ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১ ৩ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১

‘এক দেশ এক রেট’
মাসিক ৫০০ টাকায় ইন্টারনেট
বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, ৫ এমবিপিএস (মেগাবাইট পার সেকেন্ড) প্যাকেজের সর্বোচ্চ দাম হবে ৫০০ টাকা। দ্বিতীয় প্যাকেজের সেবামূল্য হবে মাসিক ৮০০ টাকা। দ্বিতীয় প্যাকেজে গতি থাকবে ১০ এমবিপিএস। আর তৃতীয় প্যাকেজের গতি ২০ এমবিপিএস। দাম হবে মাসিক ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৭ জুন, ২০২১, ১১:২২ পিএম আপডেট: ০৭.০৬.২০২১ ৪:৩৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 227

সুদীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সারা দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের একই দাম নির্ধারণ করেছে। রাজধানী ঢাকা বা প্রত্যন্ত কোনো ইউনিয়নই হোক- একই দামে ইন্টারনেট সেবা দিতে হবে। নির্ধারিত দামের বেশি নয়, তবে প্রতিযোগিতার স্বার্থে দাম কম নেওয়া যাবে।


সারা দেশে ‘এক দেশ, এক রেট’ শিরোনামে বিটিআরসি জনবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছে। ইন্টারনেট সেবাদাতা সূত্রে জানা গেছে, ‘এক দেশ, এক রেটের’ আওতায় ইন্টারনেট ভোক্তাদের জন্য তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। প্যাকেজের দাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে বিটিআরসি। সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সেবাদাতারা এতদিন ইচ্ছামতো দামে ইন্টারনেট সেবা দিয়ে এসেছেন। রাজধানীতে এলাকাভেদে কম-বেশি দাম নেওয়া হতো। অন্যদিকে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ছিল না কঠোর কোনো নিয়মনীতি।

রোববার বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, ৫ এমবিপিএস (মেগাবাইট পার সেকেন্ড) প্যাকেজের সর্বোচ্চ দাম হবে ৫০০ টাকা। দ্বিতীয় প্যাকেজের সেবামূল্য হবে মাসিক ৮০০ টাকা। দ্বিতীয় প্যাকেজে গতি থাকবে ১০ এমবিপিএস। আর তৃতীয় প্যাকেজের গতি ২০ এমবিপিএস। দাম হবে মাসিক ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে।

সবশেষ গত মার্চের পরিসংখ্যান বলছে, সারা দেশে ইন্টারনেট (ব্রডব্যান্ড) সংযোগ দাঁড়িয়েছে ৯৮ লাখ। করোনা সময়ে যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বছরখানেক আগেও সংযোগ ছিল ১৮ লাখের কম। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের একটি সংযোগে গড়ে ন্যূনতম চারজন ভোক্তা থাকেন। অন্যদিকে মোবাইল অপারেটরদের স্মার্ট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ১০ কোটি ৫৬ লাখ। কেউ ৯০ দিনে একবার ইন্টারনেট ব্যবহার করলেই তাকে ইন্টারনেট গ্রাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

দাম কার্যকর ও অভিযোগ আসলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমন প্রশ্নে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সময়ের আলোকে বলেন, জুন মাসের বিল থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে। আর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে সেবাদাতার লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে দেশের ৭১টি চর-দ্বীপাঞ্চলে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া বিটিসিএলের কারিগরি সহায়তায় ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৪৩৩টি ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, আসছে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সারা দেশ ইন্টারনেট সেবার আওতায় চলে আসবে। প্রান্তিক ভোক্তার ইন্টারনেটের গতির প্রশ্নে বিটিআরসি নজরদারি করবে।

সংশ্লিষ্ট সেবাদাতারা বলছেন, নির্ধারিত দাম কার্যকর হলে ঢাকায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দাম মাসপ্রতি প্যাকেজ ১০০-২০০ টাকা কমে আসবে। প্রধানত সুফল পাবেন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের ইন্টারনেট ভোক্তারা। ঢাকা-চট্টগ্রামে ব্যান্ডউইডথ সঞ্চালন ব্যয় তুলনামূলক কম বলে ইন্টারনেট সেবার দাম কিছুটা কম রাখা সম্ভব হয়। ইউনিয়ন অবধি ইন্টারনেট সেবা দিতে বেশি খরচ গুনতে হয়। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়েই বেশি দাম রাখতে হতো।

করোনা সময়ে দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার বহুগুণ বেড়েছে। ঘরে বসে অফিসের কাজ, পড়াশোনা বা বিনোদনের জন্য ইন্টারনেট এখন জীবনের অবিচ্ছেদ্য মাধ্যম হয়ে উঠেছে। শহুরে সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দেওয়া সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ইন্টারনেট সেবার ব্যয় সবখানে যৌক্তিক হতে হবে। শহরে আর গ্রামে পার্থক্য হতে পারে না। ডিজিটাল যুগের মহাসড়ক হলো ইন্টারনেট। আর সেই মহাসড়কে যুক্ত হতে সারা দেশের সব ইউনিয়নকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবার আওতায় আনা হচ্ছে। যা ‘এক দেশ, এক রেট’ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) প্রায় ১ হাজার ১০০ ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক কেবল সংযোগ দিয়েছে। তা ছাড়া (ইনফো সরকার-৩) প্রকল্পের মাধ্যমে ২ হাজার ৬০০ ইউনিয়নকে ফাইবার অপটিক কেবলে সংযুক্ত করা হয়। দেশে ইউনিয়নের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮৮টি। মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানালেন, চলতি বছরের মধ্যে সব ইউনিয়নকে ফাইবার অপটিক কেবলভুক্ত করা হবে।

ইন্টারনেট সেবাদাতা সংগঠনের (আইএসপিএবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রামাঞ্চলে কম দামে ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে ব্যান্ডউইডথ সঞ্চালন ব্যয়ই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ। তা ছাড়া নতুন দাম নির্ধারণের পর কেউ নির্ধারিত দামের বাড়তি নিতে পারবেন না।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]