ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১ ৩ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১

তারুণ্যের বাজেট পর্যালোচনায় বক্তারা
ব্যবসায়ী অর্থমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের জন্যই বাজেট দিয়েছেন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১, ৯:৫৯ এএম আপডেট: ০৮.০৬.২০২১ ১০:০৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 76

সরকারের উচিত ছিল একজন শিক্ষিত ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোকের দ্বারা বাজেট ঘোষণা করা। একজন ব্যবসায়ী অর্থমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের জন্যই এই বাজেট ঘোষণা করেছেন। প্রতিটি প্রকল্পে সরকারের লুটপাটের কারণে এই বাজেট বাস্তবায়ন হবে না, তাই ঘোষিত এই বাজেট একটি ব্যর্থ বাজেট। ২০২১-২২ অর্থবছরের ঘোষিত জাতীয় বাজেট নিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ ‘তারুণ্যের বাজেট পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সোমবার রাজধানীর পল্টনে প্রীতম জামান টাওয়ার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে আলোচক সরাসরি উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া, লেখক রাখাল রাহা। সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, পরিবেশবাদী আইনজীবী সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান। সেমিনারে মূল বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্র পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন। যুব পরিষদের সদস্য সচিব মঞ্জুর মোর্শেদের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও ছাত্র, যুব ও শ্রমিক পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল হক নুর, যুব পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ ও যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক রহমান, শ্রমিক পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান ও সদস্য সচিব আরিফ হোসেন।

আলোচনায় উপস্থিত থেকে রেজা কিবরিয়া বলেন, সরকারের উচিত ছিল একজন শিক্ষিত ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোকের দ্বারা এ বাজেট ঘোষণা করা। একজন ব্যবসায়ী অর্থমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের জন্যই এই বাজেট ঘোষণা করেছে। প্রতিটি প্রকল্পে সরকারের লুটপাটের কারণে এ বাজেট বাস্তবায়ন হবে না, তাই ঘোষিত এই বাজেট একটি ব্যর্থ বাজেট বলে মন্তব্য করেছেন ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি আরও বলেন, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন বরাদ্দের পুরো টাকাই অপব্যবহার করছে, ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎই আমরা ব্যবহার করতে পারছি না, অথচ এ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, লুটপাট হচ্ছে। এ মুহূর্তে দেশের সবচেয়েই গুরুত্বপূর্ণ দুটি খাত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে এই বাজেটে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি, মহামারি করোনা বিবেচনায় স্বাস্থ্য খাতকে অনেক গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সাবেক অর্থমন্ত্রীর এসএম কিবরিয়া ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, এই বাজেটে যাদের অনেক সম্পদ আছে যেমন করপোরেট শ্রেণি, গার্মেন্টস মালিক, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পুঁজিপতি ইত্যাদি তাদেরকেই সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দরিদ্র, সম্পদহীন, কম সম্পদশালী বিশাল জনগোষ্ঠীর উপর উল্টো করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে কিছু তেমন দেওয়া হয়নি। তিনি সরকারের সমালোচনা করে আরও বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও কয়লানির্ভর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বছর বছর বাজেটে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, অথচ এসব কোম্পানির বিদ্যুৎ আমরা ব্যবহার করতে পারছি না। এ ছাড়া তেল, গ্যাস ও পানির দাম কয়েকদিন পরপর বাড়িয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস করে দিচ্ছে এ সরকার বলে জানান অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান বলেন, এই বাজেট পরিবেশবান্ধব হয়নি, গত বছর থেকেও এবার পরিবেশ-প্রাণ-প্রকৃতিকে অনেক কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, বাজেট একটি দেশের আয়-ব্যয়সহ সামগ্রিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও উন্নয়নের মাপকাঠি। যদিও বর্তমান বিনা ভোটের কর্তৃত্ববাদী, অগণতান্ত্রিক এ সরকারের বাজেট ঘোষণার নৈতিক ভিত্তি নেই, তারপরও আমরা যেহেতু তাদেরকে সরাতে পারছি না, তারা যেহেতু ক্ষমতায় আছে, বাজেট দিয়েছে সে ক্ষেত্রে আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছি; মহামারি বিবেচনায় এ বাজেটে সেভাবে জনস্বার্থের প্রতিফলন ঘটেনি। এ পরিস্থিতিতে যেখানে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার ছিল। তা ছাড়া বাজেটে যেভাবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বিশেষ করে বেসরকারি ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ ধরা হয়েছে তা অবাস্তব ও আত্মঘাতী। জনগণের কাছে জবাবদিহিতা না থাকায়ই সরকার এভাবে অতি ঋণ নির্ভর ও ঘাটতি বাজেটের নামে ভাওতাবাজির বাজেট দেয়। কারণ বাজেট কতটুকু বাস্তবায়ন হলো সেটা নিয়ে তো আর তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে না।

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান বলেন, শিক্ষা খাতে ৭১ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, যা জাতীয় বাজেটের ১১.৯২ শতাংশ। যা আন্তর্জাতিক মানের দিক থেকে নগন্য। যেকোনো দেশের শিক্ষা খাতে বাজেট মোট বাজেটের ১৫-২০ শতাংশ হওয়া উচিত। কিন্তু বাংলাদেশে সবসময় শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কিন্তু একটি দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষা খাতকে সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হয়। এই বাজেটে প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয় ও কলেজের ওপরে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। যেটি প্রত্যাহার করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। শিক্ষা খাত একপ্রকার ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও শিক্ষা নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা লক্ষ্য করা যায়নি। যেটি খুবই দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

অন্য বক্তারা বলেন, প্রতি ৪ জন যুবকের মাঝে ১ জন বেকার। কোভিড-১৯-এর ফলে দিনে দিনে বেকারত্বের হার বেড়েই চলছে। বাজেটে বেকারত্ব নিরসনে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ দেখিনি। যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যুবকদের দক্ষ করে তুলতে বাজেটের ৫ শতাংশ ব্যয় করা লাগবে। বিগত ২ বছরের কৃষিঋণ মওকুফ করা লাগবে। সর্বোচ্চ লাখ টাকা খরচে প্রবাসীদের বিদেশি পাঠানোর ব্যবস্থা করা লাগবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]