ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১ ৯ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

থামছে না নৃশংসতা
পারিবারিক মূল্যবোধের সঙ্গে চাই কঠোর শাস্তি
প্রকাশ: রোববার, ১৩ জুন, ২০২১, ৯:১৪ এএম আপডেট: ১৩.০৬.২০২১ ৯:২৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 75

সমাজে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে নৃশংসতা। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে খুন ও হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা। অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় এই যে, এসব পৈশাচিক ঘটনার অধিকাংশই ঘটছে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে। শুক্রবার রাজধানীর ভাটারায় জোবেদা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী রিকশাচালক আবুল কাশেমকে আটক করা হয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার গুলশানের কালাচাঁদপুরে নিকিতা আক্তার নামে এক নারী নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। গত ২ জুন নাটোরের বড়াইগ্রামের ভবানীপুর জোলাপাড়া গ্রামে শাহানুর বেগম নামে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে নিজ ঘরে গলা ও হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

এ ছাড়া সম্প্রতি দক্ষিণখানে বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্বামীকে কেটে সাত টুকরো করে এক নারী। একই কারণে গাজীপুরে আরেক নারী স্বামীর লাশ করাত দিয়ে কেটে ভাগাড়ে ফেলে দেয়। দ্বিতীয় বিয়ে করায় মহাখালী এলাকায় স্বামীকে হত্যার পর ছয় টুকরো করেছে ফাতেমা নামে এক নারী। গত সপ্তাহে পল্লবীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধে ভাড়াটে কিলার দিয়ে স্থানীয় যুবক সাহিনুদ্দিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ৯ মে বাগেরহাটে টিকটক করা নিয়ে দ্বন্দ্বে স্ত্রী সুমাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর থানায় আত্মসমর্পণ করে স্বামী শান্ত। ১৫ মে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামী রুক্কু মিয়াকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী রুবিনার বিরুদ্ধে। এসব নৃশংস ঘটনা এখন জাতীয় দৈনিকের গুরুত্বপূর্ণ খবর।

আমাদের সমাজব্যবস্থার অন্যতম মূল ভিত্তি পরিবার। কিন্তু বিভিন্ন কারণে পারিবারিক কলহের ঘটনা বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পরিবারের এক সদস্যের হাতে আরেক সদস্য খুন হওয়ার ঘটনা। স্বামী-স্ত্রীর কলহের জেরে প্রাণ দিতে হচ্ছে নিষ্পাপ শিশুকে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে পরিবারের সবার একসঙ্গে আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে। অর্থাৎ এখন মানুষ শুধু ঘরের বাইরেই নয়, তার আপনজনদের কাছেও নিরাপদ নয়।

বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ বিভাগের তথ্যানুযায়ী বছরে মোট হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪০ শতাংশ সংঘটিত হচ্ছে পারিবারিক কলহের কারণে। আর অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, অভাব-অনটন, অর্থের প্রতি প্রবল দুর্বলতা, চাওয়া-পাওয়ার অসঙ্গতির কারণে দাম্পত্য কলহ ও স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতি বিশ্বাসহীনতা, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অস্থিরতা, অপসংস্কৃতির আগ্রাসন, স্বল্প সময়ে ধনী হওয়ার আকাক্সক্ষা, বিষণ্নতা ও মাদকাসক্তিসহ বিভিন্ন কারণে সামাজিক অশান্তি বাড়ছে। এর চরম পরিণতি হিসেবে আপনজনদের হাতেই নির্মম হত্যার শিকার হচ্ছে অনেকে। এসব ঘটনা সমাজের বড় ধরনের অবক্ষয় বা ভবিষ্যতের ভয়াবহ পরিণতির ইঙ্গিত করছে।

সমাজচিন্তকদের মতো আমরাও মনে করি, সমাজ এবং পরিবারে আত্মকেন্দ্রিকতা ও বিচ্ছিন্নতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধ সৃষ্টি, সামাজিক-পারিবারিক নীতি-নৈতিকতা ও পারস্পরিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করা জরুরি। সেই সঙ্গে নৃশংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তবেই সমাজে এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]