ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১ ৯ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

সমমানের প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার সঙ্কট
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ জুন, ২০২১, ৮:৫৯ এএম আপডেট: ১৪.০৬.২০২১ ৯:২৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 88

বাংলাদেশে যুগ যুগ ধরে শিক্ষাক্ষেত্রে সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষার অভাব বিরাজ করছে। একই স্তরে যত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে তার মধ্যে পঠনপাঠন, পাঠদান, ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা ইত্যাদিতে বড় ধরনের ব্যবধান চোখে পড়ার মতো। সারা দেশব্যাপী এই চিত্রটি একেবারেই ভয়াবহ আকার ধারণ করে আছে। শিক্ষা প্রশাসনে যারা জড়িত তারা বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত। কিন্তু কোনো কালেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিরাজমান বৈষম্য, ব্যবধান, দূরত্ব, মানের সঙ্কট কমিয়ে আনা বা দূর করার তেমন কোনো বড় ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। সে কারণেই শিক্ষাক্ষেত্রে মানের সঙ্কট সর্বত্র শুধু বিরাজমানই নয়, গভীরতর হচ্ছে। খোদ রাজধানী ঢাকা শহরের যেকোনো স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষার মান, পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে ভিন্নতা ও দূরত্ব চোখে পড়ার মতো। একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতা হচ্ছে শিক্ষার্থী বেশি পাওয়া, তবে মানসম্মত শিক্ষাদান, পরিবেশ, পরিস্থিতি সৃষ্টি করার মতো আবশ্যকীয় বিষয়গুলো অনেকেই অগ্রাহ্য করে চলছেন। এমনকি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও নেই কাক্সিক্ষত মানসম্পন্ন শিক্ষার পরিবেশ ও পরিস্থিতি বজায় রাখা। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চলছে যার যার মতো। সেগুলোতেও নেই শিক্ষার আবশ্যকীয় উপাদান। 

আবার নানা ধারা ও ধরনের যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যুগ যুগ ধরে গড়ে উঠছে, চলছে সেগুলোর মধ্যেও প্রয়োজনীয় শিক্ষার মান আছে কি নেই সেটিও বোঝার সুযোগ কম। এসব কারণে ঢাকা শহরেই অভিভাবকরা সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষাদানের জন্য কয়েকটি এলাকায় অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানদের ভর্তি করানোর জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করার চেষ্টা করে থাকেন। অনেক সময় এর জন্য তাদেরকে অধিক অর্থ ব্যয় করতে হয়, প্রভাবশালী কারও দ্বারস্থ হতে হয়। সুযোগ মিললে সন্তানের যাতায়াতের জন্য বাড়িভাড়া করেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে থাকতে হয়। এটি মোটেও সুস্থতার কোনো লক্ষণ নয়। কতিপয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর যখন গোটা শহরের অভিভাবকদের নির্ভর করতে হয়, কিংবা তারা যখন মুষ্টিমেয় কয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর ভর করেন তখন ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ মোটেও অনুকূল থাকার কথা নয়। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যারা থাকেন, তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উচ্চমূল্যের সুযোগ নিয়ে নানা ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। আবার শিক্ষকদের মধ্যেও নানা ধরণের অনিয়ম, বাড়তি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া ও নেওয়ার মনোবৃত্তিও সৃষ্টি হয়। 

এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিক্ষার মান ও পরিবেশ সেই প্রতিষ্ঠানে ধরে রাখা সম্ভব হয় না। অন্য শহরগুলোতেও পরিস্থিতি প্রায় অনুরূপ। গ্রামাঞ্চলের বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই চলছে ঢিমেতালে। বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরই শিক্ষার পরিবেশ প্রত্যাশিত মানের ধারে কাছেও নেই। সরকারি যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে সেগুলোতে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতে যথেষ্ট তারতম্য রয়েছে। আবার মানসম্মত পাঠদান ঠিকমতো না হওয়ার কারণে অনেক অভিভাবকই সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান। এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলে এখন নানা ধরনের বাহারি নামে কেজি স্কুল, ক্যাডেট স্কুল, গার্লস স্কুল, কওমি মাদ্রাসা, ক্যাডেট মাদ্রাসা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অনেকেই ছাত্র সংগ্রহে নানাভাবে অভিভাবকদের প্রলুব্ধ করে থাকে। অভিভাবকদের অনেকেই তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেন। তাদের সন্তানদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ছাড়িয়ে ওইসব প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে এ নিয়ে তেমন কোনো বোধোদয় নেই। স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসনও বিষয়গুলো নিয়ে করণীয় নির্ধারণ করতে ভূমিকা রাখে না। বেশিরভাগ উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন অধীনস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন হালচাল সম্পর্কে অবহিত থাকা সত্ত্বেও তেমন কোনো উদ্যোগ নেয় বলে মনে হয় না।

প্রাথমিক স্তরের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মানের সঙ্কট যুগ যুগ ধরে চলে আসার কারণে অনেক শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে ঝরে পড়ে, অভিভাবকরাও এদের নিয়ে তেমন কিছু করার ভূমিকা রাখেন না। সমস্যাটি উভয়ক্ষেত্রের অর্থাৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের শ্রেণিপাঠ আনন্দদায়ক হচ্ছে না, পিছিয়ে পড়া শিশুদের এগিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা কার্যকর থাকে না। একইভাবে অভিভাবকদের বড় অংশই নিজের সন্তানের পড়ালেখার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তদারকি করেন না। যাদের আর্থিক অবস্থা অপেক্ষাকৃত ভালো তাদের অনেকেই উপজেলা বা শহরের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানদের ভর্তি করিয়ে বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকার চেষ্টা করেন। অনেক অভিভাবক পিছিয়ে পড়া সন্তানদের মাদ্রাসা কিংবা অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমর্পন করেন। গ্রামাঞ্চলের বেশিরভাগ এমপিওভুক্ত স্কুল মাদ্রাসায় লেখাপড়ার মান ও পরিবেশ অনুকূল নয়। শিক্ষক নিয়োগে যুগ যুগ ধরে অনিয়ম দুর্নীতি চলে আসায় মেধাবী শিক্ষকের অভাব স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোতে প্রকট আকার ধারণ করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা পরিষদে রয়েছে বড় ধরনের গলদ। স্থানীয় প্রভাবশালী এবং রাজনৈতিক পরিচয়ে শিক্ষাদীক্ষায় অসফল অনেক ব্যক্তি এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব ছলে-বলে-কৌশলে গ্রহণ করে থাকেন। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানের দিকে নয়, বরং অর্থ ও প্রভাব বিস্তারের দিকেই নজর দিতে বেশি আগ্রহী থাকেন। ফলে বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই নানা ধরনের কোন্দল চলে আসছে। কমিটির পরিবর্তন হয়, সমস্যা সমাধানের চেয়ে জটিলতাই বৃদ্ধি পায়। মূলত শিক্ষাবিমুখ পরিচালনা পরিষদ দিয়ে বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে।

ফলে গ্রাম থেকে খুব স্বল্পসংখ্যক মেধাবী শিক্ষার্থী শিক্ষার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তর অতিক্রম করে উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করার সুযোগ লাভ করতে পারে। অথচ দেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে। তাদের নির্ভর করতে হয় ওইসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো যুগ যুগ ধরে চলে আসছে মানহীন শিক্ষার অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে। এ কারণেই বেশিরভাগ গ্রামের শিক্ষার্থীর মধ্যে বর্তমান মেধার প্রতিযোগিতায় বেড়ে ওঠার মতো শিক্ষার্থীর সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কমে যাচ্ছে। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা বেকার হয়ে পড়ছে, অনেকেই সমাজের বোঝা হয়ে উঠছে, নানা অপরাধ ও উচ্ছৃঙ্খলতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংশ্রব ঘটছে। অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ খুব একটা থাকছে না। গ্রামাঞ্চলে মেয়েদের ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ে সে কারণেই রোধ করা যাচ্ছে না। লেখাপড়ায় বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যদি নিচের ক্লাস থেকে বেড়ে ওঠার সুযোগটুকু পেত তাহলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে আরও বেশি সাফল্য নিয়ে বের হয়ে আসার স্বপ্ন দেখত। সেক্ষেত্রে উচ্চতর শিক্ষা কিংবা নিজেদের মেধা, পছন্দ ও যোগ্যতা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, শিক্ষালাভ বা কর্মসংস্থান করার সুযোগ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা এই তরুণরাই করতে পারত। কিন্তু বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাসের সনদ লাভ করলেও জ্ঞানের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন না করার কারণে সর্বত্র ছিটকে পড়ার সম্মুখীন হয়। এসব তরুণ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিশোরকালেই অনিশ্চয়তা দেখতে পায়, অনেকে তখনই বখে যাওয়ার পথে পা বাড়ায়। 

আমরা যদি পেছনের দিকে খুব নির্মোহভাবে দেখার চেষ্টা করি তাহলে যে বিষয়টি আমাদের কাছে স্পষ্ট ধরা দেবে সেটি হলো আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে মানহীন এবং অসম মানের প্রতিষ্ঠানের কারণে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই শিক্ষা-দীক্ষায় খুব বেশি এগোতে পারেনি। অনেকেই হয়তো ব্যবসা-বাণিজ্য, নানা ধরনের আয় উপার্জনের বৈধ-অবৈধ পথের সন্ধান পেয়েছেন। সেভাবেই কেউবা অর্থবিত্তে সফল হয়েছেন, অনেকে সমাজ-রাজনীতি ইত্যাদিতে জায়গা করার পথ খুঁজেছেন। সে কারণেই সমাজে নীতি-নৈতিকতা, আদর্শ, মানবিকতা, উন্নত চিন্তাধারার প্রকট অভাব সহজেই দৃশ্যমান। বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে জ্ঞানবিজ্ঞানের কোনো প্রভাব কার্যকর হতে দেখা যায় না। অন্ধবিশ্বাসে তাড়িত হচ্ছে বিরাট সংখ্যক মানুষ। অবৈধ অর্থবিত্ত ও প্রভাব বিস্তারে অনেকেই ‘সফল’ হচ্ছেন, অনেকেই সমাজের জন্য যুগ যুগ ধরে সমস্যার কারণ হয়ে আছেন।

অথচ আজকের উন্নত দুনিয়ার যে দেশেই আপনি যাবেন সেখানে সরকারি-বেসরকারি যে ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই দেখুন না কেন সেগুলোর আকার, পাঠদানের মান, শিক্ষক, জনবল, প্রশাসন, পরিচালনার ব্যবস্থাপনা প্রায় অভিন্ন। প্রতিটি এলাকায় জনসংখ্যার অনুপাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অনুমতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় দিয়ে থাকে। সরকারি বেসরকারি যে ধরনেরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হোক না কেন তাতে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ শিক্ষক, ল্যাব, লাইব্রেরি, খেলার মাঠ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পূরণ করতেই হয়। এক এলাকার অভিভাবকরা অন্য এলাকায় সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর কথা কল্পনাই করতে পারেন না। সেটি তাদের প্রয়োজনও পড়ে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার নির্দিষ্ট মান বজায় রাখতেই হয়।

নতুবা শিক্ষক ও প্রশাসকদের এর জন্য জবাবদিহি করতে হয়। গ্রাম ও শহরের সর্বত্র সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানে খুব বেশি তারতম্য হয় না। বিশেষত স্কুল পর্যায়ে ওই মানটি কঠোরভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরদারিত্বে থাকে। উচ্চশিক্ষা তথা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান নিয়ে প্রতিযোগিতাই হচ্ছে টিকে থাকার একমাত্র উপায়। যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উচ্চশিক্ষায় গবেষণা, পাঠদান, শিক্ষার্থীদের সহপাঠক্রম, মুক্তচিন্তা ও সহাবস্থানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সামন্যতম কার্পণ্য বা দুর্বলতা প্রদর্শন করে সেটিকে বেশ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। র‌্যাংকিংয়ের প্রতিযোগিতায় সেটি নেমে যাওয়ার আশঙ্কায় থাকে। তাতে শিক্ষার্থী হারানোর ভয় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর থাকে। সে কারণে উন্নত দেশগুলোতে স্কুল পর্যায়ে মানের সমতা অক্ষুণ্ন রাখার প্রতিযোগিতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরন্তর করতে হয়। শিক্ষাক্রমে যেসব পরিবর্তন ও সংযোজন ঘটে সেগুলোকে দ্রুতই ধারণ করার উদ্যোগ শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসকদের নিতে হয়। একইভাবে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও মানের প্রতিযোগিতায় সব প্রতিষ্ঠানকেই নিজস্ব উদ্ভাবনী ক্ষমতা, দক্ষতা সৃষ্টি করতে হয়। এসব কারণে উন্নত দুনিয়ায় সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে

কৃতী ও সফল শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় শতভাগ। অন্যদিকে আমাদের অবস্থানটি কোথায় এর কি কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যাবে? আমাদের দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে কারও কারও ব্যবসায়িক, রাজনৈতিক এবং বেকারত্ব দূরীকরণের স্বার্থে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, করণীয়, চরিত্র, দর্শন, দায়িত্ব কী- সেটি উদ্যোক্তাদের অনেকেরই জানা নেই। জানার প্রয়োজনও তারা মনে করেন না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান দেশে রয়েছে কি না সেটিও অনেকেই জানে না, জানলেও তোয়াক্কা করে না। সে কারণেই এসব প্রতিষ্ঠানে কী পড়াশোনা হচ্ছে, কী বই পড়ানো হচ্ছে, কী শিক্ষাক্রম পড়ানো বা অনুসরণ করা হচ্ছে, কারা পড়াচ্ছে, শিক্ষাপ্রশিক্ষণে তাদের কোনো প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা আছে কি না এসবের অনেক ক্ষেত্রেই কোনো বালাই নেই। আবার এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সনদের সম্মানও দিতে দেখা যাচ্ছে।

দেশে ১০-১২টি ধারা-উপধারায় শিক্ষাব্যবস্থা বিভক্ত। এদের শিক্ষার ধারাই অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভিন্ন। আবার নানা ধরনের বেসরকারি পেশা, টেকনিক্যাল, প্রযুক্তি ইত্যাদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও দেশে গড়ে উঠেছে ও উঠছে। সেগুলোতেও নেই মানের ন্যূনতম সমতা বিধান। এর ফলে শিক্ষা সনদ নিয়ে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এক ধরনের নৈরাজ্য। সেই নৈরাজ্য থেকেই জন্ম নিচ্ছে রাষ্ট্র, সমাজ, রাজনীতিসহ সর্বত্র আধিপত্যের প্রতিযোগিতা, দুর্নীতি, অপেক্ষাকৃত মেধাহীনদের  দৌরাত্ম্য। ফলে আমাদের মধ্য থেকে মেধাবী, দক্ষ, যোগ্য, আদর্শবান, দেশপ্রেমিক, যুক্তিবাদী, মুক্তচিন্তা ও বিজ্ঞান সচেতন জনশক্তি সৃষ্টি হচ্ছে না। আমাদের নীতি নির্ধারক এবং সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়গুলোকে এসব দূর অতীত থেকে চলে আসা সমস্যা ও সঙ্কটের সমাধান ও প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করতে হবে। তবেই শিক্ষার পেছনে রাষ্ট্র এবং ব্যক্তি পর্যায়ে যে অর্থ ব্যয় করা হয় সেটি যথার্থ অর্থ বহন করবে। একই সঙ্গে আমাদের দেশ ও জাতি প্রকৃত শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরি করতে সক্ষম হবে।

গবেষক ও ইতিহাসবেত্তা




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]