ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৬ জুন ২০২১ ১ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ১৬ জুন ২০২১

খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রা
এয়ার অ্যাম্বুলেন্স না চার্টার্ড বিমান সিদ্ধান্ত নেবে মেডিকেল বোর্ড
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: শনিবার, ৮ মে, ২০২১, ১০:৪৮ পিএম আপডেট: ০৮.০৫.২০২১ ১:২০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 80

‘ম্যাডামের ঘুম হচ্ছে এখন। অস্থিরতা আগের চেয়ে একটু কমেছে। ঘুম থেকে মাঝেমধ্যে ওঠেন। আবার চা ও তরল কিছু খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। শুক্রবারও উনার একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। একটি বাদে সব কয়টির রেজাল্ট সন্তোষজনক এসেছে। অক্সিজেনের মাত্রা ছিল ৯৭।’ সময়ের আলোকে শুক্রবার রাত ৯টায় মেডিকেল বোর্ডের একজন চিকিৎসক এভাবে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সবশেষ অবস্থার বর্ণনা দেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি নেই। শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত অবস্থার অবনতিও হয়নি তার।
শুক্রবার বিকালে আরেকজন চিকিৎসক সময়ের আলোকে জানান, মূলত সিসিইউতে বুধবার শ^াসকষ্ট বৃদ্ধি পায় বিএনপি চেয়ারপারসনের। এতে ফুসফুসে পানি বৃদ্ধি পায় খালেদা জিয়ার। এটাকে কমিয়ে দেওয়ার পর এখন মোটামুটি ভালো আছেন। তাও রোজ তিন থেকে চার লিটার অক্সিজেন সাপোর্টের প্রয়োজন হচ্ছে অসুস্থ বিএনপি প্রধানের। এটাকে পুরোপুরি স্থিতিশীল বলা যাবে না বলে মেডিকেল বোর্ড মনে করে।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসক গঠিত মেডিকেল বোর্ডের এই চিকিৎসক বলেন, উনি কনসার্ন। মুখে খাচ্ছেন। সবই ঠিক আছে তবে ওভারওল ‘হার সিচুয়েশন ইজ গ্লোমি।’ বয়স্ক মানুষ। আগে থেকেই মাল্টিপুল প্রোব্লেম আছে উনার। তাই পোস্ট কোভিডের নানা ধকল যাচ্ছে।
শুক্রবার জুমার আগে দশ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড ‘ফলোআপ বৈঠক’ করেন। এতে সিদ্ধান্ত হয়েছে অপ্টিমাম (পর্যাপ্ত) ইম্প্রুভ না হওয়া পর্যন্ত সিসিইউতেই রাখা হবে।
খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমত বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে মেডিকেল বোর্ড পরামর্শ দিয়েছে উনি হাইয়ার সেন্টারে ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন। হাইয়ার সেন্টার বলতে বিদেশে চিকিৎসাকেই বোঝানো হচ্ছে। এখন ট্রান্সপোর্টটা যেহেতু বাই এয়ার তাই একটা বড় ঝুঁকি থেকেই যায়। এটা নির্ভর করছে উনি যখন অনুমতি পাবেন ও সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে তখন তার শারীরিক অবস্থার (ফিটনেস) ওপর। মূলত যারা নিয়ে যাবেন অর্থাৎ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে যারা ক্যারি করেন, তারা কিছু প্রটোকল মেনে নেবেন। আমরা আপাতত বলছি, এই মুহূর্তে খালেদা জিয়ার এয়ার ট্রাভেল ঝুঁকিপূর্ণ হবে।
এরপর খালেদা জিয়া এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে যাবেন নাকি চার্টার্ট বিমানে যাবেনÑ এ সিদ্ধান্ত মেডিকেল বোর্ড থেকে আসবে। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সেনসেটিভ ব্যাপার আছে যোগ করেন বোর্ডের এই সদস্য। এই চিকিৎসক বলেন, দেখুন চিকিৎসার অংশটা শুধু আমাদের। উনার যা সমস্যা হচ্ছে, সে অনুযায়ী তার পরিবারকে অ্যাড্রেস করছি।
এদিকে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ড তাকে বিদেশে চিকিৎসা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরপরই সরকারের কাছে আবেদন করে পরিবার। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে লিখিত আবেদনটি আছে আইনমন্ত্রীর হাতে। তিনি সময়ের আলোকে জানিয়েছেন, করোনা আক্রান্ত খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারে শনিবার সিদ্ধান্ত হবে। শুক্রবার বিকালে তিনি এ তথ্য জানান। খালেদা জিয়ার ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত হতে পারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, কী সিদ্ধান্ত হবে সেটা শনিবারই জানা যাবে।
এর আগে, আবেদন করার পরপরই বুধবার রাতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রার আবেদনের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট নবায়ন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে সময়ের আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী এবিএম আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, পাসপোর্ট নবায়নের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে তবে আমরা এখনও হাতে পাইনি। আমাদের বলা হয়েছে, যেকোনো সময় পাসপোর্ট আমাদের হাতে দেওয়া হবে। পাসপোর্ট রেডি আছে।
ভিসার জন্য আবেদন করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা তাদের পরিবারের সিদ্ধান্ত। তবে বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত সরকারের অনুমতি পাওয়া যায়নি। অনুমতি পেলে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। বেগম জিয়া এখনও সিসিইউতে আছেন, মেডিকেল বোর্ড পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। স্থিতিশীল আছে, দোয়া চেয়েছেন সাত্তার।
এদিকে শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমে ব্রিফ করে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এজেএম জাহিদ হোসেন বলেন, বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে আবেদন করা হয়েছে, সরকারের এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে। অনুমতি দেওয়ার বিষয় সরকারের।
তিনি বলেন, স্বনাম চিকিৎসকদের দিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অধীনে বেগম জিয়া চিকিৎসা নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার যেমন ছিলেন শুক্রবার তেমনই আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। জাহিদ বলেন, সরকারের অনুমতির জন্য ওনার পরিবার অবেদন করেছেন। সরকার অনুমতি দিলে বেগম জিয়াকে বিদেশ নিতে সিদ্ধান্ত নেবে তার মেডিকেল বোর্ড।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]