ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১ ৯ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

মুনাফাখোরদের বিরুদ্ধে ইসলামের হুঁশিয়ারি
মুফতি আতিকুল্লাহ আসাদ
প্রকাশ: রোববার, ১৩ জুন, ২০২১, ৩:১২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 91

ইসলামে ব্যবসার মাধ্যমে পণ্য বিক্রি ও মুনাফা অর্জনের বিধান রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা অবলম্বন করা এবং সব ধরনের ধোঁকাবাজি ও প্রতারণা থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যবসার লক্ষ্য হলো সম্পদের প্রবৃদ্ধি ঘটানো বা মুনাফা লাভ করা। ব্যবসার মাধ্যমে মূলধনের মুনাফা লাভ ইসলামে সম্পূর্ণ জায়েজ। 

ঐতিহাসিক সমাজবিজ্ঞানী ইবনে খালদুন বলেন, ‘সস্তায় পণ্য ক্রয় করে বেশি দামে বিক্রি করে মূলধনের প্রবৃদ্ধি ঘটানোর মাধ্যমে উপার্জনের চেষ্টা চালানোই হচ্ছে ব্যবসা। আর ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত এ বাড়তি পরিমাণটাকে বলা হয় মুনাফা।’ (মুকাদ্দামা ইবনে খালদুন : ৩২৮)।

পুঁজিবাদী অর্থ ব্যবস্থায় যেকোনো উপায়ে মুনাফা অর্জনের অবাধ সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ইসলামী অর্থনীতিতে অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জিত মুনাফা হারাম। কারণ তা শোষণের হাতিয়ার। ইসলামী শরিয়তে মুনাফা বা লাভের কোনো পরিমাণ নির্ধারিত নেই। বরং তা সাধারণ বাজারদরের ওপর নির্ভরশীল। মূলত ক্রয়-বিক্রির ক্ষেত্রে লক্ষণীয় হলোÑ ১. তাতে জুলুম না থাকা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা জুলুম থেকে বেঁচে থাকো। কেননা জুলুম কেয়ামতের দিন ঘন অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে।’ (মুসলিম : ২৫৭৮)। ২. ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের সম্মতি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ক্রয়-বিক্রয় কেবল পারস্পরিক সম্মতিতে অনুষ্ঠিত হয়।’ (ইবনে মাজা : ২১৮৫)। ইসলাম সুদের মাধ্যমে মুনাফা লাভের পন্থাকে হারাম ঘোষণা করেছে। অনেকে সুদ ও মুনাফাকে একই মনে করেন। অথচ এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সুদ হলো ঋণের শর্ত অনুযায়ী ঋণগ্রহীতা কর্তৃক ঋণদাতাকে মূল অর্থের সঙ্গে প্রদেয় অতিরিক্ত অর্থ। পক্ষান্তরে হালাল ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জিত লভ্যাংশকে বলা হয় মুনাফা। আর মিথ্যা, ধোঁকা ও অবৈধ উপায়ে লাভ করার নেশায় যে মত্ত থাকে তাকে বলা হয় মুনাফাখোর।

ইসলাম মুনাফাখোরিকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে এবং তা প্রতিরোধের জন্য কয়েক ধরনের ব্যবসাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। যেমন- ব্যবসায় প্রতারণা, মিথ্যা কসম করা, মূল্যবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি মজুদ করা এবং সব ধরনের অবৈধ ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদি। পণ্যমূল্য জানে না এমন ক্রেতা থেকে বেশি মূল্য আদায় করা ইসলামে নিষিদ্ধ এবং এটা এক ধরনের ধোঁকার শামিল। যেমন বিক্রেতা বলবে, আমি এই জিনিসটি এত দামে ক্রয় করেছি। অথচ সে মিথ্যাবাদী। এটিকে বলা হয় নাজাশ। এটি মুসলমানদের সঙ্গে প্রতারণা করা এবং মিথ্যা বলে তাদের ধোঁকা দেওয়া। এটি হারাম এবং অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভক্ষণ করার নামান্তর। (আল বুয়ু আল মানহি আনহা ফিল ইসলাম : ২৪)। মুনাফাখোরির পথকে রুদ্ধ করার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) বাজারে পণ্য আসার আগেই ক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিক্রয়ের বস্তু বাজারে উপস্থিত করার আগে অগ্রগামী হয়ে তা ক্রয়ের জন্য যেও না।’ (বুখারি : ২১৬৫)। উল্লিখিত ক্রয়-বিক্রয়ের ফলে মূল বাজারে পণ্যদ্রব্যের আমদানি ব্যাহত হয়। ফলে পণ্যের সঠিক মূল্যও নির্ধারিত হয় না। কেননা সঠিক মূল্য নির্ধারণ সম্ভব হয় বাজারে পণ্যের আমদানি ও তার চাহিদা অনুপাতে। কিন্তু ওই অবস্থায় বিক্রেতা বাজারের দর-দাম কিছুই জানতে পারে না।

ইসলামে মজুদদারিকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যাতে মুনাফাখোরির সুযোগ না থাকে। কারণ মজুদদারির উদ্দেশ্যই হচ্ছে অত্যধিক মুনাফা অর্জন। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে পণ্য মজুদ করে, সে পাপী।’ (মুসলিম : ১৬০৫)। উল্লেখ্য, সাধারণভাবে পণ্য মজুদ করা দোষের নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের পরিবারের জন্য এক বছরের খাদ্য মজুদ রেখেছেন। তবে বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে মুনাফাখোরির উদ্দেশ্যে মজুদ করলে অবশ্যই তা অপরাধ হবে। মুনাফাখোরি সমাজ ও জনকল্যাণবিরোধী ঘৃণ্য পুঁজিবাদী মানসিকতা। ইসলাম এ ধরনের মুনাফাখোরি মনোভাবকে ধিক্কার দিয়েছে। তবে ইসলামে হালাল উপায়ে ব্যবসার মাধ্যমে মুনাফা অর্জনে কোনো বাধা নেই।

খতিব, রোশাদিয়া শাহী জামে মসজিদ, উত্তরা, ঢাকা




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]