ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১ ৯ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ২৪ জুলাই ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

বাংলাদেশ-ভারত পার্সেল ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনা
রফিকুল ইসলাম সবুজ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ জুন, ২০২১, ৪:০১ পিএম আপডেট: ১৫.০৬.২০২১ ৫:৩২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 78

যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনায় সফলতার পর এবার বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পার্সেল ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ছাড়া দুদেশের মধ্যে চলাচলরত ‘মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেস’ ট্রেনের লাগেজ অংশে পার্সেল পরিবহন করা যায় কি না, সে বিষয়েও সম্প্রতি আন্তঃদেশীয় সরকারি রেলওয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তারা জানান, বাংলাদেশ থেকে ভারত হয়ে নেপালে ট্রানজিট সুবিধার আওতায় সারবাহী ট্রেন চালুর কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রা ও বিকাশ ভারতীয় উপমহাদেশের রেলওয়ে ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের যে নেটওয়ার্ক রয়েছে তা মূলত অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারত রেলওয়ের খণ্ডিত অংশ। সে সময়ের নেটওয়ার্ক অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৮টি ইন্টারচেঞ্জ রুট ছিল। এগুলো হলো বেনাপোল-পেট্রাপোল, দর্শনা-গেদে, রহনপুর-সিঙ্গাবাদ, বিরল-রাধিকাপুর, চিলাহাটি-হলদিবাড়ী, বুড়িমারী-চেংড়াবান্ধা, কুলাউড়া-মহিষাসন ও মোগলহাট-গিতলদহ। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় এগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে বর্তমানে চারটি ইন্টারচেঞ্জ রুট দিয়ে (বেনাপোল-পেট্রাপোল, দর্শনা-গেদে, রহনপুর-সিঙ্গাবাদ, বিরল-রাধিকাপুর) আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল করছে। যার মধ্যে দর্শনা (বাংলাদেশ)-গেদে (ভারত) এবং বেনাপোল (বাংলাদেশ)-পেট্রাপোল (ভারত) রুটের মাধ্যমে যাত্রীবাহী ও মালবাহী উভয় ট্রেন চলাচল করছে।

কর্মকর্তারা জানান, করোনা মহামারি ও লকডাউনের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে দুদেশের মধ্যে ট্রেনে পণ্য আনা-নেওয়া বেড়েছে। ট্রেনে পণ্য সরবরাহের সাফল্য দেখে বাংলাদেশ রেলওয়ে ভারতের সঙ্গে পার্সেল ট্রেন সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়।

কর্মকতারা জানান, দুদেশের মধ্যে বন্ধ হয়ে থাকা রেলপথগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে দুদেশের সরকারের। এ লক্ষ্যে বুড়িমারী-বাংলাবান্ধা, সিলেটের শাহবাজপুরের কুলাউড়া-মহিষাসন, ফেনী থেকে বিলুনিয়া রেলপথ ভারতের ঋণ সহায়তায় এবং আগরতলা-আখাউড়া রেলপথ ভারতের অর্থায়নে নির্মাণকাজ চলছে। আগরতলা থেকে আখাউড়ার মধ্যে পাঁচ কিলোমিটার রেলপথ সংযোগ তৈরির কাজ শেষ হলে আগরতলা থেকে বাংলাদেশ হয়ে কলকাতায় সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু করা যেতে পারে। রেলওয়ের কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশন পুনর্বাসন প্রকল্পটির কাজ ইতোমধ্যে ২০ শতাংশেরও বেশি শেষ হয়েছে।
কুলাউড়া-শাহবাজপুর-মহিষাসন রুটটি চালু হলে আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও মিজোরামের সঙ্গে সুষ্ঠু রেল সংযোগ স্থাপিত হবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কন্টেইনার ট্রেন পরিচালনার সুবিধার্থে ঈশ্বরদী জংশন ইয়ার্ডের সঙ্গে সংযুক্ত পরিত্যক্ত ইয়ার্ডের প্রায় ৩০ একর অব্যবহৃত রেলভূমিতে ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড-আইসিডি নির্মাণের জন্য ‘ঈশ্বরদীতে একটি আইসিডি নির্মাণ’ প্রকল্পের কাজ চলছে। বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে কোনো স্টেশনে অস্থায়ীভাবে একটি আইসিডি নির্মাণ করে ভারতের সঙ্গে কন্টেইনার ট্রেন পরিচালনার জন্য ‘সিরাজগঞ্জ বাজার ইয়ার্ড’ আইসিডি নির্মাণের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, ভারত-বাংলাদেশ আন্তঃদেশীয় যোগাযোগের ক্ষেত্রে ৪টি রেল সংযোগের মাধ্যমে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে। তা ছাড়া আখাউড়া-আগরতলা, কুলাউড়া-শাহবাজপুর, চিলাহাটি-হলদিবাড়ী সেকশনে সিঙ্গেল ট্র্যাক স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রুটে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করবে। তা ছাড়া বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে আলাদা কোনো পার্সেল ট্রেন পরিচালনা করা যায় কি না, সে বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।

/এসএ/


আরও সংবাদ   বিষয়:  পার্সেল ট্রেন   ভারত  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]