ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১ ৩ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১

ঢাবি-বুয়েট বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে কেন
মানজুর হোছাইন মাহি
প্রকাশ: বুধবার, ৯ জুন, ২০২১, ৩:৩৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 112

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কোয়াককোয়ারেল সায়মন্ডসের (কিউএস) র‌্যাংকিং তালিকায় বিশ্বের সেরা ৮০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায়ও স্থান হয়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। সম্প্রতি প্রকাশিত কিউএসের সবশেষ র‌্যাংকিং তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয় দুটি ঠাঁই পেয়েছে ৮০১ থেকে ১০০০ নম্বরের মধ্যে। কিন্তু কেন এই পিছিয়ে থাকা। এ নিয়ে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন তাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

র‌্যাংকিং তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)। এই র‌্যাংকিংয়ে ছয়টি সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মান নিরূপণ করা হয়। এগুলো হলো- প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম, চাকরির বাজারে সুনাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, শিক্ষকপ্রতি গবেষণা-উদ্ধৃতি (সাইটেশনস পার ফ্যাকাল্টি), আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত (ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাকাল্টি রেশিও) ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাত (ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট রেশিও)।

ছয়টি সূচকের মোট স্কোর ১০০। এর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সুনামে ৪০, চাকরির বাজারে সুনামে ১০, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে ২০, শিক্ষকদের গবেষণার উদ্ধৃতিতে ২০ এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাতের প্রতিটিতে ৫ করে স্কোর থাকে। 

তবে তালিকায় ৫০০-এর পরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেনি। সে কারণে তালিকায় থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের স্কোর জানা যায়নি।  

ঢাবির পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়োগে অনিয়ম, কম বাজেট, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জনগণ ও সরকারের প্রতি জবাবদিহিতার অভাব ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয়নি। অথচ অল্প বাজেটে আমাদের শিক্ষার্থীরা যে পড়াশোনা করছেন, তা দেখেই আমি আশ্চর্য হয়ে যাই। পড়াশোনার পরিবেশই নেই। তবু শিক্ষার্থীরা গণরুমে থাকে, খেয়ে না খেয়ে পড়াশোনা করেন। আবাসিক হলের পরিবেশ জেলখানার চেয়েও খারাপ। এমন পরিবেশে পড়াশোনা করে র‌্যাংকিং কীভাবে আশা করা যায়?

র‌্যাংকিংয়ে এত পিছিয়ে পড়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা কমে যাওয়াকে দায়ী করেছেন ঢাবি শিক্ষক ড. জোবায়দা নাসরিন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তৈরি হয়েছে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে। তারা জ্ঞানের মধ্য দিয়ে সরকারের নানা রকম সমালোচনা করবে। কিন্তু বর্তমানে দেখছি, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকার নিয়ন্ত্রিত। যে কারণে শিক্ষার্থীদের আলোচনার মূল লক্ষ্য হয়ে যাচ্ছে সরকারের তোয়াজ করা। আর এটিই র‌্যাংকিং পিছিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ।

বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ অধিদফতরের পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, যে মানদণ্ডগুলো বিবেচনা করে র‌্যাংকিং প্রকাশ করা হয়, তার সব কিছুতেই আমরা খারাপ করি না। অন্য মানদণ্ডগুলোয় আমরা বেশ ভালো করলেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা, আন্তর্জাতিক ফ্যাকাল্টির সংখ্যা ও গবেষণা খাতে ব্যয় করার জন্য বাইরে থেকে অনুদান সংগ্রহের মানদণ্ডে আমরা পিছিয়ে যাই। 

ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাফিজ খান বলেন, সত্যি কথা বলতে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ঢাবি ও বুয়েটসহ দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত নিম্নগামিতায় অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই। কেননা গভীরভাবে লক্ষ করলে বোঝা যায়, আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিটি স্তরে অরাজকতা, অনৈতিকতা ও বিশৃঙ্খলা বিদ্যমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষক দলীয় রাজনীতি করেন। এসব কারণে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান পাওয়ার আশা আকাশে অট্টালিকা নির্মাণের চেষ্টা করার মতোই। তাই আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় কেন সেরাদের তালিকায় নেই, সে প্রশ্ন না করে পড়াশোনা থেকে যোজন যোজন দূরে অবস্থান করেও আমাদের দেশের কিছু বিশ^বিদ্যালয় কীভাবে হাজারের তালিকায় স্থান করে নেয়, সেটাই বরং ভাবার বিষয়।

গবেষণা খাতে পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় র‌্যাংকিং পিছিয়ে যায় বলে মনে করেন বুয়েটের শিক্ষার্থী আরাফাত সাকিব। তবে র‌্যাংকিং নিয়ে মোটেই চিন্তিত নন বলেন জানালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, আমরা এখন আমাদের শিক্ষার গুণগত মান ও গবেষণায় মনোযোগ দিচ্ছি। এখন র‌্যাংকিংয়ের দিকে আমাদের মনোযোগ নেই। আমাদের চিন্তা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন করা। সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি গবেষণা বাড়ানো। এ কাজগুলো করতে পারলে আরও ভালো অবস্থানে যেতে পারব।

 
/বিএ/আরএ/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]