ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৬ জুন ২০২১ ১ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ১৬ জুন ২০২১

মুক্ত ফুটপাথ, সুন্দর পরিবেশ, শান্তিময় জীবন
প্রকাশ: শনিবার, ১২ জুন, ২০২১, ১১:১৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 15

মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন
বিকট শব্দ। কান ফাটানো আওয়াজ। হামলা। অপারেশন। লুটতরাজ। ১৯৭১ সালে এমন ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই ঘটত। একাত্তরের পর পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ঘটেছিল বর্বরোচিত ঘটনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সবাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। মেশিনগান আর রাইফেলের শব্দে প্রকম্পিত হয়েছিল রাজধানী ঢাকা। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়ক ও এর আশপাশ হয়েছিল রণক্ষেত্র। সেদিনের পর থেকে ঢাকা শহরের মানুষ যেকোনো শব্দ শুনলেই আঁতকে ওঠে।
সকালে ঘুম ভাঙে একটা বিকট শব্দে। জানলাম কারও বিয়ে হচ্ছে। বাজি ফুটিয়ে আনন্দ করছে। যদিও ডিএমপি এলাকায় বাজি ফুটানো নিষেধ। তাপরও কে শোনে কার কথা? যার যার মতো চলে সবাই। একেতো করোনাকাল। আবার জ্যৈষ্ঠের সকাল। বর্ষার আগমনের শুরুতেই কার মনে এত আনন্দ? বিষয়টা অস্বাভাবিক। করোনা অতিমারিকালে নানা অস্বাভাবিক ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে রঙের ঢাকা শহরে। এক শ্রেণির মানুষের কমন সেন্স নেই বলেই এসব ঘটে চলছে।
সাত সকালে আমাকে যথেষ্ট বিরক্ত করেছে আরেক শব্দদূষণ। এক হকার প্রচণ্ড জোরে মাইকিং করে চর্মরোগের মলম বিক্রি করছে। পাড়া-মহল্লায় সাধারণত এত জোরে মাইকিং করে কিছু বিক্রি করা নিষিদ্ধ। তারপরও জোরে জোরে মাইকিং করছে। মাইকিংয়ের শব্দ দেওয়ালে ধ্বনি প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে এসে ধাক্কা দিচ্ছে মহল্লাবাসীর কানে। বিরক্তিকর শব্দটি একজন বয়োবৃদ্ধের কানেও লাগে। তিনি এক কথা দু’কথা বলতে বলতে ফেরিওয়ালাকে জোরে ধমক দেন। ধমক খেয়ে ফেরিওয়ালা চলে যায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর কজন যুবক ছেলে সঙ্গে নিয়ে আসে। ইতোমধ্যে বয়স্ক লোকটি বাসায় চলে গেছেন। ফলে কোনো অঘটন ঘটেনি। এক দূষণ ঠেকাতে গিয়ে আরেক দূষণ। সামাজিক অবক্ষয় হলে এমনই হয়। হ-য-ব-র-ল অবস্থা। রাইট অ্যান্ড লেফট।
ঢাকা শহরের সেই অর্থে কোনো রক্ষক নেই।
তাই এ রকম হচ্ছে। বলা হয় সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ শহরের মা-বাপ। যদি তাই হয় তাহলে দিন নাই রাত নাই অতসব অনিয়ম চলে কেমন করে? শব্দদূষণের কারণে মানুষ বাসাবাড়িতে শুতে বসতে ঘুমাতে পারে না। বাধা দিলে লাগে ঝগড়া। অপরাধ করেও তেড়ে আসে। সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলে। সিটি করপোরেশন আইন, দেশের প্রচলিত আইন, সামাজিক রীতিনীতি কোনো কিছুই মানে না। নিজের ইচ্ছেমতো সব করে। গায়ের জোরে মাইকিং করে ওষুধ এটা সেটা বিক্রি করে। কেউ কিছু বললে মান ইজ্জত বাঁচাতে পারে না।
প্রশ্ন হলো সিটি করপোরেশনের কর্তাব্যক্তিরা কোথায়? এসব উটকো ঝামেলা সামাল দেওয়া কি তাদের দায়িত্ব না? ওয়ার্ডগুলোর সুবিধা-অসুবিধা দেখা, নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা কি তাদের কাজ না? নিশ্চয়ই তাদেরই কাজ। তারপরও তারা নীরব কেন? মাইকিং করে মহল্লায় মলম বিক্রির মতো একটা জঘন্য কাজ করছে তাতে বাধা দেওয়াতে চিৎকার চেঁচামেচি কি গর্হিত কাজ নয়? অবশ্যই গর্হিত। আইন বহির্ভূত। এসবের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনকেই নিতে হবে।
ঢাকা শহরের ফুটপাথে মানুষ হাঁটতে পারে না। দোকান আর হরেক রকম পণ্য। যেন ব্যবসার জন্যই বানানো হয়েছে ফুটপাথগুলো। পথচারীরা দোকান আর মালামালের ফাঁক দিয়ে কোনোরকম হাঁটে। ফুটপাথের দোকানদারদের করুণা নিয়ে তাদের চলতে হয়। কোনো পথচারী সামান্য কিছু বললে সব দোকানদার তেড়ে আসে। বেআইনি কাজ করেও দাপটের সীমা পরিসীমা নেই। সাধারণ নগরবাসী তাদের হাতে পুরোপুরি জিম্মি।
নাগরিক জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে ফুটপাথের দোকানদাররা। এসব দেখারও যেন কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। যদিও ফুটপাথ দখলমুক্ত করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের।
ঢাকা শহরের সাধারণ মানুষের কপালই খারাপ। তারা পৃথিবীতে এসেছে যেন বোবা কালা হয়ে চলার জন্য। সব নীরবে সহ্য করবে। কোনো কথা বলতে পারবে না। প্রতিবাদ প্রতিরোধ করতে পারবে না।
ফুটপাথ দখলমুক্ত করে চলাচল উপযোগী করার জন্য ট্যাক্স দেবে কিন্তু ফুটপাথ দিয়ে হাঁটতে পারবে না। ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার টাকা দেবে কিন্তু বাসার সামনে থাকবে আবর্জনার স্তূপ। রাজধানী শহরের এমনই বেহাল দশা। ফুটপাথ দখলমুক্তকরণ, আবর্জনার স্তূপ অপসারণ আর শব্দদূষণ থেকে মুক্তি দিলে শহরবাসী খুশি। ঢাকাকে তিলোত্তমা নগরী বানাতে হলে ফুটপাথগুলো হকারমুক্ত করতে হবে।
ফুটপাথ দখলের কারণে শহরটাকে আবর্জনার শহর মনে হয়। ফুটপাথে চাঁদাবাজির কারণে শহরটা যেন মাস্তান চাঁদাবাজের আখড়া। মাইকিং করে, চিৎকার চেঁচামেচি করে ফুটপাথে জিনিস বিক্রি করার কারণে মানুষের কান ঝালাপালা। হার্টবিট বাড়ছে।
শহরের মানুষের নব্বই ভাগ যন্ত্রণার মূলে এই ফুটপাথ দখল। কোনো আধুনিক সমাজে এভাবে ফুটপাথ দখল করে কেউ ব্যবসা করে না। শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি মানুষের স্বাভাবিক জীবন অতিষ্ঠ করার জন্য ফুটপাথের দোকানদারদের বড় ধরনের শাস্তির বিধান রেখে আইন করতে হবে এবং এর যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। সাধারণ মানুষ চায় সুস্থ সুন্দর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবন। গুটিকয়েক ফুটপাথ দোকানদারের কারণে তারা দুর্ভোগ চায় না। চায় সুখী সমৃদ্ধ শান্তিময় জীবন।

সাবেক খণ্ডকালীন শিক্ষক
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়
টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগ









সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]