলটির ভেতরে বাতাস থাকায় অনেকটা ডুবন্তভাবে তারা নাফ নদ পারাপার করতে পারছে। ওই ইয়াবা কারবারিরা আরও জানান, টেকনাফ ও উখিয়ায় প্রথমে ইয়াবা মজুদ হচ্ছে। এরপর পর্যটকের বেশে, নানা যানবাহনে, পেটের ভেতরেসহ নানা কৌশলে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যাচ্ছে ইয়াবা।
করোনার মধ্যে ইয়াবা কারবারিদের তৎপরতা বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে বিজিবির পরিচালক (অপারেশন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, সম্ভবত বর্তমান করোনাকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মপরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইয়াবা কারবারিদের ব্যাপারে আরও সক্রিয় হতে পারছে না। তাই ইয়াবা কারবারিদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়ে থাকতে পারে। এ ছাড়া টেকনাফ উপজেলায় যেসব ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করেছিল তারা জামিনে মুক্তি পাওয়ায় এবং করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি বিবেচনা করে হাজতবাসী ইয়াবা কারবারিদের মুক্তি দেওয়ায় পুনরায় তারা সক্রিয়ভাবে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সচেতন নাগরিকরা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করায় আগের তুলনায় কম সক্রিয় থাকতে পারেÑ এমন ধারণা থেকেও ইয়াবা কারবারিরা চোরাচালান কার্যক্রম অধিক হারে পরিচালনা করছে। পাশাপাশি ইয়াবা কারবারিদের করোনাভীতি না থাকায় তারা সক্রিয়ভাবে ইয়াবা পাচার করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আরেকটি কারণে হতে পারে তা হলোÑ কক্সবাজার জেলার সব পুলিশ সদস্য একসঙ্গে বদলি হওয়া। এটা ইয়াবা কারবারিদের মনোবলে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে বলে শোনা যাচ্ছে। ফলে আগের কঠোর অভিযান বর্তমানে না থাকায় ইয়াবার গডফাদারসহ অন্য ব্যবসায়ীরা আবার নিজ নিজ এলাকায় ফিরে এসে ইয়াবা ব্যবসায় সক্রিয়ভাবে জড়িত হয়ে থাকতে পারে।
করোনার মধ্যেও ইয়াবার বিস্তার প্রসঙ্গে কথা হয় র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈনের সঙ্গে। কমান্ডার মঈন সময়ের আলোকে বলেছেন, স্বাভাবিক সময়ে যুবসমাজ খেলাধুলা, ঘোরাফেরাসহ নানা কাজে যুক্ত থাকলেও করোনার কারণে অনেকেই সেগুলো থেকে দূরে আছে। তরুণ বা যুবসমাজের অধিকাংশই করোনার কারণে অনেকটা গৃহবন্দি থেকেছে বা থাকছে। এর ফলে ‘ইয়াংদের’ একটি বড় অংশ হতাশা-অবসাদে ইয়াবাসহ নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। নিয়মিত মাদকসেবীদের পাশাপাশি এসব তরুণদের চাহিদার প্রেক্ষাপটে ইয়াবার সরবরাহ বাড়াচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীচক্র। অন্যদিকে করোনার এমন মহামারিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাধারণ নজরদারি কম থাকবে মনে করেও মাদক কারবারিরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। যদিও যেখানেই বেশি তৎপরতা বাড়ছে সেখানেই ইয়াবার চোরাচালান আটকসহ জড়িতরা গ্রেফতার হচ্ছে।
করোনায় ইয়াবার পাচারের রুট পাল্টেছে কি নাÑ এ প্রসঙ্গে র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার আল মঈন বলেন, মাদক কারাবারিরা কখনই স্থায়ীভাবে নির্দিষ্ট রুটে চালান বহন করে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন যেদিকে বেশি নজর দেয় তখন তারা রুট পাল্টে নতুন পথ বা কৌশল প্রয়োগ করে থাকে। তবে যেদিকে যেভাবেই ইয়াবার চালান বহন করুক র‌্যাবের গোয়েন্দারা সার্বক্ষণিক এ বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। সে কারণে চোখে পড়ার মতো ইয়াবা চালান আটকও হচ্ছে। তিনি বলেন, র‌্যাব সবসময়ই মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করে যাচ্ছে। বিপুলসংখ্যক র‌্যাব সদস্য করোনা আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও অভিযান বন্ধ রাখা হয়নি। বরং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গত এক বছরে করোনার মধ্যেও র‌্যাবের মাদকবিরোধী অনেক সাফল্য রয়েছে। বিশেষ করে ২০১৯ সালের চেয়ে ২০২০ সালে মাদকবিরোধী ২০ শতাংশ বেশি সাফল্য রয়েছে। অন্য যেকোনো বাহিনীর তুলনায় র‌্যাবের মাদকবিরোধী ভূমিকা অনেক বেশি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) চট্টগ্রামের অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মুজিবুর রহমান পাটোয়ারী সময়ের আলোকে বলেন, করোনার মধ্যেও ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকের বেশ প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। এর মূল কারণ ইয়াবার চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। চাহিদা বাড়ার কারণে ইয়াবার সরবরাহ বাড়ছে।
চাহিদা কেন বাড়ছেÑ এ প্রসঙ্গে ডিএনসির এই কর্মকর্তা বলেন, মহামারি করোনার প্রেক্ষাপটে অনেকেই বদ্ধ পরিবেশে সময় পার করছে। ঘরবন্দি বা কাজকর্ম কমে যাওয়ায় যুবসমাজের বড় একটি অংশের মধ্যে হতাশা ও অবসাদ বিরাজ করছে। সেখান থেকেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনেকেই ইয়াবাসহ নানা মাদকের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবার ও সমাজের বড় ধরনের ভূমিকা রাখা জরুরি।
এ প্রসঙ্গে সামাজিক অপরাধ বিশ্লেষক এবং ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক সময়ের আলোকে বলেন, ইয়াবাসহ মাদক এখন সমাজের সবচেয়ে বড় ব্যধিতে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে মহামারি করোনা প্রেক্ষাপটে সব কিছুতেই এক ধরনের স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে। সেখানে একশ্রেণির উঠতি বয়সি নানা ধরনের হতাশা বা কৌতুহলে ইয়াবাসহ মাদকে জড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি সহজলভ্যতার কারণেও অনায়াসে চাওয়ামাত্র তারা ইয়াবা পেয়ে যাচ্ছে। আকারে ছোট আবার দামও হাতের নাগালে, সব মিলিয়ে ইয়াবার বিস্তার ঘটছে ভয়াবহরূপে। তৌহিদুল হক বলেন, কেউ একজন ইয়াবা বা কোনো মাদকে ধাবিত হলে সবার আগে তার পরিবার টের পায়। তাই প্রথম দায়িত্ব পরিবারের। পরিবারের সন্তানটি কী করছে, কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছেÑ সেগুলোর প্রতি পরিবারের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মাদকবিরোধী ভূমিকার ক্ষেত্রে আরও কঠোর হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান সময়ের আলোকে জানান, গত ১ জানুয়ারি থেকে গত ৯ এপ্রিল পর্যন্ত এই তিন মাস ৯ দিনে র‌্যাবের অভিযানে ৩৫ লাখ ৭৯ হাজার ৪৩৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ১ হাজার ১৮৬ জনকে।
বিজিবি সদর দফতর সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে কক্সবাজারের উখিয়ার তুলাতুলী এলাকায় বিজিবির অভিযানে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। তার আগের রাতে তথা গত ৫ মে রাতে বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অভিযানে টেকনাফের লম্বাবিল এলাকায় ১০ হাজার ইয়াবা ও একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তার আগের দিন ৪ মে পালংখালীর ধামনখালী বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেড় লাখ পিস ইয়াবা আটক করেছে বিজিবি। টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় ২ মে বিজিবির অভিযানে আড়াই লাখ পিস ইয়াবা আটক হয়। বিজিবি সদর দফতর জানায়, গত এপ্রিল মাসে সারা দেশে বিজিবির অভিযানে কেবল ইয়াবা আটক হয়েছে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ২৭৬ পিস। কেবল গত ৭ এপ্রিল এক দিনেই ৩৪ বিজিবির অভিযানে কক্সবাজারের রেজুপাড়া বিওপি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪ লাখ ইয়াবা আটক করে বিজিবি। এ ছাড়া কেবল কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় গত ১ জানুয়ারি থেকে গত ৮ এপ্রিল পর্যন্ত তথা তিন মাস আট দিনে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১৪ লাখ ২৯ হাজার ৯২৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। ওইসব ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় ১০৭ জনকে। এ রকমভাবে প্রায়ই ইয়াবার বড় বড় চোরাচালান আটক হচ্ছে বলে জানা যায়। এসব অভিযান চালাতে গেলে অনেক সময় বিজিবির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটাচ্ছে মাদক কারবারিরা।
ইয়াবা প্রতিরোধে বিজিবির পদক্ষেপ : বিজিবির পরিচালক (অপারেশন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক টহল পরিচালনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিজিবির নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসব চেকপোস্টে বর্তমানে ‘ডগ’ দিয়ে মাদক তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি টহল তৎপরতা, গোয়েন্দা নজরদারি ও নাফ নদে টহল সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সার্ভিল্যান্স সিস্টেমের ক্যামেরা দ্বারা দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ এবং হাইস্পিড বোট দিয়ে নাফ নদে টহলের মাধ্যমে ইয়াবা পাচার প্রতিরোধ করা হচ্ছে। আটক করা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুনরায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সফলতাও অর্জিত হচ্ছে। অন্যদিকে ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সহায়তা অতি সীমিত হওয়ায় আগের তুলনায় অধিক সংখ্যক সোর্স বৃদ্ধি করা হয়েছে।









সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]