ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৫ জুলাই ২০২১ ৯ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৫ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

নিপীড়নমুক্ত সমাজ চাই
রুকাইয়া মিজান মিমি
প্রকাশ: রোববার, ১৩ জুন, ২০২১, ৯:০২ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 57

নারী-পুরুষ দুজনেই সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শারীরিক গঠনের কারণে নারীরা এ সমাজে আজও যৌন নিপীড়নের শিকার। এতে করে প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিকভাবে তাদের অপদস্থ হতে হচ্ছে। নারী সমাজকে এই হীনমন্যকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষায় সোচ্চার নারীবাদীরা, প্রণীত হয়েছে নানাবিধ আইনও। তবু নারী সমাজের দুর্দশা থেকে মুক্তি মিলছে না। তাই তো ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে যৌন নিপীড়নের মতো ভয়াবহ ব্যাধি থেকে নারী সমাজকে রক্ষা করতে বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৩ জুনকে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। ২০১০ সাল থেকে নিজস্ব কার্যক্রম নিয়ে পালিত হয়ে আসছে দিনটি।

যৌন হয়রানির থাবা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না ছোট্ট শিশু থেকে বৃদ্ধ নারীরাও। পারিবারিক-সামাজিক ও ধর্মীয় শিক্ষার অভাব, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, অপসংস্কৃতি ও আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব, ভুক্তভোগীদের প্রতিবাদে অনীহা, বইবিমুখ মানসিকতা, প্রযুক্তির অপ-প্রভাব, বিনোদনে অশ্লীলতা প্রদর্শনসহ নানা কারণ যৌন হয়রানিকে প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া আমাদের দেশে নারীরা আজো আর্থিকভাবে পুরোপুরি মুক্ত না হওয়ায় পুরুষতান্ত্রিক সমাজে তাদের আজো অবদমন করেই রাখা হয়। পাশাপাশি উচ্চক্ষমতার  প্রভাব ও রাজনৈতিক জটিলতার কারণে যৌন হয়রানি আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন পরিলক্ষিত হয় অনেক সময়ই। ফলে প্রতিনিয়ত নারীদের লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের ছোঁয়া যেন আরও ভয়ঙ্কর। পথে-ঘাটে, পাবলিক পরিবহনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কর্মক্ষেত্রে এমনকি অনেক সময় বাড়িতেও নিরাপদ নয় নারীরা। যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যান সংস্থা ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের মতে, বিশে^ ৩৫ শতাংশ নারীই যৌন হয়রানির শিকার। এ ছাড়া জাতীয় রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে ৮৪ ভাগ নারী  প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। যার অধিকাংশই নারী ও শিশু, যারা প্রতিবাদ করতে অক্ষম। এক গবেষণায় জানা যায়, প্রতি চারজনে একজন শিশু যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। আর কিশোরীরা তো প্রায় প্রতিনিয়তই এর মুখোমুখি দাঁড়াচ্ছে। গুটি কয়েকজন প্রতিবাদী হলেও অনেকে সমাজে অবমাননা হওয়ার ভয়ে মুখ বুঝে সহ্য করে যাচ্ছে এবং পরিণতি ঘটছে আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে।

এ ছাড়া কর্মক্ষেত্রে বিশেষ করে পোশাকশ্রমিক নারীদের অবস্থা আরও করুণ। করোনাকালে এর প্রাদুর্ভাব যেন আরও বেড়েছে। এর থেকে নারী সমাজকে রক্ষা করা জরুরি। যৌন হয়রানি নিরোধে সংগঠনগুলোকে আরও সোচ্চার হতে হবে। বেশি বেশি সামাজিক আলোচনা অনুষ্ঠান, ব্যানার  প্রদর্শনসহ নানাভাবে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে লোকসমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। যৌন হয়রানি আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। শিশুর বেড়ে ওঠার নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অপ্রয়োজনে  প্রযুক্তি ব্যবহার না করা, নারীকেও মানুষ ভাবার মনোভাব ও বেশি বেশি বইপড়া ও সুষ্ঠু বিনোদনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এ ছাড়া নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধিতে পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয়  প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিত করার প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে যৌন হয়রানিকে প্রতিরোধ করতে।

 রুকাইয়া মিজান মিমি শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]