ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১ ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

এবারও অটোপাস?
সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হোক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ জুন, ২০২১, ১০:০৬ এএম আপডেট: ১৫.০৬.২০২১ ১০:০৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 91

করোনার কারণে ১৫ মাস ধরে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়িয়েছে সরকার। এ সময় কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিগত বছর সব শ্রেণিতে অটোপাস দেওয়া হয়েছে। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসির ফল প্রকাশ করা হয়েছে। অটোপাস নিয়ে নানা সমালোচনা হয়েছে। এখনও চলছে। চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে এ কথা জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

এ বছরের চলতি মাসে এসএসসি ও সমমান এবং জুলাই-আগস্টে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত পরীক্ষা নেবে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিগগিরই পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে গতবারের মতো অটোপাস দেওয়া হবে কি না- এমন প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবছেন তারা। তবে সবকিছু নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর। জানা যায়, সংক্ষিপ্ত সিলেবাস সম্পন্ন করেই পরীক্ষা নেওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়ার প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে না আসার কারণে বছরের শেষদিকে হলেও দুটি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ গত বছরের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ানো হয় আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।

বিদ্যমান পরিস্থিতি অনুযায়ী ‘জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি’র একজন সদস্য গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের আগে হয়তো করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্থিতিশীল অবস্থায় আসবে না। এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য আমরা চেষ্টা করছি সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়ার। এখন সেটিও যদি না হয়, আমরা তার বিকল্প নিয়েও চিন্তা করছি। শিক্ষার্থীরা তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনা বাড়িতে যেটুকু সম্ভব, চালিয়ে যাবে। অনলাইনে বা অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে যা হচ্ছে, সেটি তো হচ্ছেই। এ ক্ষতিটা সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষতি। এ ক্ষতিটা সারা বিশ্বেই হচ্ছে। এ ক্ষতিটা কী করে পুষিয়ে নেওয়া যায়, সে ব্যাপারেও আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।’

চলতি বছরে কয়েক দফায় স্কুল ও কলেজ খোলার দিনক্ষণ নির্ধারণ এবং প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলা হলেও মহামারি পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। অটোপাস দেওয়া হবে, নাকি সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হবে- সরকারের এমন চিন্তাভাবনা থাকলেও ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের দাপটে সীমান্তের জেলাগুলোতে করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়াচ্ছে। তাই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে বিকল্প ভাবছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকিতে ফেলে পরীক্ষা নেওয়া হবে না। বর্তমান বৈশ্বিক এবং অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিই প্রধান্য দেওয়া উচিত।

করোনা সংক্রমণ কবে নাগাদ নিয়ন্ত্রণে আসবে তা সময় বলে দেবে। কিন্তু আমরা দেশের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় রাখতে পারি না। গত বছর পরিস্থিতি বিবেচনায় অটোপাস দেওয়া হয়েছে। তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা খোদ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা গেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকায় শিক্ষার্থীরা মানসিক সমস্যায় ভুগছে। তাদের মধ্যে বিরাজ করছে এক ধরনের অনিশ্চয়তা।

ইতঃপূর্বে বিভিন্ন আলোচনা ও সমালোচনা সত্ত্বেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়নি। ৪ কোটি শিক্ষার্থী ও কয়েক লাখ শিক্ষককে করোনার ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়নি। আমরা মনে করি, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা নেওয়া হোক। তাতে শিক্ষার্থীদের মানসিক কষ্ট ও অটোপাসের তকমাটি দূর হবে। নইলে শিক্ষার্থীরা ক্রমাগত পড়াশোনায় বিমুখসহ নানা সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলবে। আমরা প্রত্যাশা করি, অটোপাস নয়, পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা বিবেচনা করবেন।

/এসএ/


আরও সংবাদ   বিষয়:  সম্পাদকীয়  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]