ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১ ৩ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১

নুসরাতের মামলা যে কারণে টিকছে না
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১২ মে, ২০২১, ৮:৩৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 10152

২৬ মার্চ গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে মারা যান মুনিয়া। তার মৃত্যুর পর ওই রাতেই (২৭ এপ্রিল ভোররাতে) বোন নুসরাত তানিয়া গুলশান থানায় একটি আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। এই  মামলাটির এজাহার গ্রহণ করেন গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল হাসান (পিপিএম)। এখন পর্যন্ত এই মামলার ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে, একাধিক কারণে এই মামলাটি অগ্রহণযোগ্য। মামলাটি শেষ পর্যন্ত টিকছে না।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মামলাটির এজাহারের ছত্রে ছত্রে অসংগতি এবং নানারকম ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এই অপমৃত্যুর মামলাটি সাজানো হয়েছে একজন বিশেষ ব্যক্তিকে ফাঁসানোর জন্য। হাতে লেখা ৫ পৃষ্ঠার এজাহারের শুরু থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের যে অসংগতিগুলো রয়েছে :

১. অবৈধ সম্পর্কে সমর্থন দিয়েছেন বোন : এই এজাহারের প্রথম পৃষ্ঠায় বলেছেন, ২০১৯ সালে তার বোনের সঙ্গে বসুন্ধরার এমডির সম্পর্ক হয় এবং তারা পরিচয়ের পর থেকে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে দেখা করেছেন, ফোনে কথা বলতেন এবং ২০১৯ সালে বোনকে স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে তারা বনানীতে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। প্রশ্ন উঠেছে সত্যি যদি বানানীতে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন, তাহলে সে সময় নুসরাত কেন বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ করেননি এবং তখন কেন এ বিষয় নিয়ে কোনো মামলা দায়ের করেননি। আর বসুন্ধরার এমডি কোনো সাধারণ নাগরিক নন। তিনি একজন স্বনামধন্য শিল্পপতি। তিনি বনানীতে একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া নিয়ে থাকবেন এটা বাংলাদেশের মিডিয়া, গণমাধ্যম, সাধারণ মানুষ কেউ জানবে না এটা কী করে হয়। কাজেই বনানীতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকার গল্পটি যে একেবারেই বাস্তবের সঙ্গে মেলে না, সেটি বুঝতে কোনো অসুবিধা হয় না।

২. মামলার এজাহারে আবার ২০২০-এর ঘটনা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এজাহারে বলা হয়েছে, তাকে ঢাকা থেকে চলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং এই কথা শুনে তিনি ঢাকা থেকে চলে যান। আবার প্রশ্ন আসে যে, যখন ঢাকা থেকে চলে যাওয়ার কথা বলা হলো, তখন নুসরাত কী করলো? মুনিয়া কী করলো? সে সম্পর্কে কোনো বিবরণ নাই। মামলার সবচেয়ে বড় অসংগতি পাওয়া যায়, যখন এজাহারে বলা হয়- মার্চের ১ তারিখে আসামি মুনিয়াকে প্ররোচিত করে আমার স্বামীর এনআইডি কার্ড দিয়ে বাসাভাড়া নিতে বলে, তখন মুনিয়া এবং আসামি ১৯ নং বাসা, রোড নং-১২০ ফ্ল্যাট বি-থ্রি ভাড়া নিয়ে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসেন। প্রশ্ন হলো এরকম একটি বেআইনি কাজ যখন হচ্ছে, তখন নুসরাত কী করলেন? নিজের এনআইডি অন্যের কাজে ব্যবহার করতে দেয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধের জন্য তিনি দণ্ডিত হতে পারেন, তিনি কী কারণে অবৈধ কাজের জন্য নিজের এনআইডি ভাড়া দিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

৩. এজাহারের ভাষ্যমতে, ২৩ এপ্রিল বসুন্ধরার এমডি ফোন করে হুমকি দেন মুনিয়াকে। আর মুনিয়া মারা যান ২৬ এপ্রিল। ২৩ এপ্রিল হুমকি দিয়ে যদি কেউ ২৬ এপ্রিল মারা যায়, তাহলে কি সেটি আত্মহত্যা প্ররোচনা হয়? এই তথাকথিত টেলিফোন আলাপের পরও মুনিয়া তার বোনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। এখন প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে যে, কে প্ররোচিত করেছে মুনিয়াকে? এটি যে বসুন্ধরার এমডি করেননি, মামলার এজাহার থেকেই তা পরিষ্কার হয়ে যায়। কারণ, ২৩ এপ্রিল যদি একজন মানুষের সঙ্গে কথা বলা হয়, সেই কথার কারণে ২৬ এপ্রিল যদি একজন মানুষ আত্মহত্যা করে, তার চেয়ে ‘আশ্চর্য আত্মহত্যা’ আর কী হতে পারে। কাজেই নুসরাতের মামলাটি এখন একটি খেলো মামলা হয়ে যাচ্ছে এবং এই মামলা যে বিশেষ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও এখন তা বুঝতে পারছেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]