ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৬ জুন ২০২১ ১ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ১৬ জুন ২০২১

শেখ হাসিনার কারামুক্তির সেই দিন আজ
খায়রুল আলম
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ জুন, ২০২১, ৮:৪৩ এএম আপডেট: ১১.০৬.২০২১ ৮:৪৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 108

আজ ১১ জুন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কারামুক্তির দিন। প্রায় ১১ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের এই দিনে সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ভোরে তিনি তৎকালীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার হন। গ্রেফতার করে প্রথমে তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগারে নিয়ে আটক রাখা হয়। 

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই বঙ্গবন্ধুকন্যাকে ভোর হওয়ার আগে ধানমন্ডির ৫নং সড়কে অবস্থিত তার স্বামীর বাসভবন সুধাসদন হতে অত্যন্ত অসম্মানজনকভাবে অনেকটা সাধারণ আসামির মতো টেনে-হিঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে তুলে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ৩ কোটি টাকা আদায়ের অজুহাতে প্রথমে একটি মামলা দেওয়া হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে এগারোটি মামলা রুজু করা হয়। যখন শেখ হাসিনাকে আটক করা হয় তখন তার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়া অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতেই ছিলেন। কারাবন্দি থাকাকালে কারাগারের অভ্যন্তরে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তখন বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগসহ এর অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ক্রমাগত চাপ, আপসহীন মনোভাব ও অনড় দাবির প্রেক্ষিতে অবশেষে শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

মুক্তি পেয়েই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায়ই তার অস্থায়ী জামিনের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়। মুক্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য শেখ হাসিনা ইংল্যান্ড গমন করেন। ৫ নভেম্বর শেখ হাসিনা চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আসেন ও ঘোষিত সাধারণ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেন। ২০০৮ সালের ৬ নভেম্বর স্থায়ী জামিন দেওয়া হয় তাকে। পরে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগসহ মহাজোট সরকার গঠিত হয়।

 বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি ঘটেছিল ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি। এই দিনে আবির্ভাব ঘটেছিল কথিত ওয়ান ইলেভেনের। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের একতরফা সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জারি হয় জরুরি অবস্থা। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আবরণে গঠিত হয় সেনা নিয়ন্ত্রিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’। ‘ওয়ান ইলেভেন’-এর এই পট পরিবর্তন নানা অস্বস্তির জন্ম দেয় শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সেই দুই বছরে দল ভাঙা-দল গড়ার ‘খেলা’ও ওই সময়ে দেখে জনগণ।

পাঁচ বছরের বিএনপি-জামায়াত জোটের অপশাসনের পর চেপে বসা শাসককুল তখন রীতিমতো ত্রাস। রাতারাতি সবকিছু বদলে ফেলার আভাস দিয়ে রাজনীতি থেকে জঞ্জাল পরিষ্কার করার কথা তখন এমন করে বলা হতো, যেন রাজনীতি এক গভীর পঙ্কে নিমজ্জিত। অবশ্য জোট অপশাসন রাজনীতিকে অনেকটাই সে পর্যায়ে নিয়ে যায়। আর সেই সুযোগেই চেপে বসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মোড়কে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’ নামে নতুন এক শাসনব্যবস্থা। ওয়ান-ইলেভেন নামে পট পরিবর্তনের পর সরকার পরিচালনায় আসা এই সরকারের আমলে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করার পর সাহসী রাজনীতির পারিবারিক ঐতিহ্য ও সংগ্রামের ইতিহাসকে মুছে ফেলার কী কুৎসিত-নির্মম ও ভয়াবহ চক্রান্তই না করেছিল প্রতিক্রিয়াশীল চক্র! চেষ্টা করেছে সঙ্কীর্ণ রাজনীতির হীনমন্যতার ছদ্মাবরণে তার ভাবমূর্তি নস্যাৎ করতে। রাজনৈতিক নিষ্ঠুর প্রতিহিংসাপরায়ণতা ও চক্রান্তের জাল বিছিয়েছে গোপনে!

 ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয় লাভ করে। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করা হয়। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভোটের অধিকার সুনিশ্চিত করতে সুদীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বন্ধুর বিপদসঙ্কুল পথ অতিক্রম করতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। এসব সত্ত্বেও বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি ছিলেন দৃঢ় ও অবিচল। মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় শেখ হাসিনা সবসময়ই আপসহীন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক লৌহমানবীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে লড়াই করে যাচ্ছেন। 

২০০৯ সালে সরকার পরিচালনায় দায়িত্ব নিয়ে তার সরকার ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের জন্য আইন প্রণয়ন করে। এই আইনের আওতায় স্থাপিত ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছে এবং রায় কার্যকর করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর এখন পার করছেন চতুর্থ মেয়াদ। আশির দশকে যেমন তিনি ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করেছেন দলকে, তেমনি একটি অনুন্নত দেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। যে কারণে জাতীয়-আন্তর্জাতিক অনেক পুরস্কার আর স্বীকৃতি রয়েছে তার ঝুলিতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা, গণমাধ্যম ও বিশ^ব্যক্তিত্বরা বিভিন্ন উপাধি দিয়েছেন। এ ছাড়া তার কর্মদক্ষতা ও মহানুভবতার জন্য তিনি বিশ^বাসীর কাছ থেকে অসংখ্য পদক ও সম্মাননা পেয়েছেন।  ‘২০০৭ সালের ১৬ জুলাই রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে কারারুদ্ধ করার মধ্য দিয়ে মূলত গণতন্ত্রকে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল, বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা-স্বপ্নকে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল। ‘তৎকালীন সেনা সমর্থিত অনির্বাচিত সরকারের মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে মূলত শেখ হাসিনাকে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল। ছাত্র-যুব-জনতার নিরন্তর আন্দোলনের মুখে ২০০৮ সালের ১১ জুন তৎকালীন সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। আর শেখ হাসিনার মুক্তির মাধ্যমেই সেদিন গণতন্ত্র মুক্তি পায়। তাই ১১ জুন শুধু শেখ হাসিনার মুক্তি দিবসই নয় এটা গণতন্ত্রের মুক্তি দিবস।

যুগ্ম সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]