ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৬ জুন ২০২১ ১ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ১৬ জুন ২০২১

শিশু পুত্রকে হত্যার ৬ বছর পর রহস্য উৎঘাটন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ জুন, ২০২১, ৩:২৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 215

জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে নিজের শিশু সন্তানকে হত্যা করে কৌশলে আপন ভাইদের ফাঁসায় লালমনিরহাট জেলার আদিতমারি উপজেলার বড় কমলাবাড়ি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র রুহুল আমিন (৫৬)। সেই ঘটনায় রুহুল আমিন ভাই, ভাবী ও ভাতিজাকে ফাঁসাতে দায়ের করেন হত্যা মামলা। নিজের করা সেই হত্যা মামলায় নিজেই ফেঁসে গেলেন রুহুল আমিন। ক্রিমিনাল ইনভেস্টিকেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডির) তদন্তে ৬ বছর পর বেরিয়ে এসেছে আসল রহস্য।

বৃহস্পতিবার বিকালে সিআইডির জেলা কার্যালয়ে এমনটিই জানিয়েছেন সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আতাউর রহমান।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রুহুল আমিনের কনিষ্ঠ পুত্র ইয়াসিন আরাফাত সন্ধ্যার পর বাড়ির পাশের দোকানে গুল কিনতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। এজাহারে তিনি জানিয়েছে তার কনিষ্ট পুত্র ইয়াসিন আরাফাতকে অনেক খোঁজাখুজির পরও পাননি তারা। পরদিন সকালে কান্নাকাটি ও চিল্লাচিল্লির শব্দ পেয়ে রুহুল আমিন ছুটে গিয়ে দেখতে পান তার পুত্র ইয়াসিন আরাফাতের লাশ ছেড়া চট দিয়ে ঢাকা অবস্থায় তার আপন ছোটো ভাই আবু তাহেরের গোয়াল ঘরের পিছনে মাটিতে পড়ে আছে। এরপরেই রুহুল আমিন তার শিশু পুত্রকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ এনে ভাই ,ভাবী ও ভাতিজাকে আসামী করে আদিতমারি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই রুহুল আমিন তার বড় ছেলে সোহেল রানাসহ সপরিবারে আত্মগোপনে থাকেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তারা কোনো প্রকার সহযোগীতা করেননি । এমনকি মামলার তদন্তে পুলিশ তাদের বাড়িতে গেলেও কাউকে পাননি। এরপর থানা পুলিশ মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করার পরই রুহুল আমিন এলাকায় আসেন এবং মামলা সংক্রান্তে না রাজি করে আবারও নিরুদ্দেশ হয়ে যান।

এরপরেই আদালতের নির্দেশে এই হত্যা মামলার তদন্তে নামে সিআইডি। অনুসন্ধানের পর বেরিয়ে আসে মূল হত্যাকারী শিশুটির পিতা। সিআইডির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক রজব আলী জানান, ইয়াসিন আরাফাতকে রুহুল আমিন ও সোহেল রানা হত্যা করেছে। 

এরপরেই গত ২২ ফেব্রুয়ারি আদিতমারি উপজেলার বড় কমলাবাড়ী এলাকা থেকে রুহুল আমিনকে আটক করা হয়। এরপরেই রুহুল আমিন, রজব আলী ও সোহেল রানা ইয়াসিন আরাফাতকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে এবং কিভাবে হত্যা করা হয়েছে তা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে বর্ণনা দেন রজব আলী।

ছয় বছর পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উৎঘাটন করতে পারায় প্রশংসিত হয়েছেন সিআইডি লালমনিরহাট জেলা। গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর সিআইডি লালমনিরহাট জেলার এডিশনাল বিশেষ পুলিশ সুপারের দ্বায়িত্ব পান মো. আতাউর রহমান। তিনি যোগদানের পর থেকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উৎঘাটনসহ আরও ৬টি দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলার রহস্য উৎঘাটন ও সকল মামলায় মোট ত্রিশ জন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]