ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৫ জুলাই ২০২১ ৯ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৫ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

করোনা টিকার মিশ্র ডোজ কি সম্ভব
বাধন অধিকারী ও মাহাদী হাসান
প্রকাশ: শনিবার, ১২ জুন, ২০২১, ৯:২৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 74

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতে ভ্যাকসিনেশনের নতুন পদ্ধতির দিকে হাঁটছেন বিজ্ঞানীরা। বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পর এবার তারা ভাবছেন মিশ্র ডোজের সম্ভাবনা নিয়ে। এখনও কোনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল না হলেও কোনো কোনো দেশ মিশ্র ডোজ প্রয়োগ করেছে। দেখা গেছে, মিশ্র ডোজে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খানিকটা বেশি হলেও এর অ্যান্টিবডি তৈরির ক্ষমতা বেশি। তবে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত টানতে নারাজ বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, আরও বিস্তৃত পরিসরে আরও গবেষণা দরকার।

মিশ্র ডোজ বলতে এক ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ, আরেক ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া বোঝায়। কানাডায় এখন প্রথম ডোজ হিসেবে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাগ্রহণকারীরা চাইলে দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে ফাইজার কিংবা মডার্নার ভ্যাকসিন নিতে পারবেন। মে মাসে বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চার সপ্তাহের ব্যবধান রেখে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও ফাইজার টিকার মিশ্র ডোজ নিয়েছে যুক্তরাজ্যের ৮৩০ জনেরও বেশি মানুষ। মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়েছে, মিশ্র টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি দেখা যাচ্ছে।

ওই গবেষণার ফল সামনে আসার আগেই মিশ্র ডোজ প্রয়োগ শুরু করে ফ্রান্স। দেশটিতে প্রথম দফায় বেশি বয়সিদের অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়া হয়েছিল। রক্ত জমাট বাঁধার অভিযোগ ওঠার পর এই টিকা নিষিদ্ধ হয়। অক্সফোর্ডের টিকার প্রথম ডোজ পাওয়াদের ফাইজারের তৈরি টিকা দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে দেওয়া হয়। এদিকে ৬৬৩ জন মিশ্র ডোজ নেওয়া ব্যক্তির ওপর পরিচালিত স্প্যানিশ কম্বিভ্যাক গবেষণায় দেখা যায়, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও ফাইজার টিকার মিশ্র ডোজ নেওয়া ব্যক্তিদের শুধু অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুই ডোজ টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের চেয়ে দ্বিগুণ অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

১ জুন জার্মানি থেকে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ২৫ থেকে ৪৬ বছর বয়সি ২৬ ব্যক্তি যারা প্রথমে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও ফাইজার টিকার মিশ্র ডোজ নিয়েছেন তাদের অ্যান্টিবডি আলফা ভ্যারিয়েন্টের থেকে ৩.৯ গুণ বেশি শক্তিশালী ছিল। তেমন কোনো পাশর্^প্রতিক্রিয়াও ছিল না। একইভাবে দালহাউসি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, কানাডার ৬৬ বছর বয়সি যে ব্যক্তিরা প্রথমে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও পরে ফাইজার ডোজ নিয়েছেন তাদের অ্যান্টিবডি বেশ শক্তিশালী ছিল।

এখন পর্যন্ত মিশ্র ডোজের করোনা টিকার ওপর কোনো ক্লিনিক্যাল গবেষণা হয়নি। ফলে ক্লিনিক্যালি এর কার্যকারিতা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা গঠনে মিশ্র ডোজের কার্যকারিতা বেশি হওয়ায় পাশর্^প্রতিক্রিয়া বেশি হতে পারে। তবে এখনও বিষয়টির ওপর কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

ম্যাসাচুয়েটস বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল স্কুলের টিকা গবেষক শান লাউ বলছেন, ডোজের মিশ্রণে কার্যকারিতা বৃদ্ধির বিষয়টি এখনও রহস্য। তিনি বলেন, আমরা আংশিকভাবে এর ব্যাখা করতে পারি। মিনেনসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল স্কুলের ইমিউনোলজিস্ট ডেভি মাসপুস্ট বলেন, যেহেতু ভ্যাকসিনগুলো একই প্রোটিনকেই লক্ষ্যবস্তু বানায়, সে কারণে তাত্ত্বিকভাবে এগুলোর মিশ্র ডোজ ভালো কাজ করার কথা। 

গত বছর অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা রাশিয়ারা গামালিয়া ইনস্টিটিউটের সঙ্গে (স্পুটনিক-ভি প্রস্তুতকারী) মিশ্র ডোজ নিয়ে কাজ করবে। মার্চে গবেষণা শুরুর হওয়ার কথা থাকলে তা কী অবস্থায় আছে বিষয়টি জানা যায়নি।

মিনেনসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইমিউনোলজির পরিচালক মার্ক জেনকিন্স বলেন, ইনজেকশন ও নাক দিয়ে দেওয়া ভ্যাকসিনকে এক করতে পারলে বিষয়টি ইতিবাচক হতে পারে। দ্বিতীয় ডোজ নাক দিয়ে প্রবেশ করালে তা ফুসফুকে সক্রিয় হবে। মিশ্র ডোজ যে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে এমন প্রমাণ না থাকলেও বিষয়টি নিয়ে বিস্তৃত গবেষণায় আগ্রহী বিজ্ঞানীরা। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিউনোলজিস্ট ডোনা ফারবারের মতে, ‘এখনই একসঙ্গে কাজ করার উপযুক্ত সময়।’




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]