ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১ ৩ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১

লড়াই বক্স অফিসে, বন্ধুত্ব ঘরে ঘরে
আসলে লড়াই হবে বক্স অফিসে, বন্ধুত্ব হবে ঘরে ঘরে। তোমার মুভি, আমার মুভি ফ্রাইডে ফ্রাইডে ফাইট করবে, তুমি আমি ফাইট করে তো লাভ নেই। মিম, মাহি ওরা অসাধারণ মনের মানুষ। আমাদের যখন আড্ডা হয় তখন সিনেমা নিয়ে কথা হয় না। আমরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করি।
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১, ১১:২৮ পিএম আপডেট: ১০.০৬.২০২১ ১০:৩৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 1626

নুসরাত ফারিয়া দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী। অভিনয় ও গান সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বর্তমান কাজ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন এ অভিনেত্রী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোহাম্মদ তারেক...

পরীক্ষা তো শেষ হলো?
গত ৭ জুন আমার পরীক্ষা শেষ হয়েছে। তৃতীয় বর্ষের প্রথম অংশ শেষ হলো। পরীক্ষা ভালো হয়েছে। অক্টোবরে আর দুটো পরীক্ষা দিলে আমার এলএলবি শেষ হবে। তখন নিজেকে এলএলবি গ্র্যাজুয়েট বলতে পারব।

কাজে ফিরছেন কবে?
আমি ৮ জুন থেকে কাজে ফিরেছি। ছোট ছোট কিছু কাজ বাকি ছিল। সেগুলো শেষ করছি। মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ভাইয়ের একটি শোতে অংশগ্রহণ করেছি। যেহেতু পরীক্ষা শেষ এখন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হব। এ ছাড়া ১৪ জুন একটি বিজ্ঞাপনের কাজ আছে।

‘বঙ্গবন্ধু’ সিনেমার শুটিং কবে শুরু হবে?
আমাদের বলেছে সেপ্টেম্বরে শুরু হবে। কিন্তু ভারতের করোনা পরিস্থিতির ওপর শুটিং নির্ভর করছে। এই সিনেমায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করছি।

অন্যান্য সিনেমার কী অবস্থা?
নূর ইমরান মিঠুর নির্দেশনায় ‘পাতালঘর’ সিনেমার কাজ শেষ হয়েছে। আমার একটি গানের কাজ বাকি। ওটা হলেই ছবিটি মুক্তির জন্য প্রস্তুত হবে। বড় বাজেটের ছবি আসলে এই সময়ে মুক্তি দেওয়া হবে কি না নিশ্চিত নই। তাই দীপঙ্কর দীপনের ‘অপারেশন সুন্দরবন’ ছবিটি কবে মুক্তি পাবে বলতে পারছি না।

করোনায় শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন?
এশিয়ার অনেক দেশে মাস্ক পরে মানুষজন। আমাদের এ অভ্যাস ছিল না। মাস্ক পরা, একটু পর পর হ্যান্ড স্যানিটাইজ করা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা অনুশীলনের ব্যাপার। শুরুতে একটু কষ্ট হলেও এখন এসবে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আমি শুটিংয়ে গেলে এই ব্যাপারগুলো নিশ্চিত করি।

গান নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
পরীক্ষার জন্য আমি সিনেমার কাজে হাত দেইনি। এখন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মিটিং করছি, চিত্রনাট্য পড়ছি। সিনেমায় ফোকাস করছি বেশি। তবে গান করব সামনে। তা ছাড়া আমি না চাইতেও এ বছর আমার তিনটি গান এসেছে। একটি সলো গান, একটি ইমরানের সঙ্গে, আরেকটি সিনেমার।

ওটিটিতে আপনার ওয়েব ফিল্ম মুক্তি পেল। এই প্লাটফর্মে কাজের ব্যাপারে কী ভাবছেন?
আমি সিনেমার, অপূর্ব ভাই নাটকের আর শিহাব শাহীন ভাই তো ভালো একজন নির্মাতা। সবকিছু মিলিয়ে দর্শকদের যে প্রতিক্রিয়া পেয়েছি তা অসাধারণ। জি ফাইভ কর্তৃপক্ষ যখন বলল এক সপ্তাহের মধ্যে তারা লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে তখন খুব ভালো লেগেছে। এজন্য আমি ওটিটিতে কাজের ব্যাপারে উৎসাহী হয়েছি। দেখুন জি ফাইভে আমার কনটেন্টের পাশে সালমান খানের মুভিও আছে। আমার কাজ যদি ভালো না হয় তা হলে দর্শক চোখ ফিরিয়ে নেবে। তাই আমাদের কাজের মান বাড়াতেই হবে।

ওয়েব সিরিজে কাজ করবেন?
আমি ওয়েব সিরিজে নয়, ওয়েব ফিল্মে কাজ করতে প্রস্তুত। ভালো গল্প, চিত্রনাট্য ও চরিত্র পেলেই ওয়েব ফিল্ম করব।

আপনি একাধারে অভিনেত্রী, গায়িকা ও উপস্থাপিকা। কোন পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
আমি একজন পারফর্মার। আমি শুধু অভিনেত্রী, সঙ্গীতশিল্পী বা উপস্থাপিকাও নই। আমি একজন পারফর্মিং আর্টিস্ট। যে কাজ করি তা নিজের শতভাগ দিয়ে করি। তাই বলতে পারি নিজেকে নুসরাত ফারিয়া হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করি।

উপস্থাপনায় ফিরবেন?
গত রোজায় একটি শো করেছি। যেটি আমি উপভোগ করেছি। এ রকম যদি কিছু হয় করব। তবে এখন সিনেমা ও বিজ্ঞাপন নিয়েই ভাবছি।

তারায় তারায় বন্ধুত্ব...
আমার সঙ্গে অনেকেরই খুব ভালো সম্পর্ক। যেমন সাবিলা নূর আমার খুব ভালো বন্ধু। নুসরাত ইমরোজ তিশা, কনা, মিম, মাহি সবার সঙ্গে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। ফেরদৌস ভাই আমাদের গাইড করেন। তারায় তারায় বন্ধুত্বের বিষয়টা আমাদের এখানে দেখা না গেলেও বাইরের দেশে এটা স্বাভাবিক বিষয়। আসলে লড়াই হবে বক্স অফিসে, বন্ধুত্ব হবে ঘরে ঘরে। তোমার মুভি, আমার মুভি ফ্রাইডে ফ্রাইডে ফাইট করবে, তুমি আমি ফাইট করে তো লাভ নেই। মিম, মাহি ওরা অসাধারণ মনের মানুষ। আমাদের যখন আড্ডা হয় তখন সিনেমা নিয়ে কথা হয় না। আমরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করি।

ইদানীং সাইবার বুলিং বেশ বেড়েছে। এ প্রসঙ্গে আপনার মন্তব্য?
কয়েক বছর আগে আমাকে নিয়ে সংবাদ এসেছিল নেটিজেনদের আক্রমণের শিকার নুসরাত ফারিয়া, সমালোচনার মুখে নুসরাত ফারিয়া ইত্যাদি। এসব করে তাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তখন তাদের এত গুরুত্ব না দিলে এখন বিষয়টা আলোচনায় উঠত না। শুধু সেলিব্রেটি নয়, সাধারণ একজন মেয়ের ছবিতেও বাজে কমেন্ট হয়। তাতে বোঝা যায় মানুষের মনমানসিকতা কেমন। যারা বুলিং করে তাদের আমি পাত্তা দেই না। তাদের কথা আমার কাজে প্রভাব ফেলে না। আর্টিস্টরা না জেনে ভুল করতে পারে। সেজন্য ক্ষমাও চাইতে পারে। তাই বলে ৩৬৫ দিন তাদের মানসিক চাপে রাখতে হবে এটা তো কোনো কথা হতে পারে না। আমি আর্টিস্টসহ সাধারণ মেয়েদেরও বলব তাদের গুরুত্ব না দিতে। তারা তোমার চেয়ে ভালো কিছু করতে পারছে না বলে এমন করে যায়।

তারকাদের বিচ্ছেদ হলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ওঠে...
দুজন মানুষ ভালোবেসে একসঙ্গে থাকতে পারলে কেন একা ভালো থাকতে পারবে না? নিজেদের মধ্যে এমন কিছু হয়তো হয় যা মানিয়ে চলা সম্ভবপর হয় না। তখন ডিভোর্স হয়। সব পেশার মানুষেরই ডিভোর্স হচ্ছে। সন্তান থাকলে কো প্যারেন্টিং করছে। তাদের তো কেউ গালি দিচ্ছে না। মিডিয়ার মানুষের ডিভোর্স হলে তা প্রকাশ পায় কারণ আমরা পাবলিক ফিগার। ডিভোর্সের জন্য কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হীনমানসিকতা ছাড়া কিছু নয়। ডিভোর্স খুবই সাধারণ বিষয়। আমার মনে হয় যারা ডিভোর্সের মধ্য দিয়ে যায় তাদের পাশে থাকা জরুরি। তার অনেক সহানুভূতি, ভালোবাসা দরকার। সে যেন নতুন করে জীবন এগিয়ে নিতে পারে সেজন্য উৎসাহ দেওয়া দরকার।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]