ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৬ জুন ২০২১ ১ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ১৬ জুন ২০২১

অন্ধকার গাজায় পানির জন্য হাহাকার
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ মে, ২০২১, ১১:০১ পিএম আপডেট: ১৯.০৫.২০২১ ১২:৩৬ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 129

ইসরাইলি বোমা হামলায় ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম উন্মুক্ত কারাগারখ্যাত গাজা উপত্যকার বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ। সেখানকার মানুষের দিনের বেশিরভাগ সময় কাটছে অন্ধকারে। পানির জন্যও সৃষ্টি হয়েছে হাহাকার। পরিস্থিতি না বদলালে সেখানকার ২০ লাখ মানুষ ভয়ঙ্কর মানবিক সঙ্কটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক ইসরাইলি আগ্রাসন দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। গোলাবর্ষণে গাজায় ৬১ শিশুসহ অন্তত ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই হামলায় আহত হয়েছে ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি। অপরদিকে ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসের রকেট হামলায় ইসরাইলের দুই শিশুসহ দশজন নিহত হয়েছে। দুই পক্ষকেই অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশ। আরব নিউজ, ন্যাশনাল নিউজ, আল জাজিরা।
মূলত ফিলিস্তিনিদের বাড়ি ও ব্যবসায়িক ভবন লক্ষ করে হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। অবিরাম বোমাবর্ষণে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ২০ লাখ মানুষের মানবিক সঙ্কট আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গাজা শহরের মেয়র ইয়াহিয়া আল সররাজ জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে জরুরি সেবা বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তা, বিদ্যুৎ সংযোগ ও পানির লাইন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাধারণ জনগণের পানির সরবরাহ সীমিত হয়ে গেছে।
মেয়র ইয়াহিয়ার অভিযোগ, ইসরাইল ইচ্ছা করে অবকাঠামো লক্ষ করে বোমা হামলা চালাচ্ছে, রাস্তা ধ্বংস করছে। এতে করে আহতদের হাসপাতালেও নেওয়া যাচ্ছে না। ‘গাজা উপত্যকার একমাত্র পানি পরিশোধন কেন্দ্র ইসরাইলের বোমা হামলায় বন্ধ হয়ে গেছে। আশপাশের এলাকাতে হামলার কারণে কোনো কর্মীও ত্রুটি সারাতে যেতে পারছে না। এ ছাড়া বারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে পানি উত্তোলনও ব্যাহত হচ্ছে।’ জিয়াদ শেখ খলিল নামে ৪৪ বছর বয়সি এক ফিলিস্তিনি ব্যাটারি দিয়ে ঘরে আলো জ্বেলে রেখেছেন। বাড়িতে তার স্ত্রী ও চার সন্তান। যে অল্প সময় বিদ্যুৎ থাকে, সেটা দিয়েই ব্যাটারি চার্জ দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। খলিল বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই। যখনই বিদ্যুৎ আসে তাড়াতাড়ি করে আমরা সবাই মোবাইল চার্জ দিতে ব্যস্ত হয়ে যাই। পাম্প দিয়ে পানিও তোলা হয় সবার জন্য।’
তবে পানির সরবরাহ কম থাকায় এবং বিদ্যুৎ বেশিক্ষণ না থাকায় পর্যাপ্ত পানি তুলতে পারছে না খলিলের পরিবারের মতো অনেকেই।
বিগত বছরগুলোতে বিদ্যুৎ সঙ্কটেই কাটিয়েছে গাজা উপত্যকা। সম্প্রতি তা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জ্বালানির অভাব ও বিদ্যুৎকেন্দ্র বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াতেই এই সঙ্কট। গাজার বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র মোহাম্মদ থাবেত জানান, শহরের ১০টি বিদ্যুৎ সংযোগের ছয়টিই বন্ধ হয়ে গেছে। সরবরাহ কমে গেছে অর্ধেকেরও বেশি। তিনি বলেন, ‘কয়েকটি সীমান্তবর্তী এলাকায় তো বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ। ফলে সেখানেও পানি সঙ্কট তীব্র। ফিলিস্তিনি পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ইসরাইলি বিমান হামলায় গাজার ২০ লাখ মানুষের জন্য পানি সরবরাহের ৪০ শতাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, পানি পরিশোধন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় সুয়ারেজ লাইনের পানি ছড়িয়ে পড়ছে। সংস্থাটির ফিলিস্তিন গণযোগাযোগ বিষয়ক মুখপাত্র ডানিমিনক রান্স বলেন, পান করা ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহৃত ‘গ্রে ওয়াটার’ এবং সুয়ারেজ লাইনের পানি নিচু এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে সেখানকার বাসিন্দারা পানি সঙ্কটে পড়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক দফতরের হিসাব অনুযায়ী, গাজা উপত্যকায় ১৫টি পানির কুয়া এবং উত্তর-গাজা পানি পরিশোধন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পানির উৎসের ওপর নির্ভর করত আড়াই লাখ মানুষ।
পানি কর্তৃপক্ষের শঙ্কা, পূর্বাঞ্চলীয় বেইত লাহিনা ও দক্ষিণের গ্রাস উম নাসেরের ১০ হাজারেরও বেশি মানুষও পানি সঙ্কটের ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাতেও পানির অভাবের মুখে পড়তে হচ্ছে। বেশিরভাগ হাসপাতালেই পানির ব্যবস্থা থাকলেও সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারাও যেকোনো সময় বিপাকে পড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন জাতিসংঘের মুখপাত্র ডানিমিক রান্স। বলেন, জাতিসংঘ সঙ্কট সমাধানে পানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছে। এ ছাড়া পানি পরিশোধন কেন্দ্র ইসরাইলি সীমান্তের কাছে হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সহিংসতায় বাস্তুহারা হয়েছে ৩৮ হাজার ফিলিস্তিনি। তারা জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার ৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে।
এমনই এক কেন্দ্রে সাত সন্তানকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন মাজদা আবু কারেশ। ইসরাইলের বোমায় তার বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘এই নিয়ে চতুর্থবার আমাদের স্কুলে আশ্রয় নিতে হলো। গত পাঁচ দিন ধরে আমরা মেঝেতে শুয়ে আছি। কোনো খাবার, এমনকি পানিও পাচ্ছি না ভালোমতো।’
সোমবার সকালে এক বিবৃতিতে সংস্থার মুখপাত্র আদনান আবু হাসান বলেন, তারা বাস্তুহারাদের মৌলিক সহযোগিতা দিতে শুরু করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা দরকার। তবে ১০ মে ইসরাইলি সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানবিক সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে ফিলিস্তিনিরা।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]