ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৬ জুন ২০২১ ১ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ১৬ জুন ২০২১

দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়ে শঙ্কা
এম মামুন হোসেন
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ মে, ২০২১, ১১:০১ পিএম আপডেট: ১৯.০৫.২০২১ ১২:৩৯ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 96

করোনা মহামারি সামাল দিতে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছিল বাংলাদেশে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার আবিষ্কৃত ও ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি এই ভ্যাকসিন কেনার চুক্তি করেছিল সরকার। কয়েক দফায় ভ্যাকসিন সরবরাহও করে ভারত। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী বাকি ভ্যাকসিন না পাওয়ায় টিকাদান কর্মসূচি স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রায় ১৪ লাখ ৪০ হাজার মানুষের দ্বিতীয় ডোজের টিকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। টিকার এই সঙ্কটের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। তবে কবে নাগাদ সঙ্কট কাটবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউ। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন টিকার দ্বিতীয় ডোজবঞ্চিতরা। অনেকেই দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কথা জানিয়েছেন ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার দ্বিতীয় ডোজের টিকা নেওয়ার জন্য রোববার উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে যান রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মো. আমানুল্লাহ। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এই কেন্দ্র থেকে গত ১৬ মার্চ সস্ত্রীক টিকা নিয়েছিলেন তিনি। টিকা নেওয়ার পর তিনি করোনা পজিটিভ হয়েছিলেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শে করোনা নেগেটিভ হওয়ার ২৮ দিন পর সেদিন সকালে দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন ভ্যাকসিন শেষ। টিকা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। অধ্যাপক আমানুল্লাহর মতো করোনার দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকেই। তারা জানেন না কবে দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে পারবেন। অন্য কোনো টিকা দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে নিতে পারবেন কি না কিংবা কত দিন পরে দ্বিতীয় ডোজ নিলেও কোনো সমস্যা হবে নাÑ এসব নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন তারা।
দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়ে কয়েকজন তাদের চিন্তার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার জনতা ব্যাংকের একটি শাখার সিনিয়র অফিসার উজ্জ্বল আহমেদ বলেন, জানি না, এভাবে অসম্পূর্ণ টিকার কোর্স কোভিড থেকে কোনো সুরক্ষা দেবে কি না। এখন বড় বিষয় হচ্ছে এতে শারীরিক কোনো ক্ষতি হবে কি না?
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে থেকেই বিকল্প না রেখে একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল থাকার কারণে দেশে টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। টিকা নিয়ে জটিলতা শুরু হলে সরকার বিকল্প হিসেবে চীন ও রাশিয়া থেকে টিকা কেনার উদ্যোগী হয়। এরপর গত ২৭ এপ্রিলে রাশিয়ার টিকা স্পুটনিক-ভি অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ। বিশে^র ৬০টির বেশি দেশে এই টিকা ব্যবহৃত হচ্ছে। সবশেষ ২৯ এপ্রিল চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মার তৈরি এ টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়। চীনের টিকাটি ব্যবহৃত হচ্ছে ৩৫টি দেশে। সব মিলিয়ে করোনার তিনটি টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশে। ইতোমধ্যে চীন ১২ মে উপহার হিসেবে ৫ লাখ টিকা পাঠিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ডোজের ঘাটতি মেটাতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একজন নার্সকে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার মধ্য দিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে বহু প্রতীক্ষিত টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। পরদিন ঢাকার পাঁচটি হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীদের পরীক্ষামূলকভাবে এ টিকা দেওয়া হয়। সেখানে কোনো জটিলতা দেখা না দেওয়ায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় সারা দেশে গণটিকাদান কার্যক্রম। এরপর ৮ এপ্রিল দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়া শুরু হয়।
ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে বাংলাদেশ বেক্সিমকোর ফার্মাসিউটিক্যালের মাধ্যমে ৩ কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম চালানের ৫০ লাখ টিকা আসে গত জানুয়ারি মাসে। ফেব্রুয়ারি মাসে আসে ২০ লাখ। এরপর সিরাম আর কোনো টিকা পাঠায়নি। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের মোট ৭০ লাখ ডোজ টিকার বাইরে, ভারত সরকারের কাছ থেকে ২০ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে পায় বাংলাদেশ। এ ছাড়া ঢাকা সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশকে আরও ১২ লাখ টিকা উপহার দেন। আর ভারতের সেনাপ্রধান বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে উপহার দিয়েছেন ১ লাখ ডোজ টিকা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ পায় মোট ১ কোটি ৩ লাখ ডোজ টিকা।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার যে ঘাটতি আছে, ভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে সরকার। বিভিন্ন কূটনৈতিক মাধ্যমসহ অন্যান্য চ্যানেলে যোগাযোগ চলছে। আমরা আশা করছি, তা করতে পারব। তিনি বলেন, আমরা ৮ সপ্তাহের ব্যবধানে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সেটি কোনো কোনো দেশে ১৬ সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করা হয়েছে।
তিনি জানান, যারা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন, তাদের অন্য কোম্পানির দ্বিতীয় ডোজের টিকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ভ্যাকসিন কার্যক্রম বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, হাসপাতালগুলোতে মজুদ নেই বলে জানা গেছে। মজুদ শেষ হয়ে গেলে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন দেওয়া বন্ধ থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা নতুন করে সংগ্রহ করতে না পারি।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছর ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার আরও ১ হাজার ২৭২ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের। নতুন আক্রান্তদের নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৭ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন হয়েছে। আর করোনাভাইরাসে মৃতের মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ২১১ জন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]