ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৬ জুন ২০২১ ১ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ১৬ জুন ২০২১

কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক এখন রিকশাচালক
শিক্ষা খাতটিতে প্রণোদনা ও সহযোগিতা জরুরি
প্রকাশ: শনিবার, ১২ জুন, ২০২১, ১১:১৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 16

করোনা মহামারির প্রভাবে আমাদের শিক্ষা খাতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতির ধারা এখনও অব্যাহত। কবে নাগাদ শিক্ষার্থীরা আবার শিক্ষাঙ্গনে ফিরতে পারবে সে বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত। গত বছরের মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এ পর্যন্ত ১৭ দফা বাড়ানো হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি। দফায় দফায় ছুটিতে ১৫ মাস ধরে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামীকাল (১৩ জুন) স্কুল খোলার কথা ছিল। কিন্তু সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় সরকার বিধিনিষেধের মেয়াদ ১৬ জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এমতাবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এখনও ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির মেয়াদ আরও একদফা বাড়ানো হবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেওয়া যায় আগামীকাল
স্কুল-কলেজ খুলছে না। অন্যদিকে সম্প্রতি করোনাভাইরাসের ডেল্টা  ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এতে শিক্ষার সঙ্কট আরও বেড়েছে। এমতাবস্থায় প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তরের ৪ কোটি শিক্ষার্থী পড়েছে বিপাকে। আর সবচেয়ে করুণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে কিন্ডারগার্টেনে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাস্থ্যবিধি মানতে গিয়ে ক্লাস বন্ধ থাকায় বেতন পাচ্ছেন না কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকরা। একই সঙ্গে টিউশনিও বন্ধ। এসব কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে কর্মহীন অবস্থায় আছেন এই ধারার ১০ লাখ
শিক্ষক-কর্মচারী। শিক্ষক হওয়ায় সামাজিক মর্যাদার কথা বিবেচনা করে তারা কারও কাছে হাতও পাততে পারছেন না। বাধ্য হয়েই পেশা বদল করেছেন অনেকে। কেউ কেউ রিকশা চালাচ্ছেন, কেউ বেছে নিয়েছেন মুদি দোকানদারি। কেউ হয়েছেন ফল বিক্রেতা। নারী শিক্ষকরা ঝুঁকছেন অনলাইন মার্কেটিংয়ে।
আর কিন্ডারগার্টেনকেন্দ্রিক সংগঠনগুলোর জোট কিন্ডারগার্টেন সমমান জাতীয় রক্ষা কমিটি বলছে, সারা দেশে ৪০ হাজার ৮৫০টি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। ৯৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই ভাড়া বাড়িতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১০ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী কাজ করছেন। বাড়ি ভাড়া ও শিক্ষকের বেতন দিতে না পারায় প্রায় ১২ হাজার স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু স্কুল বিক্রি করে দেওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।
আবার বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্কুল চালাতে না পেরে একটি স্কুলের প্রধান স্ট্রোক করে মারা গেছেন। কুড়িগ্রামের উলিপুর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দুজন শিক্ষক আত্মহত্যা করেছেন। সংগঠনটির কাছে শিক্ষকতা পেশা পরিবর্তনকারী ২২ জনের পরিসংখ্যান রয়েছে। এসব ঘটনা খুবই দুঃখজনক।  
আমরা মনে করি, বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন যে তথ্য প্রকাশ করেছে তা একটি প্রতীকী চিত্র মাত্র। বস্তুত কিন্ডারগার্টেনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকরা কেউই ভালো নেই। এমতাবস্থায় সরকারের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো। করোনাকালে সরকার বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা দিলেও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকদের জন্য এখনও পর্যন্ত কোনো সহযোগিতা দেওয়া হয়নি। আমাদের প্রত্যাশা, সরকার অচিরেই তাদের পাশে দাঁড়াবে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সামর্থ্যবান মানুষরাও তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। সরকার ও সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এসব অসহায় শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ালে তাদের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ হবে।









সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]