ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৬ জুন ২০২১ ১ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ১৬ জুন ২০২১

সব সিগারেট ব্র্যান্ডে অভিন্ন করভার আরোপের প্রস্তাব
তামাকপণ্য ব্যবহারে বছরে মৃত্যু ১ লাখ ২৬ হাজার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১, ১১:১৫ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 23

নিজস্ব প্রতিবেদক
তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার মানুষ অকাল মৃত্যুবরণ করে। এক গবেষণার ফলে দেখা গেছে, তামাক ব্যবহারে বছরে অর্থনৈতিক ক্ষতির (চিকিৎসা ব্যয় এবং উৎপাদনশীলতা হারানো) পরিমাণ ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা, যা তামাক খাত থেকে অর্জিত রাজস্ব আয়ের (২২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা) চেয়ে অনেক বেশি। এ অবস্থায় সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম আরও বৃদ্ধির পাশাপাশি সব ব্র্যান্ডের সিগারেটের ওপর অভিন্ন করভার আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স-আত্মার যৌথ উদ্যোগে ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে তামাক কর ও মূল্য পদক্ষেপ : বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক ভার্চুয়াল গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে এমনটিই সুপারিশ করেছেন সংসদ সদস্য, অর্থনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সোমবার ভার্চুয়াল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রজ্ঞার পক্ষ থেকে তামাক কর বিষয়ক ‘বাজেট প্রস্তাব ২০২১-২২’ তুলে ধরে বলা হয়, এই বাজেট প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে প্রায় ১১ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী ধূমপান ছেড়ে দিতে উৎসাহিত হবে, ৩ লাখ ৯০ হাজার বর্তমান ধূমপায়ী এবং ৪ লাখ তরুণের অকালমৃত্যু রোধ হবে এবং সিগারেট থেকে সম্পূরক শুল্ক, স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ এবং ভ্যাট বাবদ অতিরিক্ত ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে।
এতে বলা হয়, করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে দেশের স্বাস্থ্য খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থার মধ্যে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করবে। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অধূমপায়ীর তুলনায় ধূমপায়ীর কোভিড-১৯ সংক্রমণে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। সে অনুযায়ী বর্তমানে দেশে প্রায় ৪ কোটি তামাক ব্যবহারকারী মারাত্মকভাবে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
কার্যকরভাবে করারোপের মাধ্যমে তামাকপণ্যের দাম বাড়ালে তরুণ জনগোষ্ঠী তামাক ব্যবহার শুরু করতে নিরুৎসাহিত হয় এবং বর্তমান তামাক ব্যবহারকারী বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী তামাক ছাড়তে উৎসাহিত হয়। তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে সিগারেটসহ সব তামাকপণ্যে সুনির্দিষ্ট করারোপের মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে।
গোলটেবিল বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি বলেন, আমরা প্রতিবছরই সরকারের কাছে দাবি জানাই তামাকের কর বাড়ানোর জন্য; কিন্তু বাজেটে তার প্রতিফলন দেখি না। আমাদের সংবিধানে বলা আছে, প্রজাতন্ত্রের মালিক হচ্ছে জনগণ আর রাষ্ট্রের অন্যতম প্রাথমিক দায়িত্ব হচ্ছে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন। সুতরাং প্রধানমন্ত্রী ভেবেচিন্তেই তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যারা এই ঘোষণার অন্তরায় হিসেবে কাজ করছেন তাদের চিহ্নিত করতে হবে।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, তামাকের দাম বাড়ানো হলে গরিব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এনবিআরের এই বক্তব্য খুবই হতাশাজনক। বরং তামাকপণ্যের দাম বাড়ানো হলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। তিনি এ বছরের তামাক কর বিষয়ক বাজেট প্রস্তাব সমর্থন করে তামাকের রফতানি শুল্ক পুনর্বহালেরও দাবি জানান।
বাসসের চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, আমি আশা করি এবারের বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে যারা যুক্ত আছেন তারা তামাকপণ্যের কর বৃদ্ধির এই দাবি কিছু না কিছু পূরণ করবেন। পাশাপাশি তিনি নতুন প্রজন্মকে তামাক থেকে দূরে রাখার জন্য পাঠ্যক্রম এবং সহশিক্ষা পাঠ্যক্রমে তামাকের কুফল অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, কর বৃদ্ধি করে সিগারেটের সহজলভ্যতা যদি কমানো যায় তা হলে বিশেষ করে যারা দরিদ্র মানুষ তারা এই অর্থ পুষ্টিকর খাবারসহ অন্যান্য প্রয়োজনে ব্যয় করতে পারবে। তিনি তামাক নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন যেখানে কর বৃদ্ধির পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন বাস্তবায়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন আহমদ বলেন, তামাক কর বিষয়ক বাজেট প্রস্তাব বাস্তবায়নে বড় বাধা হিসেবে কাজ করে বিএটিবিতে সরকারের অংশীদারিত্ব এবং এনবিআরে তামাক কোম্পানির প্রভাব। আগামী বাজেটে তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি তামাক কোম্পানিতে সরকারের প্রতিনিধিত্ব প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং টিভি টুডের এডিটর ইন চিফ মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বেশি কাজ করতে হবে। কিন্তু সেটি আমরা দেখছি না। এ বিষয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। দৈনিক প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, বিড়ি-সিগারেট ব্যবহারের কারণে লোকজন অসুস্থ হয়, চিকিৎসা ব্যয় বাড়ে, এ কারণে দারিদ্র্য আরও বাড়েÑ এ বিষয়ে বেশি প্রচারণা এবং সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করতে হবে।
আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রজ্ঞার তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক প্রকল্প প্রধান হাসান শাহরিয়ার। এ ছাড়া গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন আত্মার কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং তামাকবিরোধী সংগঠনের নেতারা।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]