ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১ ৩ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১

ভূমিকম্প : ভয়ঙ্কর বিপদে বাংলাদেশ
বিশ্বজিত রায়
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ জুন, ২০২১, ৮:৪০ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 54

ভূমিকম্পের বৃহৎ ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। বড় মাত্রার ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির বিবেচনায় বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান রয়েছে ৫ নম্বরে। এমন দুর্যোগ ঘটলে উদ্ধার কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনায় দেশের সক্ষমতা রয়েছে মাত্র ২০ ভাগের মতো। এ ধরনের দুর্যোগ অঘটনে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে রাজধানী ঢাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ১০০ বছর পরপর ভূগর্ভস্থ প্লেটগুলোর অবস্থানের পরিবর্তন হয়। সেই হিসাবে বাংলাদেশ যে তিনটি প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করছে, সেগুলো ইতোমধ্যে যথেষ্ট শক্তি সঞ্চয় করেছে। শত বছর পরপর প্লেটের এমন পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলের ওপর ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে ১৯১৮ সালে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার এই ভূমিকম্পে ওই অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি পরিবর্তন আসে ভৌগোলিক অবস্থারও। প্রকৃতিগত এই দুর্যোগ যদি শত বছরের নিয়ম রক্ষা করে চলে তাহলে এ অঘটনের দানবীয় হানা একেবারে বাংলাদেশের কাছাকাছি অবস্থান করছে। যেকোনো মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে ভূমিকম্পের এই ভয়াবহ তাণ্ডব। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হবে অকল্পনীয়। অধিক মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হলে রাজধানী ঢাকা মৃত্যুপুরীতে পরিণত হবে। প্রাণহানির দিক থেকে ছাড়িয়ে যাবে অতীতের সব রেকর্ড।

রাজধানী ঢাকার অধিকাংশ বিল্ডিং সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত দায়সারাভাবে দাঁড় করানো হয়েছে। সেগুলো তৈরিতে ভূমিকম্প নিরোধক কোনো পন্থাই অবলম্বন করা হয়নি। রাজধানীর আকাশে পিঠ জাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নামমাত্র বসবাস উপযোগী এসব বিল্ডিং। একটু অধিক মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হলে বসবাসে অনিরাপদ এই বিল্ডিংগুলো হয় ধসে পড়বে নইলে একটির ওপর আরেকটি হেলে পড়ে মারাত্মক বিপদ ডেকে আনবে। আর এ বিপদ জন্ম দিয়ে যাবে স্মরণকালের ভয়াবহ বিপর্যয়। ভূ-গবেষক সংস্থার ভূমিকম্প সম্ভাব্য সতর্কতায় প্রশ্ন জাগে, আসলে ভূকম্পন ভয়ঙ্কর বাস্তবতা মোকাবিলায় কতটুকু প্রস্তুত বাংলাদেশ। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থা কি কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। হয়তোবা করছে, হয়তোবা না। যদি নিরাপদ রাজধানী বিনির্মাণে সরকারি সংস্থার গাফিলতি থেকে থাকে তাহলে চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে ঢাকা। যে বিপর্যয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ।

 গত ২৫০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ও এর আশপাশে ১০টি ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মধ্যে ১৭৬২ সালে প্রায় ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে মিয়ানমারে। আর উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির আরাকান রাজ্যে। ১৮৬৯ সালে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূকম্পন আঘাত হানে ভারতের আসাম রাজ্যে। যার উৎপত্তিস্থল ছিল রাজ্যের কাছাড় জেলায়। ১৮৮৫ সালে বাংলাদেশ ও এর আশপাশে ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যা বেঙ্গল ভূমিকম্প নামে পরিচিত। ১৮৯৭ সালে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে আসামে, যেটা গ্রেট আসাম ভূকম্পন নামে পরিচিত। এরপর ১৯১৮ সালে ৭ দশমিক ৬ মাত্রায় বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে, ১৯৩০ সালে ৭ দশমিক ১ মাত্রায় ধুবরিতে, ১৯৩৪ সালে ৮ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে ভারতের বিহার ও নেপালে, ১৯৫০ সালে ৮ দশমিক ৬ মাত্রায় আসামে, ২০১১ সালে ৬ দশমিক ৯ মাত্রায় তিব্বতের সিকিমে এবং ২০১৫ সালে নেপালে ৭ দশমিক ৮ মাত্রায় ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। [তথ্যসূত্র : দৈনিক বাংলাদেশের খবর]

প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগ হচ্ছে ভূমিকম্প। প্রকৃতির আচমকা রীতি অনুসরণ করে চলা ভূমিকম্প কাউকে নড়াচড়া করার সুযোগ দেয় না। অন্যসব দুর্যোগের সতর্কতামূলক আগাম তথ্য পাওয়া গেলেও ভূমিকম্প সে হিসাবে বেশ ব্যতিক্রম। তবে ভূ-বিশারদ ব্যক্তিরা ভূমিকম্প আগাম আঘাত হানার অনির্ধারিত ধারণা ব্যতীত পরিষ্কার বলে দিতে পারেন না কখন ভূকম্পন অনুভূত হতে পারে। প্রকৃতির অন্যসব দুর্যোগ মানব বসতিতে আঘাত হানার পূর্ব মুহূর্তে কিছুটা হলেও অনুমান করা যায়। কিন্তু ভূমিকম্প চোখের পলকে সব ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। বিশেষ করে শহরাঞ্চল থাকে এর সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে। বহুতল ভবনের ভার অসহনীয় শহর অধিক মাত্রার ভূমিকম্পে নিমিষেই লন্ডভন্ড হয়ে পড়বে। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম গ্রামাঞ্চল। কারণ সেখানে বহুতল ভবন না থাকায় সেখানকার মানুষ ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সহজে ঘর থেকে বেরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে যেতে পারে। সে জন্য গ্রাম ততটা ঝুঁকিপূর্ণ নয়, শহর যতটা না ঝুঁকিপূর্ণ।

ভূমিকম্পে করণীয় বিষয়ে আমরা কতটা যত্নশীল, কিংবা ভূমিকম্পপরবর্তী দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা কতটুকু সামর্থ্যরে পরিচয় দিতে পারবে। ভূমিকম্পের মতো নগর বিধ্বংসী অঘটন ঘটলে দ্রুত দুর্যোগ সারিয়ে ওঠার যথেষ্ট সামর্থ্য আমাদের আছে কি? ধারণা করা হচ্ছে এ আপৎকালীন দুর্যোগ সামলে ওঠার শক্তি নেই বাংলাদেশের। এমনকি ভূমিকম্প প্রবণতায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে সেগুলো সিলগালা করা এবং নতুন ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড মানার যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে কি না সে ব্যাপারে রয়েছে উদাসীনতা।

মানববসতি লন্ডভন্ড করা প্রাণবিনাশী প্রকৃতি অভিশাপ ভূমিকম্প থেকে রক্ষা পেতে হলে এখন থেকেই সচেতনতা অবলম্বন করা জরুরি। ভূমিকম্প বিষয়ে জনসচেতনতা জারিসহ ঘনবসতিপূর্ণ সব শহরের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ করে নতুন বহুতল ভবন তৈরিতে সঠিক নিয়ম অনুসরণে সবাইকে বাধ্য করতে হবে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন সম্প্রসারণে ঝুঁকিমুক্ত টেকসই পন্থা অবলম্বন করার পাশাপাশি পুরনো লাইন সংস্কারে গতি আনতে হবে। এখন থেকে ভূমিকম্পসহ যেকোনো দুর্যোগে পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সদা তৎপর হতে হবে।

বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ 




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]