ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১ ৩ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১

পুরাণে পুরাণে সংযোগ
ফরিদ আহমদ দুলাল
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ জুন, ২০২১, ৯:০৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 53

হাজার বছর ধরে মানুষের বুকে জেগে থাকা বিশ্বাসের নাম পুরাণ; পুরাণ ঐতিহাসিক সত্য নয়; বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিতও নয়; কিন্তু পুরাণের সঙ্গে যুক্ত আছে ইতিহাসের অনুল্লেখিত নির্যাস। বিজ্ঞানমনস্ক আধুনিক সমাজে কখনও কখনও পুরাণ প্রশ্নবিদ্ধ হয়; কখনও বিজ্ঞান প্রমাণ করতে চায় পুরাণ ভিত্তিহীন কল্পগাথা মাত্র; তারপরও সাধারণ মানুষ পুরাণে আস্থা রাখে, বিশ্বাস রাখে, পুরাণের প্রতি সম্মান জানাতে নৈবেদ্য নিবেদন করে। রচিত হয় পুরাণাশ্রয়ী উপাখ্যান, কাব্য-মহাকাব্য। বঙ্গজনপদের নিরালোক নিভৃতিতে এমন অনেক গল্প-কাহিনি ছড়িয়ে আছে, যাকে পুরাণ বলে স্বীকৃতি দিতে চায় না নগরজীবন; আমি তাদের নাম দিতে চেয়েছি ‘লোকপুরাণ’। লোকপুরাণের ধারণাটিকে পরিষ্কার করতে নিভৃতির এক ছোট্ট গাথা উপস্থাপন করছি-

আনই রাজার গাঙ : ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কেশরগঞ্জ এলাকার পাশে আনুহদি গ্রামের পাশেই বিশাল এক শান্ত জলাভূমি, যাকে অনেকেই নদী নামে সম্বোধন করেন, কেউ কেউ বলেন গাঙ্গ, আবার কেউ বা বলেন দীঘি। মানুষের মুখে মুখে গড়ে উঠেছে প্রায় অভিন্ন এক উপাখ্যান যাকে বলতে পারি ‘আনই রাজার উপাখ্যান’। প্রায় পঞ্চাশ একর জমির চারপাশে পরিখার মতো আছে শান্ত টলমলে জলের চমৎকার এই জলাশয়। এই জলাশয় এবং দ্বীপটি দেখলেই অনুমান করা যায় এটি মানবসৃষ্ট। অবশ্য ফুলবাড়িয়ার এ অঞ্চলটিতে আছে বেশ কয়েকটি বড় বড় বিল এবং সেসব বিল আবার কোনো কোনো নদীর সঙ্গেও একসময় সংযুক্ত ছিল। সময়ের আবর্তে আর প্রয়োজনের তাগিদে অসংখ্য জলাশয়ের মতো ফুলবাড়িয়ার জলাশয়গুলোও আজ বিপন্নপ্রায়। অনেক ভাঙনের মুখে আজও প্রকৃতির লীলা-লাস্যে নিজস্ব লাবণ্য নিয়ে টিকে আছে আলোচ্য ‘আনই রাজার দীঘি’ অথবা ‘আনই নদী’। আনই রাজাকে কেউ কেউ ‘আনুহাদি’ও বলে থাকেন। গবেষক দরজি আবদুল ওয়াহাব আনই রাজাকে কোচ জাতীয় সর্দার বলে উল্লেখ করেছেন তার ‘ময়মনসিংহ অঞ্চলের ঐতিহাসিক নিদর্শন’ গ্রন্থে; তিনি বলেছেন, ‘এ অঞ্চলে এককালে কোচ জাতীয় হদিদের বাস ছিল। সম্ভবতঃ তাদের সর্দারের নাম ছিল আনুহদি। উচ্চারণের হেরফেরে আনুহদি হয়ে গেছে- আনই; এরূপও হতে পারে।’ আনই রাজার কিংবদন্তি নিয়েই এ গল্প।

কোনো এক অজ্ঞাত কারণে আনই রাজার সঙ্গে ঝড় দেবীর বিরোধের জন্ম হয়। আনই রাজা যতই বাড়ি তৈরি করেন ঝড় এসে তছনছ করে দিয়ে যায় তাণ্ডবে; আনই রাজাও দমবার পাত্র নন; ঝড়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে তৈরি করেন লোহার বাড়ি এবং বাড়ির চারপাশে খনন করেন প্রশস্ত পরিখা। রাজা যেদিন গৃহ প্রবেশ করলেন, সেদিন রাতেই শুরু হলো প্রবল বৃষ্টি এবং ঝড়। লোহার বাড়িতে নিরাপদে ছিলেন আনই রাজা। কিছুতেই ঝড় বিধ্বস্ত করতে পারল না আনই রাজার বাড়িটি। একসময় আনই রাজা শুনলেন দরজায় কে যেন কড়া নাড়ছে। দরজায় কান পেতে শুনলেন তার বৃদ্ধা মা তাকে ডাকছেন; মা তাকে ডেকে বলছেন, ‘বাবা, আমি বৃষ্টিতে-ঝড়ে জবুথবু; অনেকক্ষণ ভিজছি, শরীর কাঁপছে। কিছুতেই দাঁড়াতে পাছি না। দরজাটা খোল বাবা।’ আনই রাজা উঁকি দিয়ে দেখলেন তার বৃদ্ধা মা দরজা ধরে দাঁড়িয়ে শীতে কাঁপছে। আনই রাজা নিজে দরজাটা খুলে দিলেন। তার মা ঘরে ঢুকলেন, আর মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়ে গেল; ততক্ষণে আনই রাজা বুঝে গেছেন ঝড় দেবী তার মায়ের ছদ্মবেশে এসেছিলেন; কিন্তু তখন আর করার কিছুই ছিল না। অল্পক্ষণের মধ্যেই আনই রাজার লোহার বাড়ি ধ্বংস্তূপ বানিয়ে দিয়ে ঝড় ফিরে গেল। সেই ঘটনার পর দীর্ঘদিন গ্রামের মানুষ দেখেছে পাশের নদীতে (পরিখায়) আনই রাজার বাড়ির লোহার খুঁটি। এখন অবশ্য যারা লোহার খুঁটি দেখেছেন তাদেরও কেউ নেই, খুঁটিরও কোনো অস্তিত্ব নেই। ছোট্ট এই দ্বীপ-গ্রামটিতে ঢোকার একফালি পথ আছে, আর দ্বীপে আছে বসতি; আর আনই নদীতে নির্বিঘ্নে চলছে মৎস্য চাষ।

আমি বরং মূল আলোচনায় ফিরছি; এক বিবেচনায় পৃথিবীতে যা-কিছু পুরাণ নামে পরিচিত, তার সবই ‘লোকপুরাণ’। আজ আমি পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে পুরাণে-পুরাণে বিস্ময়কর সংযোগ খুঁজে দেখতে চেষ্টা করব; সংযোগের যৌক্তিক কারণ হয়তো উদ্ধার করতে পারব না, কিন্তু প্রশ্ন তো উত্থাপন করতে পারব!

 ইসলামের নবী মুহম্মদ (দ.) পিতৃহীন হয়েই জন্ম নিয়েছিলেন, শিশুকালেই হন মাতৃহারা। তাঁকে লালন-পালন করেন তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব এবং চাচা আবু তালিব। দাদাও তাঁর শৈশবেই প্রয়াত হন; সেই অর্থে অধিক সময় লালন-পালন করেন চাচা আবু তালিব। নবুয়তপ্রাপ্তির পর ইসলামের বড় প্রতিপক্ষ ছিলেন আবু তালিব। আমৃত্য আবু তালিব নিজ ভ্রাতুষ্পুত্রের বিপক্ষে অবস্থান করেছেন; অনেক চেষ্টার পরও তাঁকে ইসলামে দীক্ষিত করা যায়নি। সঙ্গত কারণেই সবার বিশ্বাস, আবু তালিব নরকবাসী হবেন। কিন্তু মানুষের মনে প্রশ্ন, যে আবু তালিব স্বয়ং মুহম্মদ (দ.)-কে কোলেপিঠে করে বড় করলেন, সেই আবু তালিবকে দোজখের আগুন কীভাবে পুড়বে? জানা যায়, যেহেতু আবু তালিবের সর্বাঙ্গে নবী মুহম্মদের (দ.) স্পর্শ আছে, সুতরাং দোজখের আগুন স্পর্শ করবে না তাঁকে; কিন্তু তাঁর পদতল? পদতলে তো নবীর স্পর্শ ছিল না; আবু তালিবের পায়ের তলায় এমন আগুন জ্বলবে, যার তাপে তাঁর মগজ গলে গলে পড়বে। আবু তালিব সম্পর্কে এই যে গল্প, এটা কোরান-হাদিসের বর্ণনা নয়; হতে পারে এটি কোনো পরোক্ষ হাদিস অথবা লোকপুরাণ। হযরত মুহম্মদ (দ.) তাঁর জীবদ্দশায় ছিলেন জীবন্ত কিংবদন্তি; সঙ্গত কারণেই সাধারণ্যে প্রচারিত হয়েছে তাঁকে নিয়ে নানান গল্পগাথা; কালের আবর্তে সেসব গল্পগাথাই হয়ে উঠেছে লোকপুরাণ। মুহম্মদ (দ.)-এর চাচা সম্পর্কিত এ গল্পটিও হয়তো বা লোকপুরাণেরই অংশ।

 পুরাণে-পুরাণে সংযোগ সন্ধানে আমরা এবার গ্রিকপুরাণের এক বীরের গল্প স্মরণ করব। হোমারের ‘ইলিয়াড’ পড়ে আমরা পরিচিত হয়েছিলাম গ্রিক বীর একিলিসের সঙ্গে। বরপ্রাপ্ত বীর ছিলেন একিলিস, তাঁর মা শৈশবে তাঁকে পৃথিবী-স্বর্গের মধ্যবর্তী নদীতে ডুবিয়ে অভেদ্য করেছিলেন। ট্রয়ের যুদ্ধে আমরা দেখলাম তাঁকে প্যারিসের তীরে বিদ্ধ হয়ে মরতে। দেখলাম নিয়তি-নির্ভরতা। একিলিসের মা যখন তাঁকে পায়ের গোড়ালি ধরে নিমজ্জিত করেছিলেন জলে, তখন তাঁর সর্বাঙ্গ পবিত্র হলেও পায়ের গোড়ালি ভেজেনি; ফলে সুরক্ষিত হয়নি গোড়ালি।

একিলিসের সঙ্গে যখন প্যারিসের যুদ্ধ চলছে, কিছুতেই প্যারিস পরাস্ত করতে পারছে না একিলিসকে; দেবতা এসে কানে কানে প্যারিসকে বলে গেল একিলিসের দুর্বলতার কথা; অতঃপর প্যারিস একিলিসের গোড়ালিতে আঘাত করলে তাঁর মৃত্যু হলো। এবার দৃষ্টি দেওয়া যাক ভারতীয় পুরাণে, ভারতীয় পুরাণের গল্পটি দীর্ঘ, ত্রেতা যুগের শ্রী রামচন্দ্র থেকে শুরু করে দাপর যুগের শ্রীকৃষ্ণ পর্যন্ত বিস্তৃত শ্রীকৃষ্ণের প্রয়াণ রহস্য; রচনার ব্যাপ্তির কথা বিবেচনা করে এখানে আবশ্যিক অংশটুকুই উপস্থাপন করছি। শ্রী রামচন্দ্রের দোসর সুগ্রীব, যাঁর বীরত্বের কথা আমরা পড়েছি রামায়ণে; রাবণের বন্দিশালা থেকে সীতাউদ্ধারে সুগ্রীবের ভূমিকার কথাও জেনেছি, ‘বিশল্যকরণী লতা’ আনতে গিয়ে হনুমান সুগ্রীব যে ‘গন্ধমাদন’ পর্বতটিই তুলে এনেছিলেন কাঁধে তুলে তা-ও জেনেছি। সুগ্রীব তাঁর বড়ভাই বালীর দ্বারা নিগৃহীত-বঞ্চিত ছিলেন; শ্রী রামচন্দ্র তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন বালীকে হত্যা করার। আড়াল থেকে শ্রী রামচন্দ্রের ছোড়া তীরে বালীর মৃত্যু হয়; বালীকে গুপ্তহত্যা করে শ্রী রামচন্দ্র গুপ্তহত্যার সপক্ষে নানান যুক্তি প্রদর্শন করলেও পরে তিনি অনুতপ্ত হয়েছিলেন। এটুকু শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যুরহস্যের পূর্বকথন।

ধর্ম-পুরাণ-প্রেম-যুদ্ধ-কংশবধ-মথুরা বিজয় থেকে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ, বিপুল বিস্তৃতি নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের উপস্থিতি। রাধা-কৃষ্ণের প্রেম আজও মানুষের কাছে আবেগের বিষয় হয়ে আছে, উদাহরণ হয়ে আছে। ভারতীয় পুরাণের বাঁকে বাঁকে শ্রীকৃষ্ণের শৌর্য-বীর্য আর অলৌকিক ক্ষমতার দৃষ্টান্ত আমরা পাই, যাতে তাঁর মৃত্যু নিয়ে সংশয়ের সীমা থাকে না; তারপরও তাঁকে মৃত্যুর স্বাদ পেতে হয়। আমরা এবার শ্রীকৃষ্ণের প্রয়াণের গল্পে যেতে চাই।

একবার দুর্বাশা মুনি একবাটি পায়েস দিয়ে শ্রীকৃষ্ণকে বলেছিলেন সর্বাঙ্গে মাখতে; শ্রীকৃষ্ণ মুনির নির্দেশ মান্য করে পায়েস গায়ে মেখে অভেদ্য হয়ে উঠেছিলেন; কিন্তু পায়ের তলায় পায়েস না মাখার কারণে পদতল অভেদ্য থাকেনি। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পাণ্ডবদের কাছে কৌরবরা পরাজিত হলে ধৃতরাষ্ট্রজায়া গান্ধারী এবং কৌরবদের বিশ^াস ছিল শ্রীকৃষ্ণের কারণেই পাণ্ডবরা যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে, গান্ধারী তাই উষ্মাবশত শ্রীকৃষ্ণকে অভিসম্পাত করেছিলেন, শ্রীকৃষ্ণ তাঁর নিজ বংশের হাতে নিহত হবেন।

শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যুরহস্য হলো- জীবনযুদ্ধে ক্লান্ত অবসাদগ্রস্ত শ্রীকৃষ্ণ তাঁর মৃত্যু আসন্ন জানতেন, তাই তিনি অগস্ত্যযাত্রায় অরণ্যে গিয়েছিলেন নির্জনবাসে। বৃক্ষডালে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। বালীপুত্র অঙ্গদের দিকচিহ্নহীন তীর এসে বিদ্ধ হয় তাঁর পদতলে। সেই তীরের আঘাতেই শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যু হয়। আড়াল থেকে ছোড়া তীরে যেমন শ্রী রামচন্দ্রের হাতে বালী নিহত হয়েছিলেন, একইভাবে বালীপুত্রের আড়াল থেকে ছোড়া তীরে নিহত হলেন শ্রীকৃষ্ণ।

এক অর্থে শ্রী রামচন্দ্র আর শ্রীকৃষ্ণ অভিন্ন সত্তা। শ্রী রামচন্দ্র আর শ্রীকৃষ্ণ, দুজনই ভগবান শ্রী বিষ্ণুর অবতার; রামচন্দ্রের আবির্ভাব ত্রেতা যুগে, আর শ্রীকৃষ্ণ দ্বাপর যুগে। অন্যদিকে শ্রীকৃষ্ণ আর বালী দুজনই ছিলেন যদু বংশের জাতক; সুতরাং বালীপুত্রের তীরের আঘাতে শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যু গান্ধারীর অভিশাপেরই পরিণতি। গল্পের কত শাখা-প্রশাখা ঘুরে শেষপর্যন্ত নিয়তি কেড়ে নিলো শ্রীকৃষ্ণের প্রাণ।

লক্ষ করুন প্রিয়পাঠক, তিন পুরাণের যে তিন গল্প উপস্থাপিত হলো, তাতে স্থান-কাল-পাত্রের কোনো মিল নেই; কিন্তু তিন গল্পেই নিয়তি তিনের পদতলে আঘাত করল! স্যাটেলাইট নেই, ইন্টারনেট নেই, ফেসবুক-টুইটার কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ নেই, বেতার-টেলিফোন-টরেটক্কা নেই; তবুও পৃথিবীর তিন প্রান্তে তিন পুরাণে কী মিল; পৃথিবীতে এমন মিল আরও অনেক আছে। মানুষের মনোজাগতিক অধ্যায়ে হয়তো এমন এক গোপন ঐক্য আছে, যা তার গল্পগুলোকে অজান্তেই কোথাও মিলিয়ে দেয়। মানব জাতির জন্য পুরাণ কোনো জঞ্জাল নয়, বরং পুরাণ থেকেও আমরা পাই সুনীতির দিশা; পাই মূল্যবোধের পাঠ; জ্ঞানের আলো আর প্রজ্ঞার আশ্রয়। প্রতিটি পুরাণ তাই সবার পাঠ্যসূচিতে থাক।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]