ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৬ জুন ২০২১ ১ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ১৬ জুন ২০২১

জুয়া চলছে অনলাইনে, পাচার হচ্ছে টাকা
আবদুল্লাহ আল মামুন
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ জুন, ২০২১, ১:০৯ পিএম আপডেট: ১১.০৬.২০২১ ৩:৫৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 148

অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিবছর বিদেশে পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। বিভিন্ন অ্যাপ, পেজ ও গ্রুপের মাধ্যমে বেশ কিছু চক্র এই প্রতারণা করছে। এ কাজে লোভনীয় অফার প্রদানসহ নারীদের ব্যবহার করে আকৃষ্ট করা হয়। বিটকয়েন ও অন্যান্য অনলাইন মুদ্রার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয় অর্থ। এ ছাড়া বিভিন্ন অনলাইন গেমের মাধ্যমেও বিদেশে টাকা পাচার করা হচ্ছে। দেশের বাইরে থাকা মূল হোতাদের সঙ্গে দেশীয় এজেন্টরা মিলে এ অপরাধমূলক কাজ করছে।

গত ১৮ এপ্রিল স্ট্রিমকার নামে একটি নিষিদ্ধ অ্যাপ ব্যবহার করে জুয়ার মাধ্যমে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের চারজনকে গ্রেফতার করার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। স্ট্রিমকারের মতো আরও কিছু অ্যাপের সন্ধান পেয়েছেন গোয়েন্দারা। এর আগে বিভিন্ন সময় অনলাইনে জুয়া খেলার অ্যাপ, গ্রুপসহ অন্য শতাধিক মাধ্যম বন্ধ করা হলেও নতুন করে শুরু করে চক্রের সদস্যরা।

গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে জুয়া নিষিদ্ধ হলেও একাধিক চক্র নানা ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করে এসব কাজ করছে। বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হলেও নতুন করে তারা সংগঠিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে সরকারিভাবে জুয়া খেলার প্রায় ২০০ সাইট বন্ধ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, অনলাইনে জুয়া খেলার সাইটগুলো নেট দুনিয়ায় ‘বেটিং সাইট’ নামে পরিচিত। মূলত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বেকার যুবক ও তরুণরা অনলাইন জুয়ায় বেশি আসক্ত। সাইটগুলোতে অ্যাকাউন্ট খুলে নিবন্ধিত হয়ে ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে অনলাইন মুদ্রা বা ডিজিটাল কারেন্সি কিনতে হয়। এরপর নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা দিয়ে জুয়া খেলায় অংশ নিতে হয়। মূলত দেশীয় চক্র বিকাশ, রকেট, নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা আদান-প্রদান করে থাকে। পরে আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহারসহ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার করে।

অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) সূত্র জানায়, ‘স্ট্রিমকার’ অ্যাপ ব্যবহার করে জুয়া খেলার মাধ্যমে একটি চক্র কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয়পড়ুয়া সুন্দরী তরুণীদের লাইভে এনে মানুষদের আকৃষ্ট করে ফাঁদ পেতে অ্যাডমিনরা অর্থ হাতিয়ে নিত। ‘বিন্স’ ও ‘জেমস’ নামে দুধরনের ডিজিটাল কারেন্সি ব্যবহার করে লেনদেন হতো। বিন্স এজেন্সি পরিচালনাকারীরা হুন্ডি, হাওয়ালা, ক্রিপ্টো কারেন্সি ও ব্যাংকের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করত।

জুয়া খেলার বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা করেও বিদেশে অর্থ পাচার করা হচ্ছে। গত বছরের ২৬ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর অভিযান চালিয়ে এসপিসি নামে একটি অ্যাপের ছয়জনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। এসপিসি ওয়ার্ড এক্সপ্রেসের অ্যাপটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ বছর ১৭ ফেব্রুয়ারি অনলাইন জুয়ার ১৭৬টি সাইট বন্ধ করেছে বিটিআরসি।

এটিইউর পুলিশ সুপার মাহিদুজ্জামান সময়ের আলোকে জানান, ডিজিটাল অর্থ লেনদেনের সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব নয়। তবে ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হওয়া অর্থের হিসাব জানা যায়। তিনি জানান, গ্রেফতার হওয়া স্ট্রিমার অ্যাপ ব্যবহারকারীরা প্রতিমাসে ১০০ কোটি টাকা করে পাচার করলে গত দুবছরে ২৪০০ কোটি টাকা পাচার করেছে বলে ধারণা তাদের। তবে অন্যান্য ভার্চুয়াল মুদ্রার হিসাব জানা যায়নি। তিনি বলেন, মূলত মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাভাষী লোকদের টার্গেট করা হতো। লাইভ করা তরুণীদের সময়ের ভিত্তিতে টাকা দেওয়া হতো। তিনি বলেন, এ ধরনের আরও কিছু অ্যাপের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসবের বিস্তারিত জানতে অনুসন্ধান চলছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, গত ২ মে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকার বেসিক বিজ মার্কেটিং নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে একটি চক্রের মূল হোতা সুমনসহ ১২ জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। আউটসোর্সিং মার্কেটিংয়ের ওই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে চলছিল অবৈধ বিটকয়েন ব্যবসা। চক্রটি বিদেশে অর্থ পাচার করে আসছিল।

একই বছরের ৯ ডিসেম্বর ঢাকার সাভার থেকে অনলাইন জুয়াড়িদের একটি ফেসবুক গ্রুপের দুই অ্যাডমিনকে গ্রেফতার করে এটিইউ। তারা মানুষকে ‍জুয়া খেলতে আইডি বা অ্যাকাউন্ট খুলে দিত এবং অ্যাকাউন্টে টাকা রিচার্জ করে দিত। একইভাবে গত বছর জুলাইয়ে চট্টগ্রামে অনলাইন জুয়াড়ি দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি (অর্গানাইজড ক্রাইম) মাসুদ-উল-হাসান সময়ের আলোকে জানান, অনলাইনে জুয়া বা প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। এ কাজে যুক্তদের বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নানা পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নতুন কোনো চক্রের সন্ধান পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]