ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১ ৩ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১

গ্যাং গ্রুপে কেন তারা
পরিবারকে যত্নশীল হতে হবে
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১, ১০:৩৬ এএম আপডেট: ১০.০৬.২০২১ ১০:৩৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 81

বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ বাড়ছে। গড়ে উঠছে কিশোর গ্যাং। তারা মাদক, হত্যা, ধর্ষণের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, সারা দেশে ৫ শতাধিক কিশোর গ্যাং এখন নানা ধরনের অপরাধ করে চলেছে। এসব গ্যাংয়ের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার। তার মধ্যে রাজধানীতে ৭০ থেকে ৭৫টি গ্যাং রয়েছে। সদস্য সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। রাজধানীর উত্তরা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, লালবাগ ও হাজারীবাগ এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য প্রকট। এদের রোষানলে গত ৩ বছরে অর্ধশতাধিক মানুষ খুন হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩০০ কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তারপরও দমন করা যাচ্ছে না ভয়ঙ্কর কিশোর অপরাধীদের।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, স্কুল কিংবা এলাকায় আড্ডা দিতে গিয়ে শুরুতে মজার ছলে এসব গ্রুপ তৈরি হলেও পরে একসময় মাদক, অস্ত্র, এমনকি খুনোখুনিতেও জড়িয়ে পড়ছে এরা। দুটি কারণে কিশোররা এসব গ্যাং সংস্কৃতিতে ঢুকে পড়ছে। প্রথমত, মাদক ও অস্ত্রের সহজপ্রাপ্তি। দ্বিতীয়ত, পারিবারিক, সামাজিক শিক্ষার অভাব এবং সঙ্গদোষ। ফলে কিশোরদের কেউ যখন বন্ধুদের মাধ্যমে কিশোর গ্যাংগুলোয় ঢুকছে তখন তার প্রলুব্ধ হওয়া এবং অপরাধপ্রবণ হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। সাধারণত নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা গ্যাংয়ের সদস্য। প্রভাবশালীরা আধিপত্য বিস্তারে কিশোর গ্যাং লালন করে থাকে।

কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের তথ্য বলছে, যেসব কিশোর কেন্দ্রে আছে তাদের ২০ শতাংশ হত্যা এবং ২৪ শতাংশ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি। এ ক্ষেত্রে সমাজে অপরাধী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে পরিবারে কিশোরদের একাকী বা বিচ্ছিন্ন না রেখে যথেষ্ট সময় দেওয়াও অভিভাবকদের উচিত। 
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন প্রয়োগ করেই এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ সম্ভব নয়। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য। আজ যারা কিশোর অপরাধ বা কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নানা অপরাধ করছে তার জন্য যেমন দায়ী এলাকার প্রভাবশালীরা, তেমনি অভিভাবকদের উদাসীনতা কম দায়ী নয়। যদি পরিবারের কিশোর সদস্যটির প্রতি যথেষ্ট খেয়াল রাখা হতো তাহলে সে সহজে অপরাধপ্রবণতার দিকে ঝুঁকে পড়ত না।

সারা দেশে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তা শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থার অবশ্যই উত্তরণ দরকার। এদের প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ যেমন দরকার, তেমনি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করে কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে হবে। আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্যাং অপরাধ দমন পুরোপুরি সম্ভব নয়। বরং পরিবার, সেই সঙ্গে সামাজিক সচেতনতাই এ ধরনের অপরাধ দমনে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে।

সামাজিকভাবে পাড়া বা মহল্লার মান্যবর সদস্যদেরও দায় রয়েছে। তারা যদি সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর ভূমিকা রাখেন তাহলে কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠা সহজ হবে না। তবে সারা দেশে যেভাবে কিশোর গ্যাং গড়ে উঠছে তা দ্রুত দমন করতে হবে। আমরা মনে করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সমাজের সব মানুষ সোচ্চার হলে এ অপরাধপ্রবণতা হ্রাস পাবে।

/এসএ/


আরও সংবাদ   বিষয়:  সম্পাদকীয়  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]