ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১ ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

নারী নিপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে ইসলাম
আমিন ইকবাল
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ জুন, ২০২১, ১০:৫৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 109

পত্রিকার পাতায় চোখ রাখলেই চারদিকে ধর্ষণের চিত্র ফুটে ওঠে। দিন দিন যেন নারী নির্যাতন, যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের মতো ঘটনা বেড়েই চলছে। কোনোভাবেই লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না ধর্ষকদের। মানুষরূপী পশুতুল্যরা মানছে না সামাজিকতা, রাষ্ট্রীয় আইন বা ধর্মীয় বিধান। এর অন্যতম কারণ- মানুষের নৈতিক অধঃপতন, ধর্ষণ আইনে যথাযথ শাস্তি কার্যকর না হওয়া এবং ধর্মীয় বিধানের প্রতি তোয়াক্কা না করা।

ইসলামের দৃষ্টিতে নারী নিপীড়ন, যৌন হয়রানি এবং ব্যভিচার বা ধর্ষণ জঘন্যতম অপরাধ। ধর্ষণ করা কবিরা গুনাহের শামিল। পবিত্র কোরআনে সুরা বানি ইসরাইলের ৩২০নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছে যেও না। এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ।’ যেখানে কাছে যাওয়াটাও অপরাধ সেখানে স্বয়ং ব্যভিচার করা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কোরআন ও হাদিসে এ গুনাহের জন্য কঠিন হুঁশিয়ারি ও শাস্তির কথা বলা হয়েছে এবং এর বিচার ব্যবস্থাও কঠোর করতে বলা হয়েছে।

একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এক গ্রাম্য সাহাবি এসে বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমার ব্যভিচার করতে মনে চায়, আপনি আমাকে এ কাজ করতে অনুমতি দিন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, দেখো তুমি কি এটা পছন্দ করো, কোনো পুরুষ এসে তোমার বোন বা মেয়ের সঙ্গে ব্যভিচার করুক। সাহাবি উত্তরে বললেন, না এটা আমি কখনই পছন্দ করি না। তখন তিনি বললেন, তা হলে তুমি যার সঙ্গে ব্যভিচার করবে সেও তো কারও না কারও বোন বা মেয়ে। এ কথা শুনে সাহাবি নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়ে এ কাজ ছেড়ে দেওয়ার ওয়াদা করল।

এখানে নবীজি (সা.) তাকে নৈতিক শিক্ষা দিলেন। বুঝিয়ে দিলেন ব্যভিচার-ধর্ষণ এসব জঘন্য কাজ। এ থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে তিনি শিরকের পর সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করতেন ধর্ষণ আর নির্যাতনকে। এ অপরাধে কেউ অপরাধী সাব্যস্ত হলে তাকে কঠিন শাস্তি দিতেন। ধর্ষণ থেকে বাঁচতে যদি ধর্ষণকারীকে হত্যা করার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়, তাতেও সমর্থন দিয়েছে ইসলাম। আর নিজের ইজ্জত-আব্রু রক্ষা করতে গিয়ে যদি সে নিজে হত্যার শিকার হয়, তা হলে পরকালে মর্যাদা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে হাদিসে। হজরত সাঈদ ইবনে জায়েদ (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি, ‘সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে যে ব্যক্তি নিহত হয়েছে, সে শহীদ। জীবন রক্ষা করতে গিয়ে যে নিহত হয়েছে, সে শহীদ। দ্বীন রক্ষা করতে গিয়ে যে নিহত হয়েছে, সেও শহীদ। আর সম্ভ্রম রক্ষা করতে গিয়ে যে নিহত হয়েছে, সেও শহীদ।’

নারী-পুরুষ সম্মতিতে যদি জিনা বা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ঘোষণা করেছে। ব্যভিচারকারী যদি (নারী বা পুরুষ) অবিবাহিত হয়, তা হলে তাকে প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাত করা হবে। আর যদি বিবাহিত হয় তা হলে প্রকাশ্যে পাথর মেরে মৃত্যু নিশ্চিত করা হবে। একইভাবে যদি কেউ জোরপূর্বক কাউকে ধর্ষণ করে, তা হলে ধর্ষণকারীরও এই শাস্তি হবে। (অবিবাহিত হলে প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাত, বিবাহিত হলে পাথর মেরে হত্যা।) তবে যিনি ধর্ষণের শিকার হন, তার কোনো শাস্তি হবে না। কারণ, তিনি তো নির্দোষ।

দুঃখের কথা হলো সমাজে আজ নিপীড়ন বা ধর্ষণের শিকার হওয়া ব্যক্তিকে বাঁকা চোখে দেখে। তার প্রতি অবহেলা ও নানা কটূক্তি করা হয়। যা কোনোভাবে কাম্য নয়। কেননা ধর্ষণের শিকার হওয়া ব্যক্তি বল প্রয়োগকারী বা ক্ষমতাধর ব্যক্তির অত্যাচারের শিকার।

ইসলামের আলোকে এ ব্যক্তি মাজলুম। তাই যে ব্যক্তি ধর্ষণের শিকার হয়েছে, তাকে ধর্ষণ হওয়ার কারণে যেমন অপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করা যাবে না, তেমনি তাকে বাঁকা চোখে দেখা কিংবা কটূক্তিও করা যাবে না এবং তার কোনো পাপও হবে না। এ প্রসঙ্গে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ভুলবশত করা অপরাধ, ভুলে যাওয়া কাজ এবং বল প্রয়োগকৃত বিষয় ক্ষমা করে দিয়েছেন।’ (ইবনে মাজা)

লেখক : আলেম ও প্রাবন্ধিক

/এসএ/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]