ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৬ জুন ২০২১ ১ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ১৬ জুন ২০২১

খেলার সুযোগ পাচ্ছি, সেটাই বড়
প্রকাশ: বুধবার, ১২ মে, ২০২১, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 27

জাতীয় দলে তিনি এখন প্রায় ভুলে যাওয়া এক নাম। ২০১৮ সালের জুলাইয়ের পর বাংলাদেশের হয়ে আর খেলতে দেখা যায়নি কামরুল ইসলাম রাব্বিকে। চলমান করোনা মহামারির কারণে আবার ঘরোয়া ক্রিকেটের আসরগুলোও ঠিকঠাক হচ্ছে না। তাতে বেশ বিপাকে পড়েছেন পেশাদার ক্রিকেটাররা। এমতাবস্থায় ঈদের পর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ শুরু হতে যাচ্ছে, অন্যদের মতো এতে ভীষণ খুশি কামরুলও। মহামারির মধ্যেও মাঠে ক্রিকেট খেলার সুযোগ, এটাকে বড় পাওয়া হিসেবেই দেখছেন ডানহাতি এই পেসার। রাজু আহাম্মেদকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরও অনেক বিষয়েই কথা বলেছেন কামরুলÑ

 ঈদের পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরু হচ্ছে, এই করোনাকালে বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন?
কামরুল : ঈদের পরই শুরু হচ্ছে লিগ, এটা আমাদের জন্য সব থেকে খুশির সংবাদ। বিসিবিকে আবারও ধন্যবাদ, তারা একটা উদ্যোগ নিয়েছে। সবার কাছে দোয়া চাই, আশা করব করোনা পরিস্থিতি যেন আর খারাপ না হয়। যেন ভালোর দিকে যায়। আমরা যেন আবার সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে মাঠে ফিরতে পারি।
 বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মধ্যেই লিগ ফিরছে, নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে ক্রিকেটারদেরও। সব মিলিয়ে আপনার প্রস্তুতি কেমন?
কামরুল : আলহামদুলিল্লাহ, প্রস্তুতি ভালোই। জাতীয় দল যখন শ্রীলঙ্কাতে ছিল, তখন আমাদের জন্য বিসিবি মিরপুরে অনুশীলনের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। তাই বিসিবিকে ধন্যবাদ জানাই, তারা আমাদের জন্য ভালো একটা সুযোগ করে দিয়েছে, উইকেট দিয়েছে ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলন করার জন্য। যেটা আমাদের অনেক কাজে দিয়েছে। আমরা বেশ কয়েকজন এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অনুশীলন করছি।
 মহামারির মধ্যে খেলতে হবে জৈব-সুরক্ষা বলয়ে থেকে। চাইলেও বাইরে বের হওয়া যাবে না, পরিবার থেকে দূরে থাকতে হবে, বন্দি থাকতে হবে। এর সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে পারফর্ম করা কঠিন কি নাÑ
কামরুল : জৈব-সুরক্ষা বলয়ে যারা থাকে তারা কিন্তু একে অন্যের সঙ্গে দেখা করতে পারে। এ ওর রুমে যায়। সবাই একসঙ্গে গল্প-গুজব করে। একসঙ্গে খেতে যায়। টিভিতে খেলা হলে, ক্রিকেট কিংবা ফুটবলÑ একসঙ্গে বসে দেখা যায়। অনেকেই আবার সঙ্গে করে গেমস নিয়ে যায়। আসলে সময়টা নানাভাবে পার হয়ে যায়। আসল কথা হচ্ছে, আমরা যেহেতু পেশাদার ক্রিকেটার, দিন শেষে হাতে টাকা আসাটা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ঘর-সংসার এই টাকাতেই চলে। তাই মুক্ত থাকি কিংবা বন্দি, খেলার সুযোগ যে হচ্ছে, সেটাই সব থেকে বড় পাওয়া। বন্দিদশায় একটু খারাপ হয়তো লাগে। তবে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়, ভিডিও কলে কথা বলা যায়। সব মিলে আসলে খুব বেশি সমস্যা হয় না।
 বোলিংয়ে উন্নতি ঘটাতে বাড়তি কোনো কাজ করছেন কি না?
কামরুল : টেস্ট ক্রিকেটে লাইন-লেংথ আর সুইয়ের ক্ষেত্রে আলাদা ব্যাপার থাকে। সামনে তো টি-টোয়েন্টি (প্রিমিয়ার লিগ এবার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেই হবে)। যে কারণে সেভাবেই পরিকল্পনা সাজাচ্ছি, প্রস্তুতিও নিচ্ছি। একটা দলে খেলব, টাকা নেব, সেই দলটাকে তো কিছু দিতে হবে। এখন তাই ইয়র্কার, ওয়াইড-ইয়র্কার, অফকাটার আয়ত্ব করছি। আইপিএলসহ অন্য আন্তর্জাতিক মাচগুলোতে সফল হতে বোলাররা কি করছে, সেসব দেখেই তৈরি হচ্ছি।
 অনেকদিন জাতীয় দলের বাইরে আছেন। আপনার কী মনে হয়, কেন ডাক পাচ্ছেন না?
কামরুল : আমি যে কেন জাতীয় দলে থেকে বাদ পড়েছি, তা নিজেই জানি না। আমি কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে সবসময়ই ভালো খেলে যাচ্ছি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পারফর্ম করার জন্য কিছুটা বাড়তি সময় দরকার, আমি হয়তো আর একটু সময় পেলে আরও ভালোভাবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারতাম। সবাই কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে না, আমার ক্ষেত্রেও তেমনই হয়েছে। আমি একটা সিরিজ ভালো খেললাম নিউজিল্যান্ডে গিয়ে। এরপর ভারত সিরিজে গিয়ে যখন ভালো করতে পারলাম না, তখন প্রায় এক বছর দলের বাইরে ছিলাম। আবার হঠাৎ করে আমাকে ডাকা হলো, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটো ম্যাচ খেলানোর পর ফের বাদ দিয়ে দিল। আসলে আমাকে নিয়ে পরিকল্পনাটা যে কি, সেটাই বুঝে উঠতে পারিনি।
 এখন নতুনরা নিজেদের প্রমাণের বেশি সুযোগ পাচ্ছেন, এ ক্ষেত্রে নিজেকে কি কিছুটা দুর্ভাগা মনে হয়?
কামরুল : এখন কিন্তু সবাই সিরিজ পাচ্ছে, খারাপ খেলুক আর ভালো খেলুক। আমি কিন্তু সেভাবে সুযোগটা পাইনি। প্রথম টেস্টে ১৩ ওভার বল করে একটি উইকেট নিলাম। দ্বিতীয় টেস্টে তো বোলিংয়েরই সুযোগ পেলাম না। এমন ছিল আমার প্রথম দুই টেস্টের অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশের কন্ডিশন তো সবারই জানা, স্পিনাররাই প্রাধান্য পায়। এরপর নিউজিল্যান্ড সফরে গেলাম, সেখানে কিন্তু দারুণ খেলেছি। ৭ উইকেট নিয়েছি। এরপর ভারতে খারাপ করার পরও শ্রীলঙ্কা সফরে ছিলাম, কিন্তু খেলারই সুযোগ দেওয়া হলো না। এরপর তো বাদই পড়ে গেলাম। এখন অনেককেই সময় দেওয়া হচ্ছে, তাদের পারফরম্যান্সও ভালো হবে আশা করি। টেস্ট দলটা সেট হচ্ছে, এটা খুব ভালো দিক। ওদের দলে রেখে তৈরি করা হচ্ছে। দুই-তিন বছরে এরাই ভালো খেলোয়াড় হিসেবে তৈরি হয়ে যাবে। আমরা এই সুযোগ পাইনি।
দুর্ভাগা তো অবশ্যই। খারাপও লাগে। কারণ সুযোগ পাওয়ার মতোই পারফরম্যান্স আমার। জাতীয় লিগে টপ উইকেটেকার হয়েছি, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও। বিপিএল বলেন কিংবা অন্য কোনো টুর্নামেন্ট, সব জায়গায় সব ফরম্যাটেই পারফর্ম করেছি। এখন তো দুয়েকটা ম্যাচে ভালো খেলেই কেউ কেউ জাতীয় দলে ঢুকে যাচ্ছে। জাতীয় দলে খেলার জন্য আমরা সাত-আট বছর অনেক কষ্ট করেছি। এরপরও জায়গাটা ধরে রাখতে পারলাম না। খারাপ লাগে। দিন শেষে একটাই কথা, তকদিরের বাইরে তো যেতে পারব না। সেখানেই সান্ত¦না খুঁজি।
 জাতীয় দলে ফেরার তাড়না অনুভব করেন কি না?
কামরুল : বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়েছি, সেটাও অন্যদের থেকে তিন ম্যাচ কম খেলে। এমন পারফরম্যান্সের পর অন্তত ৩০ জনের প্রাথমিক স্কোয়াডে তো থাকার আশা করতেই পারি। সেখানেও যখন সুযোগ হচ্ছে না, তার মানে হয়তো আমি পরিকল্পনাতেই নেই। ঘরোয়া প্রতিযোগিতাগুলোতে সেরা পাঁচ বোলারদের মধ্যে আমাকে পাবেন, সেটাও যথেষ্ট হচ্ছে না। এরপরও যেখানেই খেলি, ভালো খেলতে চেষ্টা করি। বাকিটা নির্বাচকদের ব্যাপার।
 এই বিধিনিষেধের মধ্যে খুশির ঈদÑ
কামরুল : আলাদা কিছু নেই। আমার আত্মীয়-স্বজন আছেন, তাদের কারও কারও সঙ্গে হয়তো দেখা-সাক্ষাৎ হবে। আমি আর আমার বউ ঢাকায় থাকি, বাইরে তো বেশি যাওয়া যাবে না। তা ছাড়া ঈদের পরই খেলা। তাই সতর্ক থাকতেই হবে। কোনোভাবেই যেন সংক্রমিত না হই। সতর্ক থেকে চলাফেরা করতে হবে। এটাই পরিকল্পনা। লিগকে সামনে রেখে বিসিবি থেকেও কিছু বিধিনিষেধ দেওয়া আছে। জৈব-সুরক্ষা বলয়ে ঢুকতে হলে অন্তত দুটো করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ হতে হবে।








সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]