ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৬ জুন ২০২১ ১ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ১৬ জুন ২০২১

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে ৮ শর্ত
প্রকাশ: শনিবার, ১২ জুন, ২০২১, ১১:২৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 7

ষ বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি বাণিজ্য ও পণ্য ছাড়করণের ক্ষেত্রে ৮ শর্ত জারি করেছে বেনাপোল কাস্টম হাউস। এর ফলে কাস্টমস কর্মকর্তারা বাণিজ্যে অনিয়ম কমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে মনে করলেও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, এতে বাণিজ্যে ধীরগতি সৃষ্টি হবে। অতিরিক্ত খরচ বেড়ে যাওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা বাণিজ্যে আগ্রহ হারাবেন।
বৃৃহস্পতিবার বিকালে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত শর্ত জারির অনুলিপিটি বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৮টি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।
এসব শর্তের মধ্যে রয়েছেÑ একটি সুনির্দিষ্ট ও ডিটেইল প্যাকিং লিস্ট (সুনির্দিষ্ট বর্ণনা, মার্কস নম্বর, আর্ট নম্বর, পার্ট নম্বর ও ব্র্যান্ড নামসহ) এবং সুস্পষ্ট কান্ট্রি অব অরজিন থাকা বাধ্যতামূলক। আমদানিকৃত পণ্য চালানের বিপরীতে দাখিলকৃত বাণিজ্যিক দলিলাদির সঙ্গে ডিটেইল প্যাকিং লিস্ট এবং কান্ট্রি অব অরজিন দাখিল করতে না পারলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমদানিকৃত পণ্য চালানের প্রতিটি প্যাকেজে একের অধিক আইটেম মিশ্রিত অবস্থায় আমদানি করা যাবে না। একটি প্যাকেজে শুধু ১টি আইটেম আমদানি করা যাবে।
এসোটেড গুডসের প্রতি কনসাইনমেন্ট ৫০০-এর বেশি প্যাকেজ আমদানি করা যাবে না। একটি পণ্য চালান টু হুইলার, থ্রি হুইলার ও ফোর হুইলার পার্টস মিশ্রিত অবস্থায় আমদানি করা যাবে না। পৃথক পৃথক পণ্য চালান আমদানি করতে হবে।
ফেব্রিক্স কিংবা অন্য কোনো পণ্যের কমন ঘোষণা না দিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে যেমন : শাড়ি, প্যান্টিং, কটন, সিনথেটিক, ওড়না, সিনিল ভেলভেট ফেব্রিক্স প্রভৃতি নামে ঘোষণা দিয়ে পণ্য চালান আমদানি করতে হবে। একই পণ্য চালান ২৫টির অধিক আইটেম আমদানি করা যাবে না।
সীমান্তে এন্ট্রি পয়েন্টে পণ্য চালান রিসিভ করতে হলে সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মালিক কর্তৃক সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিকে প্রদত্ত এনওসি দাখিল করতে হবে। আনঅথরাইজড সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট/তাদের প্রতিনিধি/কর্মচারী কাস্টম হাউসে প্রবেশ এবং আমদানিকৃত পণ্য চালান খালাস কাজে নিয়জিত করা যাবে না।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, কাস্টমস নির্দেশিত শর্তের কয়েকটি যৌক্তিকতা আছে। তবে এর অধিকাংশ শর্ত নিয়ম মেনে আমদানি করতে গেলে এতে বাণিজ্যে যেমন ধীরগতি নামবে তেমনি অতিরিক্ত খরচ বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের কারণে এ পথে বাণিজ্যে আগ্রহ হারাবেন অনেক ব্যবসায়ী। বিষয়টি কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে অবগত করা হয়েছে।
বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, বৈধ নিয়ম মানতে সব ব্যবসায়ী বাধ্য। তবে এখানে কয়েকটি শর্ত রয়েছে যা মেনে পণ্য আমদানি করতে গেলে আমদানি খরচ অনেকগুণ বেড়ে যাবে। এতে ছোটখাটো ব্যবসায়ীরা এত খরচ বহন করে আমদানি করতে পারবেন না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, এক কনসাইনমেন্টে বিভিন্ন প্রকারের পণ্য ব্যবসায়ীরা আমদানি করলেও সরকারকে যথাযথভাবে রাজস্ব পরিশোধ করা হয় না। তবে দুয়েকজন অসৎ ব্যবসায়ীর কারণে এমন শর্ত জারি সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বাড়াবে।
যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, কাস্টমস বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে শর্ত জারি করেছে তা তৃণমূল পর্যায়ের ক্ষুদ্র আমদানিকারকরা আর ব্যবসা করতে পারবেন না। কারণ এতে কনসাইনমেন্ট প্রতি আনুষঙ্গিক খরচ দ্বিগুণ হারে বাড়বে। যার প্রভাব পড়বে দেশীয় বাজারে আমদানি পণ্যের ওপর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জারিকৃত কয়েকটি শর্ত পুনঃ বিবেচনা করবেন। বেনাপোল কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার শামিমুর রহমান জানান, ৮ শর্ত মেনে পণ্য আমদানি হলে সরকারের যেমন রাজস্ব আয়ে স্বচ্ছতা বাড়বে তেমনি অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে। খুব দ্রুত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলেও জানান তিনি। জানা যায়, দেশে চলমান ১২টি স্থলবন্দরের মধ্যে সবচেয়ে বড় আর বেশি রাজস্ব দাতা বেনাপোল বন্দরের কাস্টম হাউস। যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়াতে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যে আগ্রহ বেশি।

 চট্টগ্রাম বন্দরের পর বেনাপোল বন্দরের অবস্থান। প্রতিবছর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার আমদানি ও ৮ হাজার কোটি টাকার রফতানি বাণিজ্য হয়ে থাকে। আমদানি বাণিজ্য থেকে সরকারের বছরে ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আসে। অন্যান্য বন্দর দিয়ে আমদানি বাণিজ্যে ব্যবসায়ীদের নানান বৈধ সুবিধা থাকলে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম জারিতে এ পথে ইতোমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী আমদানি বন্ধ করেছেন। এতে গত কয়েক বছর ধরে রাজস্ব আয় ব্যাপক হারে কমে এসেছে। তবে নামধারী কিছু অসৎ ব্যবসায়ী বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে রাজস্ব ফাঁকিও দিচ্ছে অভিযোগ রয়েছে।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]