ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১ ৩ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১

টিকা জমিয়ে রাখছে কারা?
বাধন অধিকারী
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ জুন, ২০২১, ১০:৩৬ পিএম আপডেট: ১১.০৬.২০২১ ১২:১৮ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 37

বিশে^র সিংহভাগ দেশ যখন করোনা মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে, তখন কোনো কোনো দেশ টিকা মজুদ করছে। বিস্ময়কর হলেও সত্যি, কয়েকটি দেশে যে পরিমাণ টিকা মজুদ করেছে, তা দিয়ে দেশগুলোর সব নাগরিককে দুবারের বেশি টিকা দেওয়া সম্ভব। চলতি মাসে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অবজারভার এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন মজুদ ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে অ্যাডভোকেসি গ্রুপ অ্যান্টি পোভার্টি ক্যাম্পেইন সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা আর জাপান ৩ বিলিয়ন ডোজ টিকা জমিয়ে রেখেছে। অথচ তাদের মোট জনসংখ্যা মাত্র ২.০৬ বিলিয়ন।
বৃহস্পতিবার (১০ জুন) বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টায় নিউইয়র্ক টাইমসের ‘কোভিড ভ্যাকসিন ট্র্যাকার’-এ ঢুকে ১৭টি দেশের নাম পাওয়া গেছে। যে দেশগুলো তাদের মোট জনগোষ্ঠীর ১ শতাংশকেও এক ডোজ টিকা দিতে পারেনি। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে এক ডোজ টিকা পেয়েছে মোট জনগোষ্ঠীর ৩.৬ শতাংশ আর দুই ডোজ নিশ্চিত হয়েছে ২.৬ শতাংশের।
বিশেষজ্ঞরা এমন টিকা মজুদ-নীতিকে ‘টিকা জাতীয়তাবাদ’ (ভ্যাকসিন ন্যাশনালিজম) বলে অভিহিত করছেন। তারা বলছেন, এভাবে টিকা মজুদ করে রাখলে ধনী দেশগুলোরও তেমন কোনো লাভ হবে না। উল্টো বিশ^ব্যাপী হার্ড ইমিউনিটি অর্জনে কাজটি কঠিন হয়ে পড়বে। তাতে ঝুঁকি বাড়বে ধনীদেরও।
কোভিড ভ্যাকসিন ট্র্যাকার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিশ^ব্যাপী ২.২২ বিলিয়ন ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে শতাংশের বিবেচনায় ৩৩ শতাংশ মানুষ ভ্যাকসিন পেয়েছে। তবে এর বেশিরভাগই গেছে ধনী দেশে। সে কারণে ৬৬ দেশে শতাংশের বিবেচনায় টিকা পেয়েছে ৫ শতাংশের কম মানুষ। যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল গভর্নেন্সের প্রেসিডেন্ট রোহিন্টন মেধরা বলছেন, চিন্তা সেই ৩৯/৪০ দেশ নিয়ে, যারা এখনও মোট জনগোষ্ঠীর ১ শতাংশকেও টিকা দিতে সমর্থ হয়নি।
এবিসি নিউজ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে, এ পর্যন্ত টিকার ৩৮.৫ শতাংশ গেছে বিশে^র ১৬ শতাংশের কাছে। ৮৮ শতাংশ মানুষ এখনও এক ডোজ টিকাও পায়নি।
গরিব দেশগুলোর টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় ভরসার জায়গা কোভ্যাক্স। বিশে^র সব দেশের মধ্যে করোনার টিকার সমবণ্টন নিশ্চিত করতে গঠন করা হয় বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার এই কর্মসূচি। গত বছর অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা উৎপাদনকারী ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট বৈশি^ক কোভ্যাক্স কর্মসূচিতে ২০০ মিলিয়ন টিকা সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে সিরাম জানায়, চলতি বছর শেষের আগে কোভ্যাক্স টিকা সরবরাহ করতে পারবে না। এতে দরিদ্র দেশগুলোর টিকা পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
জন্স হপকিন্স সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটিজের বিশেষজ্ঞ ড. আমেশ আডালজা বলছেন, বিশ^ব্যাপী ভ্যাকসিন বণ্টনের সময়সীমা ভিন্ন ভিন্ন হতে যাচ্ছে। আমদানি-রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।
সিএনএন মে মাসের এক প্রতিবেদনে জানায়, বিশে^ ইতোমধ্যেই করোনা টিকার ১৪০ মিলিয়ন ডোজের ঘাটতি আছে। জুনের মধ্যে এ ঘাটতি ১৯০ মিলিয়ন ডোজে দাঁড়াবে।
যুক্তরাষ্ট্রের হাতে অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিপুল পরিমাণ ভ্যাকসিন মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ৬০ মিলিয়ন বিশ^কে দেওয়ার কথা বলছে তারা। যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য ধনী দেশও ইতোমধ্যেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, বেঁচে যাওয়া টিকাগুলো গরিব দেশগুলোর মধ্যে বিলিয়ে দেবে। কিন্তু ইউনিসেফ চাইছে, টিকাগুলো আগে থেকেই দেওয়া শুরু করুক ধনী দেশগুলো। সংস্থাটি সম্প্রতি সতর্ক করেছে, যদি ধনী দেশগুলো তাদের অতিরিক্ত টিকার ডোজ গরিব দেশগুলোকে না দেয়, তবে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে।
ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালে শুক্রবার শুরু হতে যাওয়া জি-সেভেন সম্মেলনে মজুদকারী দেশগুলোর মজুদ থেকে দরিদ্র দেশগুলোকে টিকা দেওয়ার ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]