ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৬ জুন ২০২১ ১ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ১৬ জুন ২০২১

টিকটকে বিপথগামী তরুণ প্রজন্ম
প্রকাশ: শনিবার, ১২ জুন, ২০২১, ১১:১৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 23

সৈয়দ ফারুক হোসেন
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে মানুষের অন্যতম সঙ্গী হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। মানুষের নিত্যনৈমিত্তিক জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে এ মিডিয়া। বিনোদনের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক কার্যাবলি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দ্বারা পরিচালিত ও প্রভাবিত হচ্ছে। সব বয়সি ও শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, স্কাইপে, জুম, গুগল মিটিং ইত্যাদি আমাদের নিত্যসঙ্গী। এসব সামাজিক মাধ্যমে নানাবিধ উপকারিতার পাশাপাশি নেতিবাচক দিক রয়েছে। কারণ, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের পরিবর্তে যখন অপব্যবহার হয়, তখন সেই প্রযুক্তি আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। সামাজিক যোগাযোগের এমন কিছু অ্যাপস রয়েছে, যেমনÑ টিকটক, লাইকি, বিগো ইত্যাদি, যেগুলোর কোনো ইতিবাচক দিক নেই। পরিতাপ ও উদ্বেগের বিষয় হলো মানুষ এসবের দিকেই বেশি ঝুঁকছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা মারাত্মকভাবে এসব অ্যাপ ব্যবহারে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এসব অ্যাপ ব্যবহারের ফলে তরুণ প্রজন্ম বিপথগামী হয়ে পড়ছে। নষ্ট হচ্ছে নৈতিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। তরুণ বা কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে অপরাধমূলক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে, হয়ে উঠছে সহিংস। এ অ্যাপসের মধ্যে বিগো লাইভ অ্যাপের মাধ্যমে তরুণ ও যুবকদের টার্গেট করে লাইভে এসে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দিয়ে এবং যৌনতার ফাঁদে ফেলে কৌশলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এসব নিয়ে আমাদের সমাজ চিন্তকদের মনোযোগী হতে হবে। টিকটক ভিডিওতে কাউকে কাউকে মাদক নিয়ে হাজির হতে দেখা যায়। এতে যুবসমাজ মাদক ব্যবহারে উৎসাহী হতে পারে। তাই সাবস্ট্যান্স ইউজ ডিসঅর্ডার নামক রোগের দিকে তারা ঝুঁকে যাচ্ছে। অন্যদিকে, টিকটকে এমন অশ্লীল কর্মকাণ্ড নতুন প্রজন্মের সুস্থ মানসিক বিকাশের সহায়ক নয়। টিকটকের অধিকাংশ ব্যবহারকারীর বয়স ২৪ বছরের নিচে। আবার এদের অনেকে অন্যকে বুলিং করতে টিকটক ব্যবহার করে। ফলে বুলিংয়ের শিকার ছাত্রছাত্রীরা বিষণ্নতায় ভোগে, যা একদিন তাদের আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার শঙ্কা রয়েছে। টিকটক ও লাইকি অ্যাপের মাধ্যমে উৎসাহিত হয়ে অনেক কিশোর-তরুণ উদ্ভট স্টাইলে চুল কেটে ও বিভিন্ন রঙে রঙিন করে এবং ভিনদেশি অপসংস্কৃতি অনুসরণ করে ভিডিও তৈরি করে। যাতে অনেক সময় সহিংস ও কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট থাকে। অশালীন পোশাক পরিহিত তরুণীরা টিকটকের অশ্লীল ভিডিওতে নাচ, গান ও অভিনয়ের পাশাপাশি নিজেদের ধূমপান ও সিসা গ্রহণ করার ভিডিও আপলোড করছে। উদ্বেগজনক বিষয় এই যে, এই টিকটক ও লাইকি ভিডিওগুলোয় নেই কোনো শিক্ষণীয় বার্তা। উল্টো এসব ভিডিওর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা চলে যাচ্ছে। অ্যাপগুলোর মধ্যে এক ধরনের প্রদর্শনের ইচ্ছার বিষয় থাকে। টিকটক ও লাইকি ব্যবহারকারীর অনেকে তথাকথিত স্টার বা সেলিব্রিটি হন। প্রত্যেক সেলিব্রিটি বা স্টারের বলয়ে এক বা একাধিক গ্রুপ থাকে। আর এই গ্রুপগুলোর একসময় কিশোর গ্যাংয়ে পরিণত হওয়ার খবরও মিলেছে। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি, কিশোর গ্যাংগুলো বিভিন্ন অপরাধ, যেমনÑ মাদক গ্রহণ, হত্যাকাণ্ড, মারামারি ও ধর্ষণের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। কিছুদিন আগে ব— ‘টিকটক স্টার’ বানানো হবেÑ এমন কথা বলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া একটি মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করা হয়। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি নির্জন জায়গায়। সেখানে টানা তিন দিন আটকে রেখে চলে দলবেঁধে ধর্ষণ। মেয়েটির নিজেরও একটি টিকটক আইডি ছিল। এ ছাড়া কিছুদিন আগে টিকটক ভিডিও করার সময় এক প্রকৌশলীসহ স্থানীয় লোকজনকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে ‘অপু ভাই’ নামে এক টিকটকার ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। ভয়ঙ্কর তথ্য হলো অপসংস্কৃতির ধারক-বাহক এই অপু ভাইদেরও হাজারো ফ্যান-ফলোয়ার থাকে! বেহায়াপনা ও নির্লজ্জতা ব্যতিরেকে শিক্ষামূলক কোনো কনটেন্ট ভিডিওগুলোয় থাকে না। অথচ উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা বাদ দিয়ে এসব অ্যাপে অধিক সময় ব্যয় করছে। এতে ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
পারিবারিক দায়হীনতা, সম্পর্কের টানাপড়েন, হতাশা, ক্ষোভ, অবহেলাসহ বিভিন্ন কারণে তরুণ প্রজন্ম ও বয়স্কদের কেউ কেউ এসবের পেছনে সময় ব্যয় করছে। নিজে ও পরিবারের সবাইকে নিরাপদ রাখতে এসব বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলা দরকার। সময়ের অনেক কিছুকে আমরা এড়িয়ে যেতে পারব না। নতুন প্রজন্মকে সঠিক সাংস্কৃতিক শিক্ষা না দেওয়ার পরিণাম আমাদের বহন করতে হবে। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনতিবিলম্বে এসব অন্তঃসারশূন্য অ্যাপ নিষিদ্ধ করা উচিত। তা না হলে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও এসব অ্যাপস ব্যবহারে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। এ ছাড়াও পারিবারিক এবং সামাজিকভাবেও সচেতনতা বাড়াতে হবে।

ডেপুটি রেজিস্ট্রার, জাগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়










সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]