ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১ ৩ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১

কবিতায় মিথ প্রয়োগের মুগ্ধতা
ফারুক সুমন
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ জুন, ২০২১, ৯:১৩ এএম আপডেট: ১১.০৬.২০২১ ৯:২১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 85

আধুনিক শিল্পসাহিত্যের নানা শাখায় মিথের শক্তির প্রতি কবি-সাহিত্যিকদের মুগ্ধতা লক্ষ করা যায়। বিশেষ করে কবিতায় মিথ প্রয়োগের স্ফূর্তির ফলে সৃষ্টি হয়েছে অভিনব কাব্যভাষা (Poetic diction)। একই সমান্তরালে কবিতার নিহিতার্থ এবং উদ্দিষ্ট বিষয় মিথ প্রয়োগের নৈপুণ্যে আরও বেশি ব্যঞ্জনাবহ হয়েছে বৈকি। কবিতা রহস্যাবৃত অধরা শিল্পশাখা বলেই হয়তো মিথের প্রতি কবিদের এমন নিবিড় নির্ভরতা। কবিতার আলঙ্কারিক (Rhetorical) শ্রীবৃদ্ধির প্রয়োজনে উপমা, রূপক কিংবা প্রতীকের ব্যঞ্জনায় মিথ পেয়েছে বহুমাত্রিকতা।

মিথের শাব্দিক ব্যাখ্যা কিংবা তত্ত্বকথা নিয়ে এযাবৎ বিস্তর লেখা হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গ্রন্থে মিথের স্বরূপ ও সংজ্ঞা নিয়ে রয়েছে নানামাত্রিক মতপার্থক্য। সাধারণত প্রাচীনকাল থেকে প্রবহমান ঐতিহ্যনির্ভর ধর্মকেন্দ্রিক কাহিনিকে মিথ বলে অভিহিত করা হয়। যেখানে থাকে অতিপ্রাকৃত আবহে আখ্যান, প্রাণিজগতের বিচিত্র বিস্ময়। পূর্বপুরুষের যুদ্ধবিগ্রহ ও বীরত্বগাথা। এ ছাড়া জীবজগৎ সম্পর্কে মৌলিক ধারণা, প্রকৃতির রকমফের, সামাজিক রীতি ও প্রথা মিথের উৎস হিসেবে চিহ্নিত হয়।

 মিথের শাব্দিক ব্যাখ্যা, তত্ত্বকথা বর্তমান লেখার অন্বিষ্ট বিষয় নয়। কবিদের মিথপ্রীতি, মিথের স্বতঃস্ফূর্ত প্রয়োগকৌশল এবং নেপথ্যের রহস্য উন্মোচনের প্রতি মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে। মিথ-পুরাণ প্রয়োগের প্রতি আগ্রহের নেপথ্যে ব্যক্তির অসহায়তা ও মুক্তির আকাক্সক্ষা ক্রিয়াশীল থাকে। পুরাণাশ্রয়ী চরিত্রগুলো কবির মনোজগতের প্রতিনিধি হয়ে কবিতায় উপস্থাপিত হয়। একজন কবি কোন পরিস্থিতির আবর্তে পড়ে মিথাশ্রয়ী হন? এই প্রশ্নের উত্তর অন্বেষণ করতে গেলেই বরং মিথের উৎস ও প্রয়োগের প্রাসঙ্গিকতা অনুভূত হবে। নিমগ্ন কবির ব্যক্তিগত পীড়ন শেষপর্যন্ত নিজের থাকে না। কবিতার ভাবসম্পদে একজন সংবেদনশীল কবির অন্তর্গত উৎকণ্ঠার উন্মোচন দেখা যায়। মিথাশ্রয়ী হয়ে কবিতার উদ্দিষ্ট বক্তব্য ইঙ্গিতবাহী ও অধরা ব্যঞ্জনায় আভাসিত হয়। কবিতার বোধ ব্যক্তিগত দুঃখবোধের আবরণে সামষ্টিক পর্যায়ে উন্নীত হয়।

সমকালীন কোনো ঘটনা যখন সংবেদনশীল কবিমানসকে বিপর্যস্ত করে, তখন কাব্যভাষায় কবি হয়ে ওঠেন প্রতিবাদী ও সোচ্চার। কবিকণ্ঠ উচ্চকিত হয় সামগ্রিক বিপন্নতার বিরুদ্ধে। এই প্রতিবাদ মানুষের মনকে আন্দোলিত করে। প্রত্যক্ষভাবে মত প্রকাশের পথ যখন রুদ্ধ হয়ে যায় তখন একজন কবি মিথাশ্রয়ী হন। মিথিকাল কোনো ঘটনা কিংবা চরিত্র কবিতার উপমা, রূপক কিংবা প্রতীকে আভাসিত হয়। তার মানে, মিথের মাধ্যমে সমকালের সঙ্গে অতিক্রান্ত মহাকালের সংযোগ স্থাপিত হয়। কবিতায় প্রযুক্ত মিথের শক্তি

ব্যক্তি-অভিজ্ঞতাকে পৌঁছে দেয় শাশ্বত-অভিজ্ঞতার সমীপে। ফলে কবিতার ভাবার্থ মিথাশ্রয়ী হয়ে কবিতায় যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। ফলে কবিতানুরাগী পাঠক কবিতায় পেয়েছেন নবতর অনাস্বাদিত স্বাদ।

বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার উদ্গাতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত। আধুনিক কালখণ্ডে তাঁর লেখায় মিথ প্রয়োগের সচেতন প্রয়াস লক্ষ করা যায়। তিনি প্রথম পাশ্চাত্য কাব্যপ্রকরণ স্বীকরণের মধ্য দিয়ে গ্রিক ও পাশ্চাত্য পুরাণের বিভিন্ন প্রসঙ্গ কবিতা, নাটক, পত্রকাব্যসহ নানা মাধ্যমে প্রয়োগ করেছেন। এ ছাড়া ভারতীয় মিথের অসংখ্য চরিত্র ও ঘটনা তাঁর লেখায় অনুসৃত হয়েছে। বিচিত্র আঙ্গিকের কবিতায় পৌরাণিক গল্প ও চরিত্র সন্নিবেশিত হয়েছে। যেগুলো উত্তরকালের সাহিত্যানুরাগীদের পুরাণনির্ভর শিল্পসৃজনে উদ্বুদ্ধ করেছে। বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ (১৮৬১)। এখানে তিনি গ্রিক রীতিতে হিন্দু পুরাণের কাহিনির অবতারণা করেছেন। এই গ্রন্থের মূল উপজীব্য হলো রামায়ণে বর্ণিত রঘুবংশের অধিপতি রামচন্দ্র এবং লঙ্কাপুরীর রাজা রাবণের যুদ্ধবিগ্রহ। এখানে পৌরাণিক আখ্যানের আদলে আধুনিক মনোভাবাপন্ন দেশপ্রেমিক রাবণ চরিত্রকে তিনি উপস্থাপন করেছেন।

রোমান কবি ওভিড-এর লেখা ‘হেরোইদেস’-এর আদলে তিনি লিখেছেন ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ (১৮৬২)। বাংলা সাহিত্যের প্রথম ‘পত্রকাব্য’ হিসেবে অভিহিত এই গ্রন্থে তিনি ভারতীয় পুরাণের নারীচরিত্র উপস্থাপন করেছেন। যেখানে সমকালীন ভারতীয় নারীদের অন্তর্বেদনা আভাসিত হয়েছে। মিথের প্রতি বিশেষ মুগ্ধতা ও নির্ভরতা ছিল বিধায় এটা সম্ভব হয়েছে। এই কাব্যের নারীচরিত্র ‘শকুন্তলা’, ‘তারা’, ‘রুক্মিণী’, ‘কৈকেয়ী’, ‘শূর্পণখা’, ‘ভানুমতী’, ‘দ্রৌপদী’, ‘দুঃশলা’, ‘জাহ্নবী’, ‘ঊর্বশী’, ‘জনা’ মূলত সমকালীন ও উত্তরকালের বাঙালি নারীদের কণ্ঠস্বর। তাঁর হাতেই প্রথম আধুনিক আঙ্গিক অনুসৃত পৌরাণিক নাটক ‘শর্মিষ্ঠা’ (১৮৫৯) সৃষ্টি হয়েছে। নাটকের আখ্যানভাগ মহাভারতের আদিপর্বে বর্ণিত রাজা যযাতি, শর্মিষ্ঠা ও দেবযানীর ত্রিভুজ প্রেমকাহিনি থেকে সংগৃহীত হয়েছে। অনুরূপভাবে ‘পদ্মাবতী’ নাটকেও তিনি ভারতীয় পুরাণের পাশাপাশি গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্পের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই নাটকের শচী, মুরজা ও রতি যথাক্রমে গ্রিক পৌরাণিক গল্পের জুনো, প্যালাস ও ভেনাস। এ ছাড়া পদ্মাবতী ও ইন্দ্রনীল যথাক্রমে হেলেন ও প্যারিস হিসেবে রূপায়িত হয়েছে। মাইকেলের লেখায় পুরাণনির্ভরতার প্রতি এমন মুগ্ধতার নেপথ্যে ছিল নবজাগরণ। তিনি সাহিত্যের বিষয় ও আঙ্গিকে নবজাগরণ ঘটাতে চেয়েছেন। ঔপনিবেশিক শোষণ ও পরাধীনতার শেকল ছিন্ন করতে তিনি মিথের আশ্রয় নিয়েছেন। এর ভেতর দিয়েই নিজের প্রতিবাদ জারি রেখেছিলেন।

মাইকেল-উত্তর বাংলা সাহিত্যের পরম্পরা তালাশ করলে দেখা যায়, মিথ-পুরাণের প্রয়োগ কমবেশি প্রায় সকল কবিই করেছেন। মাইকেল-উত্তর শক্তিমান কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর বিপুল সাহিত্যভান্ডারের বিচিত্র পথে বিভিন্ন পৌরাণিক আখ্যান ও চরিত্রের উল্লেখ করেছেন। রবীন্দ্রনাথের ‘চিত্রাঙ্গদা’, ‘বিদায় অভিশাপ’, ‘বৈষ্ণব কবিতা’-সহ আরও নানা রচনায় মিথ প্রসঙ্গ এসেছে। মিথের প্রতি তাঁর মুগ্ধতাও অস্বীকার করা যায় না। তবে সমসময়ে রবীন্দ্রনাথের তুলনায় কাজী নজরুল ইসলামের লেখায় মিথের প্রতি অধিক আগ্রহ লক্ষ করা যায়। মিথের বিচিত্র ব্যবহারে নজরুল অনন্যতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর কবিতায় রামায়ণ, মহাভারত, বিষ্ণুকথা, অমৃতমন্থনবৃত্তান্ত, শিবপ্রসঙ্গ, কৃষ্ণকথা, গ্রীক, খৃষ্টীয়, মুসলিম সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যনির্ভর পুরাণের প্রকাশ ঘটেছে। মিথের প্রতি এমন নিবিড় মুগ্ধতা ও স্বতঃস্ফূর্ত প্রয়োগ সচরাচর দেখা যায় না। কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী সত্তায় প্রতিনিধিত্ব করেছে বিভিন্ন মিথিকাল চরিত্র ও গল্প। তিনি কবিতায় ভারতীয় পুরাণ ছাড়াও গ্রিক-রোমান ও মিসরীয় মিথ-পুরাণের প্রয়োগ দেখিয়েছেন। বিভিন্ন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিনির্ভর পুরাণ-প্রয়োগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পাঠকনন্দিত ‘বিদ্রোহী’ কবিতা। এখানে তিনি ‘নটরাজ শিব’কে নানারূপে প্রত্যাশা করেছেন। এ ছাড়া ‘পূজারিণী’ ‘মানুষ’ ‘বারাঙ্গনা’ ‘পাপ’ ‘হিন্দু-মুসলিম’ ‘সব্যসাচী’ ‘ইন্দ্রপতন’সহ আরও অসংখ্য কবিতায় মিথ-পুরাণের প্রসঙ্গ এসেছে।

ত্রিশের দশকে আবির্ভূত কবিবৃন্দের কবিতায় মিথ প্রয়োগের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। পঞ্চপাণ্ডব হিসেবে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ, বিষ্ণু দে, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু ও অমীয় চক্রবর্তীর কবিতায় মিথের স্বতন্ত্র প্রয়োগ স্ফূর্তি পেয়েছে। পাশ্চাত্য সাহিত্য-প্রভাবিত এই কবিবৃন্দ কবিতায় প্রযুক্ত করতে চেয়েছেন ইউরোপীয় স্বর। কারণ রবীন্দ্র-নজরুলের উজ্জ্বল কাব্যদ্যুতির পাশে তাঁরা সচেতনভাবেই স্থাপন করতে চেয়েছেন কবিতার নব-ইমারত। ফলে আধুনিক সাহিত্যতত্ত্ব ও দর্শনের অনুগামী হয়ে তাঁরা পৌরাণিক চরিত্রগুলোকে ভাঙাগড়ার ভেতর দিয়ে নতুন রূপে নির্মাণ করতে চেয়েছেন। জীবনানন্দ দাশ নিসর্গের নিবিড় নৈকট্যে নিয়ে গিয়ে কবিতাকে দিয়েছেন নতুন মাত্রা। ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং মিথকে নিসর্গের বাতাবরণে সাজিয়ে পুরাণের জগতে নিয়ে এসেছেন। ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থটি এর উজ্জ্বল উদাহরণ। জীবনানন্দ দাশ তাঁর কবিতায় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের পুরাণাশ্রয়ী হয়ে আদিম দেবতাদের স্বরূপ আবিষ্কারে প্রয়াসী হয়েছেন।

ত্রিশের দশকের মিথাশ্রয়ী গুরুত্বপূর্ণ কবি বিষ্ণু দে। তৎকালীন বিশ্বযুদ্ধের ফলে সৃষ্ট যুগযন্ত্রণার প্রকাশ ঘটেছে মিথ-পুরাণের ভেতর দিয়ে। ব্যক্তির নৈঃসঙ্গ্যবোধ ও নৈরাশ্যবাদিতা বিষ্ণু দের কবিতায় উপস্থাপিত হয়েছে এলিয়টীয় আদলে। বিষ্ণু দে তাঁর ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ গ্রন্থে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের মিথ-পুরাণ ও উপনিষদের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। যেমনÑ উর্বশী, উমা, বজ্রপাণি, পুরুরবা, ওরায়নপ্রিয়া, বাতিচেল্লির ভেনাস, ডায়ানা, ট্রিস্টার্ন ও ঈসোলডে, অর্জুন ও চিত্রাঙ্গদা, ক্লিয়োপেট্রা ইত্যাদি চরিত্রের সর্বজনীন প্রতীকী অর্থ দাঁড় করেছেন। চল্লিশের দশকের সিঁড়ি অতিক্রমণের মধ্য দিয়ে বাংলা কবিতা পঞ্চাশের কালপর্বে প্রবেশ করে। তেমন গুরুত্বপূর্ণ কাব্যপ্রবণতা না থাকলেও এই সময়ের কবিতায়ও মিথ-পুরাণের ব্যবহার দুর্লঙ্ঘ্য নয়। ফররুখ আহমদের ‘সাত সাগরের মাঝি’ এবং জসীমউদ্দীনের ‘নকশি কাঁথার মাঠ’ ও ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ গ্রন্থগুলোও লোকজ মিথ-নির্ভর।

বাংলা কাব্য-পরম্পরায় পঞ্চাশের সময়পর্বের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান। তাঁর কবিতায়ও পূর্বসূরিদের মতো মিথ প্রয়োগের স্ফূর্তি লক্ষণীয়। প্রয়োগের বিবেচনায় তাঁর কবিতায় গ্রিক পুরাণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রয়োগ বেশি দেখা যায়। যদিও তিনি কবিতায় মিথ প্রয়োগের নমুনা সন্ধানে ব্যাপৃত সমালোচকের কড়া সমালোচনা করেছেন। যেমন :
‘আমার সেই নির্মাণে মাননীয় পক্বকেশ পণ্ডিত
হন্তদন্ত হয়ে খোঁজেন গ্রীক পুরাণের উল্লেখ’
(কাব্যতত্ত্ব / প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে)

সময়ের অভিঘাতে জর্জরিত কবি শামসুর রাহমান নিজেকে খুঁজেছেন গ্রিক-পুরাণের চরিত্রাবয়বে। যেমন গ্রিক পুরাণের ‘টেলিমেকাস’। যে কিনা পিতা ওডিসিউসের অপেক্ষায় থাকে। পিতা অভিযান থেকে ফিরে এলেই কেবল কন্যার দুঃখমোচন হবে। কারণ পিতার অবর্তমানে শত্রুপক্ষ তার মা পেনীলোপীকে অতিষ্ঠ করে তোলে। পক্ষান্তরে, শামসুর রাহমানের কবিতায় ‘এই টেলিমেকাস’ চরিত্রে সমকালীন বিপন্ন স্বদেশ রক্ষায় এক স্বপ্নবাজ তরুণের প্রতীক্ষার চিত্রই রূপায়িত হয়েছে। এ ছাড়া ‘বন্দি শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থের ‘আন্তিগোনে’, ‘দুঃসময়ের মুখোমুখি’ কাব্যগ্রন্থের ‘স্যামসন’, ‘ইকারুসের আকাশ’ কাব্যগ্রন্থের ‘ইকারস’, ‘ইলেক্ট্রার গান’, ‘আগামেমনন’, ‘ইচ্ছে হয় একটু দাঁড়াই’ কাব্যগ্রন্থের ‘একিলিসের গোড়ালি’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর কবিতায় ভারতীয় মিথ ও লোকপুরাণের দ্রৌপদী, হনুমান, শস্ত্রপাণি, শিব, চাঁদ সদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, রুস্তম, দুর্বাশা প্রভৃতির প্রয়োগ দেখা যায়।
সর্বোপরি, মিথ হচ্ছে ইতিহাস-ঐতিহ্য ও ধর্মাশ্রয়ী এমন এক অভিজ্ঞতা, যেখানে সত্যকে উপলব্ধি করা যায়। একজন কবি সত্য ও সুন্দরের সাধক বলেই মিথের প্রতি মুগ্ধতা অনুভব করেন। সাম্প্রতিক কবিদের কবিতায়ও মিথ-পুরাণের প্রতি মুগ্ধতা অপসৃত হয়ে যায়নি। আদতে মিথ ব্যক্তিবিশ্বাসের আশ্রয় বলেই মধুসূদন থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ হয়ে ত্রিশের দশকের কবিবৃন্দের হাত ধরে এখনও কবিতায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে সচল রয়েছে।

কবি ও প্রাবন্ধিক




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]