ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১ ৩ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১

শিপ ব্রেকিং শিল্প এলাকায় জেগে উঠেছে বালির চর!
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ মে, ২০২১, ১১:৩৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 14

শাহনেওয়াজ
শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং শিল্প এলাকায় সীতাকুণ্ড চ্যানেলে বালির চর জেগে উঠেছে। আর এই বালির চর জেগে ওঠার কারণে আমদানি করা স্ক্র্যাপ জাহাজ সৈকতায়ন করা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই বাধার কারণে ইয়ার্ড মালিক ও ব্যবসায়ীদের অনেক টাকার বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাত বোর্ড সভায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সূত্রটি জানায়, সীতাকুণ্ড চ্যানেলে ৫-৭ কিলোমিটারব্যাপী বালির চর জেগে উঠেছে। এই বালির চর খনন কিংবা অপসারণ করা না হলে শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং শিল্প বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এ বিষয়টি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে অবহিত করা হয়েছে। তবে শিপ রিসাইক্লিং ফ্যাসিলিটি পর্যালোচনায় ইতোমধ্যে ৮২টি ইয়ার্ডের মালিকদের দাখিল করা লে-আউট ওয়ার্ক প্লান প্রাথমিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ইয়ার্ড মালিকরা শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং রুল যথাযথভাবে মেনে চলার ওপর বোর্ড সভায় পর্যালোচনা করা হয়। উপস্থিত সবাই একমত, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প একটি উদীয়মান গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। ইস্পাত শিল্পের সিংহভাগ কাঁচামালের যোগানদাতা এই শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে জাহাজ প্রক্রিয়াজাতকরণ জোনের ভেতর দিয়ে মেরিন ড্রাইভ গেলে তা দেশের ইস্পাত শিল্পসহ জাতীয় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে।
এদিকে বোর্ড সভায় চলতি বছরের মধ্যে ১০টি ইয়ার্ডে এসআরএফসি অর্থাৎ শিপ রিসাইক্লিং ফ্যাসিলিটি প্লান বাস্তবায়ন করা হবে। শুধু তাই নয়, আগামী জুনের মধ্যে আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট মান অর্জন করতে হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের জন্য ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজেল ফ্যাসিলিটি প্লান্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যা জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা। এটি না হলে এই শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানের রূপান্তর করা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করা হয়েছে বোর্ড সভায়।
শ্রমিকদের বিষয়ে আলাপকালে উল্লেখ করা হয়, ইয়ার্ডগুলোতে স্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ না দেওয়ার ফলে অনেক প্রশিক্ষিত শ্রমিক কাজ শেষ করে অন্য জায়গায় চলে যায়। প্রশিক্ষিত শ্রমিকদের ইয়ার্ডে ধরে রাখার জন্য ইয়ার্ড মালিকদের উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাত শিল্প নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে বোর্ড সভায় জাহাজ ভাঙা শিল্পকে কমলা ‘খ’ শ্রেণিতে থাকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। বর্তমানে আরও ইতিবাচক ক্যাটাগরির শিল্প হওয়া যৌক্তিক বলে মনে করেন ইয়ার্ড মালিকরা। সভায় আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে এই শিল্পকে আরও নিচে নামিয়ে লাল শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে এ শিল্পের অব্যাহত উন্নয়ন নিরুৎসাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই শিল্পকে লাল ক্যাটাগরিতে চিহ্নিত করার ফলে বৈদেশিক বিনিয়োগসহ যেকোনো ধরনের ঋণ পেতে জটিলতা সৃষ্টি হয়। ইয়ার্ড মালিকরা সভায় জাইকার মতো ঋণ পাওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয় বলে জানা গেছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]