ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১ ৩ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১

অবশেষে গ্রেফতার বাবুল আক্তার
বাদী স্বামী হচ্ছেন আসামি
বিশেষ প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: বুধবার, ১২ মে, ২০২১, ১২:০০ এএম আপডেট: ১২.০৫.২০২১ ১:৫০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 710

স্ত্রী হত্যায় শেষ পর্যন্ত নাটেরগুরু হিসেবে মুখোশ খুলে গেল সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের। পাঁচ বছর আগে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে ছোট্ট সন্তানের সামনে নৃশংসভাবে খুন হওয়া আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডে তার স্বামী বাবুল আক্তারকে মঙ্গলবার চট্টগ্রামে পিবিআই তাকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাকে গ্রেফতারের কথা এড়িয়ে গেলেও পুলিশ সদর দফতরের নির্ভরযোগ্য সূত্র সময়ের আলোকে বাবুল আক্তারের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যদিও মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকেও তদন্ত সংস্থা পিবিআই প্রধান বনজকুমার মজুমদার বলেছেন, ‘আদালতের নির্দেশনা অনুসারে বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর বেশি এখন কিছু বলা যাবে না।’

জানা গেছে, বাবুল আক্তার মিতু হত্যা মামলার বাদী হওয়ায় আইনগত কারণে তাকে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে না। ফলে আজ বুধবার আদালতে হাজির করে তদন্ত প্রতিবেদন জমাসহ বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার দেখাতে অনুমতি চাওয়া হবে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের পিবিআইর স্থানীয়  একাধিক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের মনসুরাবাদ পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমাসহ পিবিআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়। বিকালে বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের খবর জানা গেলেও সন্ধ্যার পরপরই তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি জানা যায়। কিন্তু এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পিবিআই থেকে ‘অফিসিয়ালি’ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তাসহ দায়িত্বশীল অনেক কর্মকর্তাও ফোন বন্ধ করে দেন। তবে বাবুল আক্তারের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রামে তৎকালীন প্রভাবশালী এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতুকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেটির ভিডিওফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। ঘটনার দিন এসপি বাবুল ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। সদ্যপদোন্নতি পাওয়ার পর সেদিন তার পুলিশ সদর দফতরে তার যোগদানের কথা ছিল। বাবুল আক্তার একজন চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছিলেন। ২৪ বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে ২০০৫ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়া বাবুল আক্তার জঙ্গিবিরোধী বিভিন্ন সফল অভিযানেও নেতৃত্ব দেন। দীর্ঘদিন পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় কাজ করেন তিনি। ফলে তার স্ত্রী মিতু হত্যার পরই সবার সন্দেহ ও নজর পড়ে জঙ্গিদের দিকে। এ ঘটনায় চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত আনোয়ার, মোতালেব, এহতেশামুল হক ভোলা, মনির, মাজারের খাদেম আবু নছর ওরফে গুন্নু ও শাহজাহান ওরফে রবিন নামে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। ওই সময় পুলিশ জানায়, স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী কিলার মুছার নেতৃত্বে হত্যায় অংশ নেয় ওয়াসিম, আনোয়ার, মো. রাশেদ, নবী, মো. শাহজাহান ও মো. কালু। বলা হয়, মিতু হত্যার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছা ও কালু। তারা দুজনেই পলাতক। অস্ত্র সরবরাহ করে এহতেশামুল হক ভোলা। মুছাকে ধরিয়ে দিতে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণাও করে পুলিশ। যদিও মুছার পরিবারের দাবি, তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার বছরই তথা ২০১৬ সালের ৪ জুলাই মিতু হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা নবী ও রাশেদ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ক্রসফায়ারে নিহত হয়। ঘটনার পর ধীরে ধীরে সন্দেহের তালিকায় চলে আসেন সাবেক এসপি বাবুল। ওই বছরের ২৪ জুন ঢাকায় ডিবির কার্যালয়ে বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর চাকরি থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। চাকরি ছেড়ে বাবুল আক্তার অনেক দিন নিভৃতে কাটাচ্ছিলেন। এ মামলার বাদীও বাবুল আক্তার। তবে ঘটনার সঙ্গে বাবুল আক্তারের জড়িত থাকার বিষয়ে দৃঢ়ভাবে অভিযোগ করতে থাকেন মিতুর বাবা সাবেক ওসি মোশাররফ হোসেন। তিনি দাবি করে আসছিলেন, বাবুল আক্তারের পরিকল্পনায় ও নির্দেশে তার মেয়ে মিতুকে খুন করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ৩ বছর পর তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।

যেভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটল : ২০১৬ সালের ৫ জুন সকাল। ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে বাসার অদূরে গিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ের কাছে ওআর নিজাম রোডে যান মিতু। ঠিক এ সময় চারদিক থেকে ছুরিকাঘাত ও গুলি চালানো হতে থাকে মিতুর ওপর। সন্তানের সামনেই রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন মিতু। দিনের বেলায় জনসমুক্ষেই নির্মমভাবে খুন হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু। এ ঘটনার পর ঢাকা থেকে ফিরে বাবুল আক্তার অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন।

জানা গেছে, মিতু হত্যার ২১ দিন পর ২৬ জুন গ্রেফতারকৃত ওয়াসিম ও আনোয়ার আদালতে জবানবন্দি দেয়। এরপর বেরিয়ে আসে হত্যায় জড়িতদের তথ্য। জবানবন্দিতে তারা জানায়, মুছার নেতৃত্বে ওয়াসিম, আনোয়ার, মো. রাশেদ, নবী, মো. শাহজাহান ও মো. কালু হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে ছিল ওয়াসিম, মুছা ও নবী। মাহমুদাকে ছুরিকাঘাত করে নবী। অস্ত্র সরবরাহ করে এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা। তবে কী কারণে, কার নির্দেশে তারা হত্যায় অংশ নিয়েছে তা নিয়ে ওই সময় কোনো তথ্য দেয়নি তারা।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]