ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১ ৩ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১

হাসান হত্যার বিচারের দাবিতে গাইবান্ধায় হরতাল
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১, ৬:৪১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 106

ব্যবসায়ী হাসান হত্যার বিচারের দাবিতে গাইবান্ধা জেলা সদরে অর্ধ দিবস হরতাল পালিত হয়েছে আজ। চার দফা দাবিতে সকাল ছয়টায় হরতাল শুরু হয়ে চলে দুপুর দুইটা পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার (১০ জুন) সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান হরতালকারীরা। 

হরতালকারীদের চার দফা দাবিগুলো হচ্ছে, অবিলম্বে সদর থানার ওসি মাহফুজার রহমানের অপসারণ, হাসান হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার, সদর থানার অভিযুক্ত পরিদর্শক (তদন্ত) মজিবুর রহমান ও সহকারী উপপরিদর্শক মোশারফ হোসেনকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন এবং গাইবান্ধা জেলায় অবৈধ দাদন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা।

হরতাল চলাকালে তারা হাসান হত্যার বিচারের দাবি ও ওসির অপসারণ চেয়ে স্লোগান দেন। হরতালের সমর্থনে শহরের মার্কেট, দোকানপাট ও সবধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছিলেন ব্যবসায়ীরা। দূরপাল্লার কিছু যানবাহন চলেছে। শহরের রাস্তাগুলোতে জরুরী প্রয়োজনে সীমিত আকারে রিকশা-ভ্যান, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকসহ যানবাহন চলতে দেখা গেছে। অফিস-আদালত খোলা থাকলেও উপস্থিতি ছিল কম।

সদর থানার ওসি মাহফুজার রহমানের অপসারণসহ চার দফা দাবিতে গত ৩১ মে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে হাসান হত্যার প্রতিবাদ মঞ্চ। অবস্থান কর্মসূচি থেকে সাত দিনের মধ্যে সদর থানার ওসির অপসারণের আহ্বান জানানো হয়েছিল। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে অপসারণ না হলে আজ বৃহস্পতিবার হরতাল পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল।

হরতাল সফল করতে সকাল থেকে ট্রাফিক মোড়, সার্কুলার রোড ও রেলগেট এলাকায় হরতাল সমর্থক ‘হাসান হত্যার প্রতিবাদ মঞ্চে’র নেতৃবৃন্দ খণ্ড খণ্ড বিক্ষোভ মিছিলসহ পিকেটিং করেন। এছাড়া শহরের ডিবি রোডের ১নং ট্রাফিক মোড়ে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেন তারা। বিক্ষোভ মিছিল ও পিকেটিং-এর পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, শ্রমিক, ছাত্র, যুব, নারী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা হরতাল চলাকালীন সময়ে জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে পথসভা করেন। 

এসব পথসভায় বক্তব্য দেন- হাসান হত্যার প্রতিবাদ মঞ্চের সমন্বয়ক ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ আমিনুল ইসলাম গোলাপ, সিপিবি জেলা সভাপতি মিহির ঘোষ, জেলা জাসদ সভাপতি গোলাম মারুফ মনা, জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু প্রমুখ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে জাসদের জিয়াউল হক জনি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের মনজুর আলম মিঠু, বাসদের গোলাম রব্বানী, সিপিবির মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, ক্রীড়া পরিবারের ওয়াজিউর রহমান রাফেল, ওয়ার্কার্স পার্টির প্রণব চৌধুরি খোকন, মিলন কান্তি সরকার, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কাজী আবু রাহেন শফিউল্যাহ খোকন, নিলুফার ইয়াছমিন শিল্পী, কৃষক শ্রমিক জনতালীগের মোস্তফা মনিরুজ্জামান, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী)’র মৃণাল কান্তি বর্মণসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

মঞ্চের সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম গোলাপ হরতাল সফল করার জন্য গাইবান্ধাবাসীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে সদর থানার ওসি মাহফুজারকে অপসারণ না করা হলে আমরা পরবর্তীতে নেতৃবৃন্দ বসে কঠোর কর্মসূচি দেব। দাবি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

অপরদিকে বেলা ১২টার দিকে জেলা শহরে হরতালবিরোধী একটি মিছিল বের করে বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ১ নম্বর ট্রাফিক মোড়ে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের জেলা নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে তারা গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এক প্রেস বিফ্রিং করে।

এদিকে, হরতালে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে।

গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাফুজার রহমান জানিয়েছেন, হরতালে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সকাল থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। হরতাল চলাকালে কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি ।

উল্লেখ্য, সুদের টাকা লেনদেনের জেরে গত ৫ মার্চ শহরের জুতা ব্যবসায়ী হাসান আলীকে তুলে নিয়ে গিয়ে বাড়িতে আটক রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত উপ-দফতর সম্পাদক মাসুদ রানা। তাকে উদ্ধারের জন্য ১৫ মার্চ সদর থানায় অভিযোগ করেন হাসানের স্ত্রী বিথী বেগম। পরে পুলিশ মাসুদ রানার বাড়ি থেকে হাসানকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু থানা থেকে হাসানকে আবারও মাসুদের জিম্মায় দেয় পুলিশ। এরপর গত ১০ এপ্রিল মাসুদের বাড়ি থেকে হাসানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত হাসান আলী শহরের থানাপাড়া এলাকার মৃত হজরত আলীর ছেলে এবং আফজাল সুজ গাইবান্ধা শাখার সাবেক মালিক। লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করে। এ নিয়ে নিহতের স্ত্রী বীথি বেগম সদর থানায় মাসুদ রানাসহ তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মাসুদ রানা কারাগারে থাকলেও অপর দুই আসামিকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]