ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৬ জুন ২০২১ ১ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ১৬ জুন ২০২১

ইরানে অনিন্দ্যসুন্দর গওহরশাদ মসজিদ
মোস্তফা কামাল গাজী
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ জুন, ২০২১, ৯:২৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 63

ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক মসজিদ হলো গওহরশাদ মসজিদ। এটি ইমাম রেজার মাজারের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। ইরানে তৈমুরিয়ানদের শাসনামলের প্রখ্যাত ন্যায়পরায়ণ শাসক আমির গিয়াসউদ্দিন তারখানের মেয়ে গওহারশাদ বেগম ১৪১৮ খ্রিস্টাব্দে এই মসজিদ নির্মাণ করেন। সে সময়কার প্রতিবেশী একটি এলাকার শাসক আমির গোরকানির ছেলে শাহরুখ মির্জার সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেন গিয়াসউদ্দিন তারখান। আমির গোরকানি রাষ্ট্র পরিচালনায় মহীয়সী নারী ও পুত্রবধূ গওহরশাদ বেগমের পরামর্শ নিতেন। গওহরশাদ মসজিদের অন্তত দুই স্থানে পাথরের ওপর খোদাই করে এই মহীয়সী নারীর নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে।

প্রায় বর্গাকৃতির মসজিদটি নির্মিত হয়েছে ২ হাজার ৮৫০ বর্গমিটার জায়গার ওপর। এটিতে চারটি আঙিনা এবং সাতটি ছাদযুক্ত বারান্দা রয়েছে। ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শনের পাশাপাশি ইমাম রেজার মাজার সংলগ্ন স্থানে মসজিদটি নির্মিত হওয়ায় এর গুরুত্ব বহুগুণে বেড়ে গেছে। গওহরশাদ জামে মসজিদের পুরো দেয়ালজুড়ে আল্লাহ তায়ালার গুণবাচক নামগুলো ছাড়াও পবিত্র কোরআনের আয়াত ও হাদিসের বাণী লিপিবদ্ধ রয়েছে।

এই মসজিদের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ হচ্ছে এর মেহরাব। ইরান থেকে কাবা শরিফ দক্ষিণ দিকে অবস্থিত বলে দেশটির অন্য সব মসজিদের মতো গওহরশাদ মসজিদের মেহরাবও মসজিদের দক্ষিণ পাশের্^ অবস্থিত। এই মেহরাবের ওপর স্থাপিত রয়েছে দুটো শিলালিপি। এর একটিতে সুরা বনি ইসরাইলের ৭৮ নম্বর আয়াত লেখা রয়েছে। দ্বিতীয় শিলালিপিতে চমৎকার খোদাই করা হরফ দিয়ে আয়াতুল কুরসি লিপিবদ্ধ রয়েছে।

গওহরশাদ মসজিদের আঙিনায় শুরুর দিকে ইট বিছানো ছিল। পরবর্তীতে ইটের পরিবর্তে পাথর বসানো হয়। এই আঙিনার ঠিক মাঝখানে ১৯৫৭ খিস্টাব্দ পর্যন্ত ১২ মিটার লম্বা ও ১২ মিটার প্রস্থ একটি আলাদা কক্ষ ছিল যাকে ‘মাসজেদে পিরেযান’ বা ‘বৃদ্ধার মসজিদ’ বলে অভিহিত করা হতো। এই কক্ষটি শুরুর দিকে কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আগুন লেগে কক্ষটি ভস্মীভূত হয়ে গেলে একজন সম্পদশালী নারী এটিকে পাথর দিয়ে নির্মাণ করে দেন। তখন থেকে এটিকে ‘বৃদ্ধার মসজিদ’ বলে অভিহিত করা হতো। ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত এই কক্ষে নামাজ আদায় করা হলেও বর্তমানে এটিকে অজুখানা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

মসজিদের গম্বুজ তৈরি হয়েছে ফিরোজা রঙের টাইলস দিয়ে, যার ওপরে চমৎকার ক্যালিগ্রাফিতে লেখা রয়েছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। ফিরোজা রঙের গম্বুজটি যেন আকাশের রঙের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। এই গম্বুজের নিচে দাঁড়িয়ে মুসল্লি যখন নামাজ আদায় করেন, তখন তার সঙ্গে যেন আকাশের কোনো দূরত্ব থাকে না। আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অপূর্ব পরিবেশ তৈরি হয় মসজিদজুড়ে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]