ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৬ জুন ২০২১ ১ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ১৬ জুন ২০২১

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট
আসছে ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার এডিপি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১, ১১:১৫ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 21

নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে আসছে ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন বাজেট বা এডিপি। মহামারি করোনার মধ্যে অনেক উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হলেও এডিপির আকার বাড়ানো হলো চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির চেয়ে ৯ শতাংশ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, করোনা প্রতিরোধে প্রস্তাবিত এডিপিতে এবারও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষি খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলসহ মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ অব্যাহত থাকছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার কমিশনের বর্ধিত সভায় খসড়া এডিপি চূড়ান্ত করা হয়। শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এ সভা। কমিশনের কর্মকর্তারা বলেন, ঈদের পর জাতীয় অর্থনেতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় খসড়া এডিপি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে। আগামী ১৮ বা ২০ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এনইসি সভা হতে পারে। দেশের উন্নয়ন বাজেট বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বড় দুর্বলতা বাস্তবায়নের সক্ষমতার অভাব। প্রতিবছর বাজেটে যা বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা খরচ করতে পারে না মন্ত্রণালয়গুলো। অদক্ষতা, দুর্নীতি ও যথাসময়ে কাজ শুরু না করতে পারাই এর কারণ বলে অভিযোগ রয়েছে অর্থনীতিবিদদের। এ কারণে অর্থনীতিবিদরা সবসময় বাস্তবায়নযোগ্য এডিপি করার তাগিদ দিয়ে এর গুণগত ব্যয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সারা দেশের জনপ্রতিনিধিদের চাহিদা অনুযায়ী এডিপিতে প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ কারণে অর্থনীতিবিদদের পক্ষ থেকে টেকসই উন্নয়নে মানসম্মত প্রকল্পের জোরালো তাগিদ থাকলেও অনেক সময়েই রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্প নেওয়া হয়। যে কারণে উন্নয়ন বাজেটের গুণগত ব্যয় নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে। এবার ভোট নেই বলে প্রকল্প বাছাইয়ে জনপ্রতিনিধিদের চাপও তেমন নেই। তবে আছে জীবনঘাতী করোনাভাইরাস। পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, এজন্য নতুন এডিপিতে স্বাস্থ্য খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নতুন এডিপিতে বরাবরের মতো এবারও দেশীয় উৎস থেকে বেশি সম্পদের জোগান দেওয়া হচ্ছে। ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৬১ শতাংশ। অবশিষ্ট ৩৯ শতাংশ বা ৮৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা আসবে বিদেশি উৎস থেকে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এডিপিতে মূল বরাদ্দের বাইরে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১১ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা যুক্ত থাকছে।
যে অর্থবছরটি শেষ হতে যাচ্ছে তাতে মূল এডিপির আকার ২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা। সম্পদের সীমাবদ্ধতার প্রেক্ষাপটে তা সংশোধন করে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। করোনার প্রাদুর্ভাবে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ায় গত অর্থবছরে এডিপির মাত্র ৭৯ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়, যা এ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। করোনা-পরবর্তী অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর ফলে ধারণা করা হয়েছিল, উন্নয়ন কাজে গতি আসবে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, এডিপি বাস্তবায়নের হার বাড়েনি, বরং আগের চেয়ে কমেছে। চলতি অর্থবছরের ১০ মাস পার হলেও বাস্তবায়নের হার অর্ধেকও হয়নি। অর্থনীতিবিদরাও বলেছেন, করোনা সঙ্কটে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য হওয়া উচিত জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জনসচেতনতা সৃষ্টিতে মনোযোগ দেওয়া। এর পাশাপাশি কৃষিপণ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। এবারের এডিপিতে খাতভিত্তিক সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ থাকছে স্থানীয় সরকার বিভাগে ৩৪ হাজার কোটি টাকা। এর পরে রয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ২৮ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ থাকছে সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা। রেলে ১৩ হাজার ৬২০ কোটি টাকা।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]