ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৬ জুন ২০২১ ১ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ১৬ জুন ২০২১

ঈদের ৫ম দিনেও যাত্রী ও ছোট যানবাহনের চাপ
জীবিকার তাগিদে ঢাকায় ফিরছে মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ মে, ২০২১, ১১:০১ পিএম আপডেট: ১৯.০৫.২০২১ ১২:২৬ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 80

ঈদের পঞ্চম দিনেও ঢাকায় ফিরছে মানুষ। লকডাউনে আন্তঃজেলা দূরপাল্লার পরিবহন তথা বাস, ট্রেন ও লঞ্চ বন্ধ থাকায় ভিন্ন উপায়ে ঢাকায় আসছে মানুষ। জীবিকার তাগিদ আর চাকরি বাঁচাতে নানা ঝক্কি-ঝামেলা আর ভোগান্তির মধ্য দিয়ে তাদের ফিরতে হচ্ছে। মঙ্গলবার রাজধানীর সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, আমিন বাজার এলাকায় গিয়ে গ্রাম থেকে ঢাকায় ফেরা মানুষের চিত্র দেখা গেছে। স্বল্প দূরত্বের বাস, ট্রাক, মিনিট্রাক, সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেলে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ফিরছে মানুষ। এ ছাড়া ফেরিঘাটগুলোতে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ দেখা গেছে। তবে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক থাকায় ততটা ভোগান্তি হচ্ছে না।
গাবতলী ও আমিন বাজার এলাকায় দেখা যায়Ñ ফরিদপুর, যশোর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ বাস, ট্রাক, মাইক্রো, প্রাইভেটকার, অটোতে গাদাগাদি করে এসে আমিন বাজারে নামছে। সেখান থেকে হেঁটে গাবতলী হয়ে বিভিন্ন পরিবহনে করে রাজধানীতে ঢুকছে। অনেক ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ঢাকা ফিরতে হয়েছে বলে তারা জানায়। ঢাকায় ফেরার পাশাপাশি মঙ্গলবার অনেককে গ্রামের বাড়িতে যেতে দেখা গেছে। ঈদের সময় ঝামেলা থাকায় এখন যাচ্ছে বলে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। সাভার, মানিকগঞ্জ, পাটুরিয়া এলাকা থেকে আসা গণপরিবহনগুলো আমিন বাজার এসে যাত্রী নামিয়ে দিতে দেখা গেছে। তাদের রাজধানীর ভেতরে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে পুলিশ।
গাবতলীতে কথা হয় রাজশাহীর আলী আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, চাকরি বাঁচাতে দ্রুত ঢাকায় ফিরতে হয়েছে। বেশ কয়েকটি যানবাহনে ভেঙে ভেঙে গাবতলী পর্যন্ত আসতে হয়েছে। ভাড়াও দিতে হয়েছে কয়েকগুণ বেশি। রংপুর থেকে আসা রুবেল নামে এক নির্মাণ শ্রমিক বলেন, রাতের বাসে উঠে সকালে আমিন বাজার এসে নেমেছি। ১ হাজার ২০০ টাকা ভাড়া গুনতে হয়েছে। ঈদে ট্রাকে করে বাড়ি যাওয়ার সময় ৬০০ টাকা করে দিতে হয়েছিল।
যাত্রাবাড়ীতে কথা হয় কুমিল্লার কবির হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঈদের আগে অনেক কষ্টে বাড়ি গিয়েছিলাম। এবার ফিরতেও অনেক কষ্ট হয়েছে। বেশ কয়েকটি গাড়ি বদলে আসতে হয়েছে। তিনি বলেন, কুমিল্লা থেকে আসতে ৩০০ টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। কাদের নামে এক চা দোকানি বলেন, গুলিস্তানে ফুটপাথে চায়ের দোকান করেন। গ্রামের বাড়িতে সবাই থাকেন। তাই ঈদে না গিয়ে কোনো উপায় ছিল না। অনেক কষ্ট করে গ্রামের বাড়ি ফেনীর সোনাইমুড়ীতে গিয়েছি। তখন সবজির ট্রাক, সিএনজি অটো ও মোটরসাইকেলে করে বাড়ি গিয়েছিলাম। এবার ঢাকা ফিরতেও বেশ কয়েকটি গাড়ি পরিবর্তন করতে হয়েছে।
পোস্তগোলায় পোশাক কারখানার শ্রমিক খালেদা জানান, বাগেরহাট থেকে ফিরতে অনেক কষ্ট হয়েছে। বাস, সিএনজি অটো ও মোটরসাইকেলে করে ঢাকায় ফিরতে হয়েছে। ভাড়া দিতে হয়েছে কয়েকগুণ বেশি। গাড়ি পাওয়াও কষ্টকর ছিল। তিনি বলেন, মাওয়া পর্যন্ত আসতেই সবচেয়ে বেশি ঝামেলা হয়েছে। তবে মাওয়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত ফিরতে ঝামেলা হয়নি।
এদিকে মঙ্গলবারও ফেরিঘাটগুলোতে ঢাকামুখী মানুষ ও ছোট গাড়ির চাপ ছিল। তবে পর্যাপ্ত সংখ্যক ফেরি থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি হয়নি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা ছাড়াই নদী পার হতে পেরেছে এসব রুটের যাত্রীরা। তবে ফেরির অধিকাংশ যাত্রী স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গাদাগাদি করে ওঠানামা করেছে। অনেকের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। যাত্রীদের ভাষ্য, ফেরির পাশাপাশি লঞ্চ চলাচল করলে ভোগান্তি অনেকটা কমত।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]